গণভোটে 'হ্যাঁ' এর পক্ষে প্রচারণা, ৪০০ এনজিও নিয়ে কর্মশালা
দেশের সকল বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা (এনজিও) আসন্ন গণভোটের প্রচারণায় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করবে।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর ঢাকা অফিসে আয়োজিত এক কর্মশালায় এনজিওগুলোর মাঠ পর্যায়ের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য একটি বিস্তারিত পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
এই কর্মশালায় দেশের প্রায় ৪০০টি এনজিওর প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। গণভোটে 'হ্যাঁ' অথবা 'না' ভোটের সম্ভাব্য ফলাফল ও এর প্রভাব সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করার লক্ষ্য নিয়েই মূলত এনজিও প্রতিনিধিদের সাথে এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার জন্য প্রায় ৪২০টি দেশীয় এনজিও এবং বাংলাদেশে কর্মরত প্রায় ৩০টি আন্তর্জাতিক এনজিওর প্রতিনিধিদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর পরিচালক (নিবন্ধন ও পরিদর্শন) ব্যারিস্টার মো. খলিলুর রহমান খান (এনডিসি) টিবিএসকে জানান, শেষ পর্যন্ত প্রায় ৪০০ এনজিও প্রতিনিধি এই অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন।
বৈঠকে বিভিন্ন এনজিওর নির্বাহী পরিচালক ও প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। আলোচনার মূল বিষয়বস্তু ছিল গণভোট এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আইনি ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি। এনজিওগুলো কীভাবে তাদের নিয়মিত কার্যক্রমের মাধ্যমে জনগণকে গণভোটে অংশগ্রহণে উৎসাহিত করতে পারে, সে বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়। এছাড়া কমিউনিটি রেডিও এবং অ্যাডভোকেসি মিটিংয়ের মাধ্যমে প্রচারণা চালানোর জন্য এনজিও প্রতিনিধিদের বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়।
ব্যারিস্টার মো. খলিলুর রহমান খান (এনডিসি) টিবিএসকে বলেন, 'আমাদের প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে এনজিওগুলোকে সচেতন করা যেন তারা গণভোটে জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে এবং তাদের সুবিধা ও অধিকার সম্পর্কে তথ্য প্রদান করে। এনজিওগুলো দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে এবং আমরা চাই তারা এই ভূমিকা অব্যাহত রাখুক।'
উক্ত বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী আলী রীয়াজ, সাংবাদিক মনির হায়দার এবং আলী ইমাম মজুমদার। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মো. দাউদ মিয়া (এনডিসি)।
ব্যারিস্টার মো. খলিলুর রহমান খান একটি প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে গণভোটের প্রয়োজনীয়তা ও উদ্দেশ্য তুলে ধরেন। আলোচনায় উঠে আসে যে, 'হ্যাঁ' ভোট জয়যুক্ত হলে দেশের সংবিধান ও রাষ্ট্রব্যবস্থায় যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য বিষয়গুলো হলো: তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ও নির্বাচন কমিশন সংস্কার, সরকারি ও বিরোধী দল মিলে রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ, সংবিধানের গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ক্ষেত্রে গণভোটের স্থায়ী বিধান চালু, বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার ও গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় কমিটির সভাপতি নির্বাচনের বিধান, প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনের মেয়াদ সর্বোচ্চ ১০ বছর নির্ধারণ, সংসদে উচ্চকক্ষ গঠন, বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ, মৌলিক অধিকারের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং রাষ্ট্রভাষা বাংলা ছাড়াও অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর ভাষার সাংবিধানিক স্বীকৃতি।
আলোচনায় জানানো হয়, 'না' ভোট জয়ী হলে এই সুযোগ-সুবিধাগুলো পাওয়া যাবে না।
এই বিষয়গুলো সাধারণ মানুষকে স্পষ্টভাবে বোঝানোর জন্য এনজিও প্রতিনিধিদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে জেলা প্রশাসক (ডিসি) এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সঙ্গে সমন্বয় করে প্রচারণা চালানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। এনজিওদের দায়িত্ব বণ্টনের ক্ষেত্রে এমনভাবে সমন্বয় করতে বলা হয়েছে যেন একই স্থানে একাধিক প্রচারণা না হয় এবং দুর্গম এলাকা যেখানে সরকারি প্রকল্প পৌঁছানো কঠিন, সেখানে এনজিও কর্মীরা যেন কাজ করেন।
