ইরান যুদ্ধ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল মতভেদ: তেলের দাম নিয়ে চিন্তিত ওয়াশিংটন
ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের মধ্যে বড় ধরনের মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। ওয়াশিংটন যেখানে এই যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে উদ্বিগ্ন, সেখানে তেল আবিব সামরিক সাফল্যকেই বড় করে দেখছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম পলিটিকো শুক্রবার (১৪ মার্চ) নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে
ওই সূত্রটি পলিটিকোকে আরও জানিয়েছে, ইরানের বর্তমান সরকার পরিবর্তন অদূর ভবিষ্যতে ঘটার সম্ভাবনা কম। কারণ এর জন্য হয় স্থলপথে সামরিক হস্তক্ষেপ অথবা দেশজুড়ে বড় ধরনের গণ-আন্দোলন প্রয়োজন, যার কোনোটিই এই মুহূর্তে সম্ভব বলে মনে হচ্ছে না।
সূত্রটি জানিয়েছে, যুদ্ধ নিয়ে ওয়াশিংটন এবং তেল আবিবের মূল্যায়নের মধ্যেও একটি বড় ধরনের পার্থক্য রয়েছে। মার্কিন প্রশাসন মূলত এই সংঘাতের ফলে তেলের দাম এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে কী প্রভাব পড়বে, তা নিয়েই বেশি চিন্তিত।
অন্যদিকে, ইসরায়েল দাবি করছে যে, তাদের সামরিক অভিযানে তারা উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে।
এর আগেও পলিটিকো তাদের এক প্রতিবেদনে জানিয়েছিল, ইরানের সঙ্গে সংঘাতে জড়ানোর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন এর পরিণতি নিয়ে কোনো পুঙ্খানুপুঙ্খ মূল্যায়ন করেনি। ওই সংঘাত ইতিমধ্যেই তেলের দামের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন এই সংঘাতের প্রভাবকে অবমূল্যায়ন করেছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে রেকর্ড পরিমাণ তেল উৎপাদন সত্ত্বেও দুই সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে পেট্রোলের দাম প্রতি গ্যালনে ৬০ সেন্ট বেড়ে গেছে।
এটি ট্রাম্পের 'সমৃদ্ধির স্বর্ণযুগ' আনার প্রতিশ্রুতির সঙ্গে ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতির সরাসরি সংঘাত তৈরি করেছে।
পলিটিকোর মতে, ট্রাম্প বাজারের ভয় কমানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ বা জরুরি মজুদ থেকে ১৭ কোটি ২০ লাখ ব্যারেল তেল বাজারে ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
