ইন্টারসেপ্টর মিসাইল ফুরিয়ে আসছে, বেছে বেছে লক্ষ্যবস্তু ঠিক করতে হচ্ছে উপসাগরীয় দেশগুলোকে
ট্রাম্প প্রশাসনকে জানানো হয়েছে যে, তাদের উপসাগরীয় মিত্রদের কাছে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন বিধ্বংসী ইন্টারসেপ্টরের মজুতে টান পড়েছে। পরিস্থিতি এমনই যে, ভান্ডারে মজুত ইন্টারসেপ্টর (প্রতিঘাতী ক্ষেপণাস্ত্র) ফুরিয়ে আসায় এখন বেছে বেছে লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ করতে হচ্ছে আমেরিকার মিত্র দেশগুলোকে।
বুধবার সংবাদমাধ্যম সিবিএস-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই ইন্টারসেপ্টর সংকটের কথা তুলে ধরা হয়েছে। এর আগে ২ মার্চ মিডল ইস্ট আই এক বিশেষ প্রতিবেদনে বলেছিল, যুদ্ধের প্রথম সপ্তাহ থেকেই ইন্টারসেপ্টরের ঘাটতি মেটানোর জন্য আমেরিকাকে অনুরোধ করছিল উপসাগরীয় দেশগুলো। কিন্তু ওয়াশিংটন সেই আর্জিতে 'কর্ণপাত করেনি'।
অনুরোধগুলো সম্পর্কে অবগত একজন সাবেক মার্কিন কর্মকর্তা মিডল ইস্ট আইকে বলেছিলেন, 'গত কয়েক মাসে যে পরিমাণ অস্ত্র তৈরি হয়েছিল, কয়েক দিনের যুদ্ধেই কয়েক বছরের সেই উৎপাদন শেষ হয়ে গেছে।'
তেল-সমৃদ্ধ উপসাগরীয় দেশগুলোর পরিস্থিতি বর্তমানে যথেষ্ট উদ্বেগজনক। রাষ্ট্রগুলোকে লক্ষ্য করে হাজার হাজার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছুড়ছে ইরান।
যুদ্ধ শুরুর পর থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাত একাই ২৪১টি ব্যালিস্টিক মিসাইল ও ১ হাজার ৩৮৫টি ড্রোন ধ্বংস করেছে। বুধবার বাহরাইন জানিয়েছে, তারা ইরানের অন্তত ১০৬টি মিসাইল ও ১৭৭টি ড্রোন প্রতিহত করেছে।
সাধারণ যুদ্ধ-কৌশল অনুযায়ী, ধেয়ে আসা একটি মিসাইল বা ড্রোনকে প্রতিহত করতে অন্তত দুটি ইন্টারসেপ্টর ছুড়তে হয়।
উপসাগরীয় দেশগুলো এখন থাড ও প্যাট্রিয়টের মতো অত্যন্ত ব্যয়বহুল ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করছে। কিন্তু চাহিদার তুলনায় এসবের জোগান সামান্য। আমেরিকা বছরে মাত্র ৬০০টি প্যাট্রিয়ট প্যাক-৩ ইন্টারসেপ্টর তৈরি করতে পারে।
সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ধ্বংসাবশেষের কিছু ছবি দেখে সমর-বিশেষজ্ঞদের ধারণা, আধুনিক সরঞ্জামের অভাবে এখন পুরনো প্যাক-২ মডেলের ইন্টারসেপ্টর ব্যবহার করতে হচ্ছে এই দেশগুলোকে। বর্তমান ও সাবেক কয়েকজন মার্কিন কর্মকর্তাও সেই খবরের সত্যতা স্বীকার করেছেন।
অন্যদিকে গত সপ্তাহে তুরস্কের আকাশসীমা ব্যবহার করে মাল্টায় অবস্থিত ন্যাটোর একটি গুরুত্বপূর্ণ রাডার ঘাঁটি লক্ষ্য করে মিসাইল ছুড়েছিল ইরান।
২০১৫ সাল থেকে দক্ষিণ তুরস্কে স্পেনের প্যাট্রিয়ট মিসাইল ব্যবস্থা মোতায়েন থাকলেও ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইল রোখার জন্য প্যাক-২ মডেলটি যথেষ্ট ছিল না। ফলে জার্মানির র্যামস্টাইন ঘাঁটি থেকে মাল্টায় নতুন প্যাক-৩ মডেল মোতায়েন করতে হয়েছে।
চীনকে চাপে রাখতে আমেরিকা তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার একটি বড় অংশ পূর্ব এশিয়ায় মোতায়েন করে রেখেছিল। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের তাগিদে এখন সেখান থেকেও সরঞ্জাম সরাতে বাধ্য হচ্ছে ওয়াশিংটন।
মঙ্গলবার দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ুং নিশ্চিত করেছেন, সিউলের আপত্তি সত্ত্বেও তার দেশ থেকে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করেছে আমেরিকা।
