রমজানের আগে ঢাকার বাজারে বেড়েছে নিত্যপণ্যের দাম
পবিত্র রমজান মাস সামনে রেখে ঢাকার বাজারে নিত্যপণ্যের দাম বাড়া নিয়ে ক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।
রাজধানীর পুরান ঢাকার প্রধান পাইকারি কেন্দ্র চকবাজার ও মৌলভীবাজার ঘুরে দেখা গেছে ডাল, ভোজ্যতেল, খেজুর, মসলা ও অন্যান্য রমজান-নির্ভর পণ্যের চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দামও বাড়ছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, খেসারি ডালের কেজি প্রায় ৮৫–৯০ টাকা থেকে বেড়ে ১০০ টাকায় হয়েছে, পেঁয়াজ ৫০ টাকা থেকে ৬০ টাকায় পৌঁছেছে, আর দেশি রসুন ৯০–১০০ টাকা থেকে বেড়ে প্রায় ১২০ টাকা হয়েছে। আমদানি করা রসুন ১৬০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।
আদা বিক্রি হচ্ছে ১৩০–১৬০ টাকার মধ্যে, চিনির দাম ১০০ টাকা, ছোলার বেসন ৮০ টাকা এবং শুকনা মরিচ প্রায় ৩৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
অন্যদিকে, চালের বাজার তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকলেও বছরের ব্যবধানে দাম বেড়েছে। মোটা চাল বর্তমানে কেজিতে প্রায় ৫৪–৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা গত এক বছরে প্রায় ৮.৫ শতাংশ বৃদ্ধি নির্দেশ করে। একইভাবে ভোজ্যতেলের দাম গত এক মাসে কিছুটা এবং বছরে প্রায় ১২ শতাংশের বেশি বেড়েছে।
যদিও আন্তর্জাতিক বাজারে কিছু ক্ষেত্রে দাম কমলেও তার সুবিধা পুরোপুরি ভোক্তা পর্যায়ে আসেনি। ফলে পাইকারি বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও খুচরা বাজারে চাপ থেকে যাচ্ছে।
রমজান সামনে রেখে ঢাকার পাইকারি বাজারে ভোজ্যতেলের দামে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। মৌলভীবাজারসহ বড় পাইকারি আড়তগুলোতে চাহিদা থাকলেও সরবরাহ কমার কারণে দাম কিছুটা বেড়েছে বলে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন।
বর্তমানে পাইকারি পর্যায়ে সয়াবিন তেল লিটারপ্রতি প্রায় ১৮৫–১৯৫ টাকা দরে লেনদেন হচ্ছে, আর পাম তেল বিক্রি হচ্ছে প্রায় ১৫৫–১৬৫ টাকা লিটার দরে।
মায়ের দোয়া স্টোরের ভোজ্যতেল বিক্রেতা শাজাহান মিয়া দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে (টিবিএস)- বলেন, 'তেলের মূল্য যা ঠিক করা আছে তা থেকে বাড়বে না আশা করি। সাপ্লাই কম আছে বলে বেচাবিক্রিতে ঝামেলা হচ্ছে।'
তিনি জানান, এছাড়া ধরন অনুযায়ী খেজুর প্রতি কেজিতে ১৫০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। বহুল বিক্রিত জাহিদি জাতের পাঁচ কেজির প্যাকেট পাইকারি বাজারে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে ইরানি মরিয়ম জাতের পাঁচ কেজির প্যাকেট বিক্রি হচ্ছে ৫ হাজার থেকে ৬ হাজার ২০০ টাকার মধ্যে।
খুচরা খেজুর বিক্রেতা লিটন আলী বলেন, 'বিভিন্ন দামের খেজুর বিক্রি করি। রমজান উপলক্ষে কিনেছিই অনেক বেশি দামে। লাভ কম রেখেই বিক্রি করি।'
তবে বাজারের চিত্র একপাক্ষিক নয়। সরবরাহ বৃদ্ধির কারণে কিছু পণ্যে স্বস্তির ইঙ্গিতও আছে।
খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, তিন মাস আগের তুলনায় মসুর ডাল ১০০–১১০ টাকা থেকে কমে ৮০–৮৫ টাকায় নেমেছে, ছোলা ১১০ টাকা থেকে ৮০–৯০ টাকায় এসেছে এবং চিনি ১০৫ টাকা থেকে ৯৫ টাকায় নামার প্রবণতা দেখা গেছে।
আমদানি প্রায় ৪০ শতাংশ বাড়ায় রমজানজুড়ে কিছু পণ্যের দাম স্থিতিশীল বা কমার সম্ভাবনার কথাও সরকারিভাবে বলা হয়েছে।
চকবাজারের মৌলভীবাজার এলাকার পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতা ইয়াসিন শরীফ বলেন, 'রমজানে এবার দাম বাড়বে না। বাজার সাধারণ মানুষের নাগালেই থাকবে।'
আগের বছরের মতো আছে মশলার দাম। বর্তমানে প্রতি কেজি ভালো মানের দারুচিনি ৫০০-৭০০ টাকা, লবঙ্গ ১,৪০০-১,৮০০ টাকা এবং এলাচ ৪,৫০০-৫,৫০০ টাকা বা তার বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে।
মৌল্ভীবাজারের নিয়মিত ক্রেতা সাদিক হাসান বলেন, 'কিছু জিনিসের দাম তো আগে থেকেই বেশি। সরকারের উচিত চাল তেলের দাম কমানো। রোজার আর তিনদিন বাকি। সেই হিসাবে আগের তুলনায় খুব একটা বাড়েনি এবার।'
