ফুটপাত থেকে ব্র্যান্ডের আউটলেট—জমতে শুরু করেছে ঈদের কেনাকাটা
মুসলিম সম্প্রদায় যখন পবিত্র রমজান পালন করছে, দেশ তখন ঈদুল ফিতরের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত। এর ফলে নতুন পোশাক, জুতা, প্রসাধনী, সামগ্রী—সবকিছুর চাহিদা বেড়ে যায় কয়েকগুণ। তবে চলতি বছর ঈদবাজারের পরিবেশে যুক্ত হয়েছে নতুন এক রাজনৈতিক বাস্তবতা—সম্প্রতি দায়িত্ব নেওয়া নির্বাচিত সরকার। ফলে ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ের মধ্যেই রয়েছে বাড়তি প্রত্যাশা ও আলোচনার নতুন খোরাক।
গত বছর ঈদের সময় দেশে নির্বাচিত সরকার না থাকায় বাজার পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা ছিল। অনেক ব্যবসায়ী তখন বিনিয়োগে সতর্ক ছিলেন, আবার ক্রেতাদের মধ্যেও ছিল দামের অস্থিরতা নিয়ে উদ্বেগ। কিন্তু এবারের চিত্র কিছুটা ভিন্ন। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে—এমন আশা করছেন ব্যবসায়ীরা।
ধানমন্ডির হকার্স মার্কেটের দোকানদাররা 'দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড'-কে জানিয়েছেন, ঈদের কেনাকাটা ধীরে ধীরে জমতে শুরু করেছে। ভিড় হলেও এখন ক্রেতাদের মধ্যে কেনার চেয়ে দেখার আগ্রহ বেশি। গরমের কারণে দিনের বেলা মলগুলো শান্ত থাকলেও ইফতারের পর ভিড় বাড়ছে; বিশেষ করে গরম থেকে বাঁচতে ক্রেতারা হালকা ও আরামদায়ক পোশাকের দিকে বেশি ঝুঁকছেন।
জনপ্রিয় কেনাকাটার জায়গার মধ্যে রয়েছে নিউ মার্কেট, চন্দ্রিমা, গাউছিয়া, নূরজাহান এবং প্রিয়াঙ্গন। এর পাশাপাশি আড়ং, ফ্রিল্যান্ড, অঞ্জন'স, সেইলর, জেন্টল পার্ক, ইনফিনিটি এবং ইজি-র মতো ব্র্যান্ডের আউটলেটগুলোও পছন্দের তালিকায় রয়েছে। নিউ মার্কেট ঘুরে দেখা গেছে, শিশু থেকে বৃদ্ধ—সব বয়সের ক্রেতাদের সমাগম। শেষ মুহূর্তের ভিড় এড়াতে অনেকেই আগেভাগেই কেনাকাটা করতে এসেছেন।
যাত্রাবাড়ী থেকে আসা মহিন উদ্দিন বলেন, 'আমি প্রতি বছর এখান থেকেই আমার পরিবার ও আত্মীয়স্বজনের জন্য কেনাকাটা করি। ভিড় এড়াতে এবার একটু আগেই চলে এলাম।'
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফাহিমা আক্তার জানান, 'আগামী সপ্তাহে গ্রামে যাওয়ার আগেই জামাকাপড় কিনে নিচ্ছি। এখানে অনেক দোকান থাকায় পরিবারের জন্য পছন্দমতো জিনিস বেছে নেওয়া যায়।'
গাউছিয়া মার্কেটের ব্যবসায়ী আসিফুল আলম বলেন, 'আমরা সবসময় ঈদের আগে ভালো বিক্রির আশা করি। ক্রেতারা আসতে শুরু করেছেন, সামনের দিনগুলোতে ভিড় আরও বাড়বে। এ বছর ভালো ব্যবসার ব্যাপারে আমি আশাবাদী।' চন্দ্রিমা সুপার মার্কেটের হৃদয় আহমেদ বলেন, 'বিক্রি কেবল শুরু হয়েছে, ঈদ যত কাছে আসবে ততই তা বাড়বে।'
সরেজমিন পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, হালকা এবং আরামদায়ক গ্রীষ্মকালীন পোশাকের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। থ্রি-পিস ৭০০ থেকে পাঁচ হাজার টাকা, শাড়ি এক হাজার ২০০ থেকে আট হাজার টাকা, টি-শার্ট ১৫০ থেকে এক হাজার টাকা, জিন্স ৫০০ থেকে দুই হাজার টাকা এবং শার্ট ৫০০ থেকে এক হাজার টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। তবে মধ্যম মানের পোশাকগুলোই সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়।
মার্কেটের বাইরে ফুটপাতেও কেনাবেচার হিড়িক পড়েছে৷ ফুটপাতের বিক্রেতা কাইয়ুম টিবিএস-কে বলেন, স্টল ভাড়া কম হওয়ার কারণে তারা সাশ্রয়ী মূল্যে পণ্য বিক্রি করতে পারেন, যা বাজেট-সচেতন ক্রেতাদের আকৃষ্ট করছে।
ক্রেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রধান বাণিজ্যিক এলাকাগুলোতে পুলিশ কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হয়েছে এবং মার্কেট এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
ডিউটিরত কনস্টেবল রাাহিদ বলেন, যাতে ক্রেতারা নির্বিঘ্নে কেনাকাটা করতে পারে সেজন্য আমাদের এই কার্যক্রম। তারপরও কেনাকাটা করতে আসা মানুষজনের নিরাপত্তার স্বার্থে আমরা আরও সতর্ক। এলাকাজুড়ে কয়েকটি স্পটে অবজারভেশন ফোর্স কাজ করছে৷
