বাহরাইনে ব্যালটের ভিডিও ছিল আনন্দের প্রকাশ, কোনো খাম খোলা হয়নি: ইসি সচিব
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে বাহরাইনে অবস্থানরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের পোস্টাল ব্যালট ভাগাভাগি করতে দেখা যাওয়া নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে এবং এ ঘটনায় ইতোমধ্যেই নির্বাচন কমিশন (ইসি) তাৎক্ষণিক তদন্ত শুরু করেছে বলে জানা গেছে।
ইসি সচিব আখতার আহমেদ বলেন, ভিডিওতে কয়েকজন ভোটারকে নিজেদের মধ্যে ব্যালট ভাগাভাগি করতে দেখা গেলেও এটি মূলত ব্যালট হাতে পাওয়ার আনন্দ ও উচ্ছ্বাসের বহিঃপ্রকাশ ছিল।
তিনি বলেন, "ভোটাররা যেন সবাই নিজেদের ব্যালট সংগ্রহ করতে পারেন, সেজন্য তারা পরস্পরের মধ্যে ব্যালট ভাগ করে নিয়েছেন। কোনো খাম খোলা হয়নি।"
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ইসি সচিব বলেন, "বিষয়টি বাহরাইনের ডাক বিভাগকে জানানো হয়েছে এবং বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতও তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি দেখছেন।"
আখতার আহমেদ বলেন, বাহরাইন ইউনিভার্সাল পোস্টাল ইউনিয়নের সদস্য হওয়ায় বাংলাদেশ ডাক বিভাগের মাধ্যমে সেখানে পোস্টাল ব্যালট পাঠানো হয়। তবে পোস্টাল ব্যবস্থাপনা দেশভেদে ভিন্ন।
তিনি বলেন, "বাহরাইনে ১৬০টি ব্যালট এক জায়গায় একটি বক্সে রেখে ডেলিভারি পয়েন্টে দেওয়া হয়েছিল, যা অনেকটা হোস্টেলে চিঠিপত্র এক জায়গায় রেখে যাওয়ার মতো। সেখান থেকে প্রবাসীরা নিজেদের ব্যালট নিয়ে গেছেন এবং কেউ কেউ পাশের কক্ষে থাকা অন্য ভোটারের ব্যালট পৌঁছে দেওয়ার জন্য নিয়েছেন।"
ইসি সচিব বলেন, চার-পাঁচজন প্রবাসী একসঙ্গে বক্সটি খুলে নিজেদের ও পরিচিতদের ব্যালট আলাদা করেছেন। তবে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে কোনো ব্যালটের নির্ধারিত খাম খোলা হয়নি।
তিনি বলেন, "ভিডিওটি করা উচিত হয়নি বলে আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি। তবে এটি প্রবাসী ভোটাররা ব্যালট পাওয়ার আনন্দ প্রকাশের জন্য করেছেন। আপনারা দেখবেন, ভিডিওতে কোনো খাম খোলা হয়নি।"
আখতার আহমেদ আরও বলেন, বিষয়টি বাহরাইন পোস্টকে জানানো হয়েছে এবং তারা সরেজমিনে তদন্ত করে জানাবে কেন এমনটি ঘটেছে, নির্ধারিত পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে কি না এবং কোনো ব্যতিক্রম হয়েছে কি না।
এদিকে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্রের বৈধতা ফিরে পেতে আপিল শুনানির পঞ্চম দিনে ৭৩ জন প্রার্থী তাদের প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন বলে জানান ইসি সচিব।
তিনি বলেন, মঙ্গলবার ১০০টি আপিলের শুনানি হয়, যার মধ্যে ৭৩টি মঞ্জুর, ১৭টি নামঞ্জুর এবং ১০টি আবেদনের সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখা হয়েছে।
তিনি জানান, পাঁচ দিনে মোট ৩৮০টি আপিলের শুনানি হয়েছে। এর মধ্যে ২৭৭টি মঞ্জুর হয়েছে, ৮১টি নামঞ্জুর হয়েছে এবং ২৩টি বিভিন্ন কারণে অপেক্ষমাণ রয়েছে। মোট আপিল দায়ের হয়েছিল ৬৪৫টি।
আগামী ২০ জানুয়ারি প্রার্থিতা প্রত্যাহারের পর ২১ জানুয়ারি রিটার্নিং কর্মকর্তারা চূড়ান্ত প্রার্থিতালিকা প্রকাশ করবেন এবং প্রতীক বরাদ্দ দেবেন। ২২ জানুয়ারি থেকে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে সাতটা পর্যন্ত চলবে নির্বাচনী প্রচার। ভোট গ্রহণ হবে ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে সাতটা থেকে বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত।
১৭ জানুয়ারি থেকে ৫৬ জন দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষক সারা দেশে মোতায়েন করা হবে। এ ছাড়া ভোটগ্রহণ, গণনা ও ফল নির্ধারণ পর্যবেক্ষণে ৯০ জন স্বল্পমেয়াদি পর্যবেক্ষক, কূটনীতিক ও অংশীদার দেশগুলোর প্রতিনিধিরাও যুক্ত হবেন। ইউরোপীয় ইউনিয়নের মিশন নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে প্রমাণভিত্তিক ও নিরপেক্ষ মূল্যায়ন দেবে, ১৪ ফেব্রুয়ারি প্রাথমিক প্রতিবেদন প্রকাশ করবে এবং নির্বাচনের পর একটি পূর্ণাঙ্গ চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করবে।
ইসি সচিব আখতার আহমেদ বলেন, দেশীয় ও প্রবাসী ভোটগ্রহণের স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিশ্চিত করতে সরকার সব ধরনের সহযোগিতা দেবে।
তিনি বলেন, বাহরাইনের ঘটনাটি দুঃখজনক হলেও এতে ভোটপ্রক্রিয়া বা পোস্টাল ব্যালটের গোপনীয়তা ক্ষুণ্ন হয়নি।
