রাজধানীতে আইফোন তৈরির ‘মিনি কারখানা’: ৩ চীনা নাগরিক কারাগারে
রাজধানীর খিলক্ষেত ও উত্তরা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৩৬৩টি আইফোনসহ গ্রেপ্তার তিন চীনা নাগরিককে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। শুল্ক ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে মোবাইল ফোন দেশে এনে বিক্রির অভিযোগে বিশেষ ক্ষমতা আইনে করা পৃথক দুই মামলায় তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
কারাগারে যাওয়া আসামিরা হলেন: তানজিয়ান, উ জুন ও ডং হংওয়েই। বৃহস্পতিবার (৭ জানুয়ারি) ঢাকার পৃথক দুটি মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর এই নির্দেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আদালত সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) বিকেলে আসামিদের আদালতে হাজির করে মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কারাগারে আটকে রাখার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তারা। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম ও মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ ফারজানা হকের আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
খিলক্ষেত থানায় দায়ের করা মামলার আবেদনে বলা হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ৭ জানুয়ারি বিকেল পৌনে পাঁচটার দিকে খিলক্ষেত থানাধীন নিকুঞ্জ এলাকায় অভিযান চালায় পুলিশ। সেখানে অবৈধ চোরাচালানের মোবাইল কেনাবেচার উদ্দেশ্যে অবস্থানকালে উ জুন ও ডং হংওয়েইকে গ্রেপ্তার করা হয়। তল্লাশি চালিয়ে তাদের কাছ থেকে ৩০৫টি আইফোন উদ্ধার করা হয়, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ৬০ লাখ ৪০ হাজার টাকা। আসামিরা চীন থেকে কৌশলে কর বা শুল্ক ফাঁকি দিয়ে এসব ফোন বাংলাদেশে নিয়ে আসেন।
অন্যদিকে, উত্তরা পশ্চিম থানায় দায়ের করা অন্য মামলায় বলা হয়, ডিবি পুলিশের একটি দল উত্তরার ১৩ নম্বর সেক্টর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তানজিয়ানকে তার ভাড়া বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় তার কাছ থেকে ৫৮টি আইফোন উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে চীন থেকে অবৈধভাবে এসব ফোন দেশে এনেছেন।
তদন্ত কর্মকর্তারা আদালতে করা আবেদনে উল্লেখ করেন, আসামিরা বিদেশি নাগরিক হওয়ায় জামিনে মুক্তি পেলে তদন্ত ও বিচারকাজে ব্যাঘাত সৃষ্টি হতে পারে। এমনকি তারা পালিয়ে যাওয়ারও সম্ভাবনা রয়েছে। তাই তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের জেলহাজতে রাখা একান্ত প্রয়োজন।
এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) উত্তরা ও নিকুঞ্জ এলাকায় ঝটিকা অভিযান চালিয়ে এই চক্রটিকে গ্রেপ্তার করে। অভিযানে বিভিন্ন মডেলের মোট ৩৬৩টি আইফোন, বিপুল পরিমাণ খুচরা যন্ত্রাংশ এবং ৮ বোতল বিদেশি মদ জব্দ করা হয়। জব্দকৃত আইফোন ও যন্ত্রাংশের মোট বাজারমূল্য আনুমানিক ১ কোটি ৭৫ লাখ (পৌনে ২ কোটি) টাকা। মামলার তদন্ত কার্যক্রম বর্তমানে অব্যাহত রয়েছে।
ডিসি মহিউদ্দিন মাহমুদ সোহেল জানান, এই চক্রের শিকড় অনেক গভীরে। কেবল এই তিন চীনা নাগরিকই নন, এর সঙ্গে দেশীয় কিছু অসাধু মোবাইল ব্যবসায়ীও এর সঙ্গে সরাসরি জড়িত।
তিনি বলেন, 'দামি ফোন কেনার সময় গ্রাহকদের অতিরিক্ত সচেতন হতে হবে। সস্তা বা অননুমোদিত দোকান থেকে ফোন কিনে প্রতারিত হওয়ার ঝুঁকি অনেক বেশি।'
