মাদুরোকে আটকের আগেই বাজি ধরে প্রায় সাড়ে ৪ লাখ ডলার জিতলেন অজ্ঞাত ক্রিপ্টো জুয়াড়ি
ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো যে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে আটক হতে যাচ্ছেন, সেই ঘোষণা আসার আগেই বিষয়টি নিয়ে বড় অঙ্কের বাজি ধরেছিলেন এক ব্যক্তি। আর তাতেই কপাল খুলেছে তার। জিতে নিয়েছেন প্রায় সাড়ে ৪ লাখ ডলারের বেশি। আনুষ্ঠানিক ঘোষণার ঠিক আগমুহূর্তে এমন বাজিমাতের ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে—যুক্তরাষ্ট্রের গোপন অভিযানের খবর কি তবে আগেই ফাঁস হয়েছিল?
'পলি মার্কেট' নামের একটি ক্রিপ্টোকারেন্সি-ভিত্তিক প্ল্যাটফর্মে এই বাজি ধরা হয়েছিল। বাজির বিষয় ছিল, জানুয়ারি মাস শেষ হওয়ার আগেই কি ক্ষমতা হারাবেন মাদুরো?
গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মাদুরোকে আটকের ঘোষণা দেওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগে থেকেই ওই প্ল্যাটফর্মে বাজির দর অস্বাভাবিকভাবে বাড়তে শুরু করে।
সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে একটি নির্দিষ্ট অ্যাকাউন্ট নিয়ে। মাত্র গত মাসেই প্ল্যাটফর্মটিতে যুক্ত হওয়া ওই অ্যাকাউন্ট থেকে চারটি বাজি ধরা হয় এবং সব কটিই ছিল ভেনেজুয়েলা কেন্দ্রিক। ওই ব্যক্তি ৩২ হাজার ৫৩৭ ডলার বাজি ধরে ৪ লাখ ৩৬ হাজার ডলারের বেশি মুনাফা করেছেন।
বাজি ধরা ওই ব্যক্তির পরিচয় এখনো জানা যায়নি। অ্যাকাউন্টটি বেনামি এবং ব্লকচেইন আইডেন্টিফায়ারের মাধ্যমে পরিচালিত।
পলি মার্কেটের তথ্য বলছে, ২ জানুয়ারি শুক্রবার বিকেলেও বাজিকরদের ধারণা ছিল, মাদুরোর ক্ষমতা ছাড়ার সম্ভাবনা মাত্র সাড়ে ৬ শতাংশ। কিন্তু মধ্যরাতের আগেই তা বেড়ে ১১ শতাংশে পৌঁছায়। ৩ জানুয়ারি ভোরের দিকে হঠাৎ করেই এই হার লাফিয়ে বাড়তে থাকে। এর ঠিক পরপরই ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে মাদুরোকে আটকের কথা জানান।
ট্রাম্পের ঘোষণার ঠিক আগমুহূর্তে বাজির দরে এমন নাটকীয় পরিবর্তন 'ইনসাইডার ট্রেডিং' বা গোপন তথ্যের ভিত্তিতে সুবিধা নেওয়ার সন্দেহ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য যোগাযোগ করা হলেও পলি মার্কেট কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সাড়া দেয়নি।
শুধু ওই একজনই নন, পলি মার্কেটের আরও কয়েকজন ব্যবহারকারী মাদুরো আটক হওয়ার বাজি ধরে হাজার হাজার ডলার আয় করেছেন। বিষয়টি এখন যুক্তরাষ্ট্রের আইনপ্রণেতাদেরও নজরে এসেছে।
নিউইয়র্কের ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসম্যান রিচি তোরেস গত সোমবার কংগ্রেসে একটি বিল উত্থাপন করেছেন। সরকারি কর্মচারীদের কাছে যদি বাজির বিষয়বস্তু সম্পর্কিত কোনো গোপন তথ্য থাকে, তবে তাঁদের বাজি ধরা নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে ওই বিলে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রে 'প্রেডিকশন মার্কেট' বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। পলি মার্কেট ও কালশির মতো প্ল্যাটফর্মগুলোতে এখন খেলাধুলা থেকে শুরু করে রাজনীতি—সব বিষয়েই বাজি ধরার সুযোগ রয়েছে। ২০২৪ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফলাফল নিয়েও এসব সাইটে কোটি কোটি ডলারের লেনদেন হয়েছিল।
বাইডেন প্রশাসনের সময় এসব বাজারের ওপর নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর কড়া নজরদারি ছিল। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের সময় তারা কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থায় আছে বলে মনে হচ্ছে। উল্লেখ্য, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ছেলে ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র কালশি ও পলি মার্কেটের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
শেয়ারবাজারে ইনসাইডার ট্রেডিং সম্পূর্ণ বেআইনি হলেও প্রেডিকশন মার্কেটের ক্ষেত্রে আইনকানুন এখনো অতটা কঠোর নয়।
তবে কালশির একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, তাদের সাইটে যেকোনো ধরনের ইনসাইডার ট্রেডিং নিষিদ্ধ। বিশেষ করে সরকারি কর্মকাণ্ড সম্পর্কিত কোনো বিষয়ে সরকারি কর্মচারীদের বাজি ধরার সুযোগ নেই বলে দাবি করেন তিনি।
