ঢাকা-৬: উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি বনাম দীর্ঘদিনের ভোগান্তি, কী ভাবছেন ভোটাররা?
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আর মাত্র চার দিন বাকি। সারাদেশের মতো ভোটের উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে পুরান ঢাকার অলিগলিতে। মিছিল, স্লোগান আর ব্যানারে সরগরম ঢাকা–৬ আসনের সূত্রাপুর, ওয়ারী, গেন্ডারিয়া ও কোতয়ালীর অংশজুড়ে। চলছে শেষ মুহূর্তের প্রচারণা। দীর্ঘদিনের নাগরিক সংকট নিরসনের প্রতিশ্রুতি নিয়ে ভোটারদের কাছে যাচ্ছেন প্রার্থীরা, আর পরিবর্তনের আশায় আছেন এলাকার বাসিন্দারা।
পুরান ঢাকার এই আসনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ইশরাক হোসেন এবং জামায়াতে ইসলামী মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মো. আব্দুল মান্নানের মধ্যে হবে বলে মনে করছেন স্থানীয় ভোটাররা।
নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের অন্তর্ভুক্ত এ আসনে মোট ভোটার ২ লাখ ৮৯ হাজার ৪৩৮ জন। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মোট সাতজন প্রার্থী। তাঁরা হলেন— বিএনপির ইশরাক হোসেন (ধানের শীষ), জামায়াতে ইসলামীর মো. আব্দুল মান্নান (দাঁড়িপাল্লা), গণফ্রন্টের আহম্মেদ আলী শেখ (মাছ), গণঅধিকার পরিষদের মো. ফখরুল ইসলাম (ট্রাক), বাংলাদেশ মুসলিম লীগের মো. আকতার হোসেন (হারিকেন), বাংলাদেশ কংগ্রেসের মো. ইউনুস আলী আকন্দ (ডাব) এবং জাতীয় পার্টির আমির উদ্দিন আহমেদ ডালু (লাঙ্গল)।
ভোটারদের মতে, এই এলাকার নাগরিক জীবন দীর্ঘদিন ধরেই নানা সংকটে জর্জরিত। ঝুঁকিপূর্ণ ভবন, গ্যাস ও পানির সংকট, সরু গলির যানজট, নিরাপত্তাহীনতা, মাদক ও চাঁদাবাজি—এসব সমস্যাই তাদের প্রধান উদ্বেগ। কাঠেরপুল এলাকার বাসিন্দা সাদিক সোবহান বলেন, "গ্যাসের সমস্যায় আমাদের জীবন অতিষ্ঠ। নির্বাচনের আগে সবাই সংকট দূর করার কথা বলে, পরে সব একই থাকে। এবার যদি পরিবর্তন আসে তাহলে আমরা উপকৃত হব।"
গণসংযোগে গিয়ে প্রার্থীরাও এসব সমস্যাকেই প্রাধান্য দিয়ে নিজেদের ইশতেহার তুলে ধরছেন। বিএনপি প্রার্থী ইশরাক হোসেন বলেন, পুরান ঢাকায় দীর্ঘদিনের অবকাঠামোগত সমস্যা সমাধানই তার অগ্রাধিকার হবে। তিনি ৭০ বছর পুরোনো পাইপলাইন সংস্কারের মাধ্যমে গ্যাস সংকট কমানো, যানজট নিরসন, নারী নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।
অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মো. আব্দুল মান্নান নাগরিক সংকট নিরসনে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। তিনি পুরান ঢাকার ঐতিহ্য সংরক্ষণ, বুড়িগঙ্গাকেন্দ্রিক উন্নয়ন এবং দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
গেন্ডারিয়া এলাকার বাসিন্দা নাজমুন আক্তার বলেন, "বাসার সামনে দিয়ে হাঁটার অবস্থা নেই, সারাদিন রিকশার জ্যাম। সামান্য পথ পেরোতেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাগে। এমনকি আত্মীয়রাও আসতে চায় না এই জ্যামের কারণে। আশা করি নির্বাচিত প্রতিনিধি মানুষের এই ভোগান্তি কমানোর চেষ্টা করবেন।"
নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, পুরান ঢাকার ভোটারদের প্রত্যাশাও ততই বাড়ছে। এবার আর কেবল মৌখিক প্রতিশ্রুতি নয়, বরং ভোটের মাধ্যমে বাস্তব পরিবর্তন দেখতে চান এই এলাকার বাসিন্দারা।
