ঠিকানা খুঁজে না পাওয়ায় সাড়ে ৪ হাজার পোস্টাল ব্যালট ফেরত এসেছে: ইসি সানাউল্লাহ
প্রবাসী ভোটারদের কাছে পাঠানো প্রায় ৪ হাজার ৫০০টি পোস্টাল ব্যালট ঠিকানা খুঁজে না পাওয়ায় ফেরত এসেছে।
নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, 'ঠিকানা খুঁজে না পাওয়ার সাড়ে ৪ হাজার ব্যালট প্রবাস থেকে ফেরত এসেছে। এগুলোর বিষয়ে আর কিছু করার নেই।'
গতকাল বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, 'ফেরত আসা ব্যালটগুলোর বেশিরভাগই মালয়েশিয়া থেকে এসেছে। এরপর ফেরত আসছে ইতালি থেকে।'
আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের পোস্টাল ব্যালট কার্যক্রমের হালনাগাদ তথ্য তুলে ধরে সানাউল্লাহ জানান, এখন পর্যন্ত মোট ৭ লাখ ৬৭ হাজার ৮৪টি ব্যালট পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে ৭ লাখ ৭ হাজার ৫০০টি ব্যালট সংশ্লিষ্ট দেশে পৌঁছেছে এবং ৫৯ হাজার ৫৮৪টি ব্যালট বর্তমানে পথে রয়েছে। তিনি আরও জানান, ১ লাখ ৪০ হাজার ৮৭৩টি ব্যালট সরাসরি প্রবাসী ভোটারদের হাতে পৌঁছেছে।
নির্বাচন কমিশনার বলেন, 'ভোটাররা ব্যালট পাওয়ার পর কিউআর কোড স্ক্যান করেছেন। আমরা কেবল সেই সংখ্যাটিই হিসাব করছি।'
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, প্রথমবারের মতো চালু হওয়া 'পোস্টাল ভোট বিডি' অ্যাপের মাধ্যমে গত ১৯ নভেম্বর প্রবাসী ভোটারদের নিবন্ধন শুরু হয়। পরে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর দেশের ভেতরের ভোটারদের জন্যও নিবন্ধন উন্মুক্ত করা হয়। অ্যাপে নিবন্ধিত ভোটারদের মধ্যে প্রবাসীদের আবেদন ছিল ৭ লাখ ৭২ হাজার ৫৪২টি এবং দেশের ভেতর থেকে আবেদন এসেছে ৭ লাখ ৬১ হাজার ১৪০টি।
একই ঠিকানা একাধিক ভোটারের ব্যবহারের বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন সানাউল্লাহ। তিনি জানান, ১ লাখ ৭১ হাজার ৬৮০ জন ভোটার এমন ঠিকানা ব্যবহার করেছেন, যেখানে দুজন ব্যক্তি একই ঠিকানায় অবস্থান করেন। ৯৫ হাজার ৮১৬ জন ভোটার পাঁচজনের সঙ্গে এবং প্রায় ৫৯ হাজার ২৭৬ জন ভোটার ১০ জনের সঙ্গে একই ঠিকানা ভাগাভাগি করেছেন। এ ছাড়া ৩৮ হাজার ১০৯ জন ভোটার ২০ জনের সঙ্গে এবং ২১ হাজার ৯১৫ জন ভোটার ২০ থেকে ৫০ জনের সঙ্গে একই ঠিকানা ব্যবহার করছেন। এমনকি ১৪ হাজার ৮৯১ জন ভোটার এমন ঠিকানায় নিবন্ধিত, যেখানে ৫০ থেকে ১০০ জন বা তারও বেশি মানুষ বসবাস করেন।
পরিস্থিতির ব্যাখ্যায় নির্বাচন কমিশনার বলেন, অনেক প্রবাসী শ্রমিক গাদাগাদি করে থাকেন এবং তাদের নির্দিষ্ট ব্যক্তিগত ঠিকানা থাকে না। তিনি বলেন, 'অনেক ক্ষেত্রে তারা পোস্ট বক্স, কাছের দোকান বা এমন কোনো সুবিধাজনক স্থান ব্যবহার করেছেন, যেখানে চিঠি পৌঁছানো সম্ভব।'
পোস্টাল ভোটে কোনো ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে সানাউল্লাহ বলেন, এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। তিনি বলেন, 'আমরা সবাইকে স্পষ্টভাবে নির্দেশ দিয়েছি—কোনো অবস্থাতেই নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুণ্ণ করা যাবে না।'
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি ও শ্রমবাজার নির্বাচন প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। সতর্ক করে তিনি বলেন, 'কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে শ্রমবাজারে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।'
সানাউল্লাহ বলেন, 'কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। এনআইডি ব্লক করা থেকে শুরু করে ফৌজদারি মামলা দায়ের—সব ধরনের কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে অপরাধীদের বাংলাদেশে ফেরত আনার ব্যবস্থাও করা হবে। পোস্টাল ব্যালট নিয়ে যা খুশি তাই করা যাবে এবং নির্বাচন কমিশন ঘুমিয়ে আছে—এমনটা যেন কেউ মনে না করে।'
