নির্বাচনে ‘এক বাক্স’ নীতিতে অনড় ইসলামী আন্দোলন, জোটের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ তাদের ঘোষিত 'এক বাক্স' নীতি থেকে সরে আসছে না বলে জানিয়েছেন দলটির মুখপাত্র ও যুগ্ম মহাসচিব গাজী আতাউর রহমান। তবে একই সঙ্গে তিনি স্বীকার করেছেন যে, ইসলামপন্থী দলগুলোর মধ্যে চলমান জোট ও আসন সমঝোতা নিয়ে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তা এখনো কাটেনি।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) রাজধানীর পুরানা পল্টনে ইসলামী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান তিনি।
গাজী আতাউর রহমান বলেন, 'আমরা 'এক বাক্স' পলিসিতে এখনো আছি, ইনশাআল্লাহ থাকব। আগামী এক–দুই দিনের মধ্যে আমরা কীভাবে নির্বাচনে অংশ নেব এবং এই নীতি কীভাবে বাস্তবায়িত হবে, তার রূপরেখা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।'
তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ইসলামপন্থী শক্তিগুলোকে ঐক্যবদ্ধ করতে উদ্যোগ নেন ইসলামী আন্দোলনের আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম (পীরসাহেব চরমোনাই)। সেই লক্ষ্যেই 'এক বাক্স' নীতি ঘোষণা করা হয়েছিল, যার মূল উদ্দেশ্য ছিল ৩০০ আসনে সম্মিলিতভাবে একক ইসলামপন্থী প্রার্থী নিশ্চিত করা।
আসন সমঝোতার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরে গাজী আতাউর বলেন, 'মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন (২৯ ডিসেম্বর) পর্যন্ত জোটের পক্ষ থেকে একক প্রার্থী চূড়ান্ত করা সম্ভব হয়নি। ফলে সমঝোতায় থাকা দলগুলো আলাদাভাবে মনোনয়নপত্র জমা দেয়।'
তিনি আরও যোগ করেন, 'আমরা ভেবেছিলাম মনোনয়ন প্রত্যাহারের আগেই বিষয়গুলো ঠিক করা যাবে, কিন্তু গতকাল পর্যন্ত তা সম্ভব হয়নি।'
জোটের শরিক দলগুলোর ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি অভিযোগ করেন, 'জোটের কোনো দলই ইসলামী আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ আসনগুলোতে ছাড় দেয়নি। বরং দেশের বিভিন্ন আসনে জোটের নাম ব্যবহার করে আগাম প্রচারণা চালানো হচ্ছে, যা সমঝোতার পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।'
উদ্ভূত এই পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) গভীর রাত পর্যন্ত দলের জেলা নেতৃবৃন্দ, মনোনীত প্রার্থী, মজলিসে শূরা, প্রেসিডিয়াম ও উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যদের নিয়ে দীর্ঘ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এরই ধারাবাহিকতায় আজ বুধবার দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম মজলিসে আমেলার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গাজী আতাউর রহমান জানান, 'আজ (১৪ জানুয়ারি) আমাদের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম মজলিসে আমেলার গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে নির্বাচনি পরিস্থিতি, সহযোগী সংগঠনগুলোর আচরণ এবং ভবিষ্যৎ কৌশল নিয়ে আলোচনা হয়েছে।'
আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে সিনিয়র নায়েবে আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম, প্রেসিডিয়াম সদস্য মাওলানা মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানী, মহাসচিব অধ্যক্ষ ইউনুস আহমদসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
দলের অবস্থান পরিষ্কার করে যুগ্ম মহাসচিব বলেন, 'আমরা হুজুগে কোনো সিদ্ধান্ত নেব না। সবকিছু রেশনালি, নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সিদ্ধান্ত নেব।'
সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত জনমত জরিপ নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন ইসলামী আন্দোলনের এই নেতা। তিনি এসব জরিপকে 'পক্ষপাতদুষ্ট' ও 'বিভ্রান্তিকর' বলে অভিহিত করেন।
একটি জরিপের তথ্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, 'যেখানে জামায়াতকে ৩৩ শতাংশ দেখানো হয়, এনসিপিকে ৭ শতাংশ, আর ইসলামী আন্দোলনকে দেখানো হয় মাত্র ৩ শতাংশ—এগুলো আসলে বেইনসাফির পথ তৈরি করে।'
জোটের ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি বলেন, 'আমরা জোট থেকে বের হয়ে গেছি বা কাউকে বের করে দিয়েছি—এভাবে বলার সময় এখনো আসেনি। আমরা ঐক্য ধরে রাখার চেষ্টা করছি।' তিনি আরও যোগ করেন, 'সমঝোতা মানে কেউ কারো ওপর ডমিনেট করবে না। পারস্পরিক শ্রদ্ধা না থাকলে একসঙ্গে পথ চলা কঠিন হয়ে যায়।'
তিনি আরও বলেন, 'ফেব্রুয়ারির ১২ তারিখের আগ পর্যন্ত যেকোনো কিছু ঘটতে পারে।'
এক বাক্স নীতিতে জামায়াতে ইসলামীর অংশগ্রহণ নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, 'জামায়াত থাকবে কি না—এটা জামায়াতকেই প্রশ্ন করতে হবে।'
