দুর্নীতির অভিযোগে তুরস্কের কারাবন্দি বিরোধীদলীয় নেতার ২,০০০ বছরের কারাদণ্ড চাইলেন প্রসিকিউটর
তুরস্কের কারাবন্দী বিরোধীদলীয় নেতা ও ইস্তাম্বুলের মেয়র একরেম ইমামোগলুর বিরুদ্ধে ২০০০ বছরের বেশি কারাদণ্ডের দাবি করেছেন একজন প্রসিকিউটর।
তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি এমন একটি বিশাল দুর্নীতি চক্রের নেতৃত্ব দিয়েছেন, যার ফলে তুরস্ক সরকারের কয়েকশ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের প্রধান রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে পরিচিত ইমামোগলু বরাবরই এসব অভিযোগকে 'রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত' বলে আসছেন।
মঙ্গলবার ইমামোগলুর দল রিপাবলিকান পিপলস পার্টি (সিএইচপি) এই নতুন অভিযোগপত্রকে 'অর্থহীন' বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। উচ্চ আদালতের কাছে সিএইচপিকে নিষিদ্ধ করারও আহ্বান জানান সেই প্রসিকিউটর।
ইস্তাম্বুলের প্রধান প্রসিকিউটর আকিন গুরলেক এক সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগপত্রটি প্রকাশ করেন। এতে ইমামোগলুসহ ৪০২ জনকে অভিযুক্ত করা হয়।
তাদের বিরুদ্ধে অপরাধ চক্র গঠন, ঘুষ গ্রহণ, জালিয়াতি ও দরপত্র প্রভাবিত করার মতো অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রসিকিউটর গুরলেক দাবি করেন, এই চক্রটি গত ১০ বছরে তুরস্ক সরকারের প্রায় ১৬ হাজার কোটি লিরা (প্রায় ৩৮০ কোটি ডলার) ক্ষতি করেছে।
৪ হাজারেরও অধিক পৃষ্ঠার এই অভিযোগপত্রে একটি সংগঠনচিত্রও দেওয়া হয়েছে, যেখানে একরেম ইমামোগলুকে ওই অপরাধ চক্রের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান হিসেবে দেখানো হয়।
সিএইচপির নেতা ওজগুর ওজেল বলেন, এই অভিযোগপত্রটি 'সম্পূর্ণ রাজনৈতিক' এবং দলের মনোনীত রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হওয়ায় ইমামোগলুকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। তিনি বলেন, 'এটি কোনো অভিযোগপত্র নয়, বরং অভ্যুত্থানকারীদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত একটি ঘোষণাপত্র।'
উল্লেখ্য, দুর্নীতির আরেক মামলায় বিচারাধীন অবস্থায় ইমামোগলু গত মার্চ থেকে কারাগারে আছেন। এ ছাড়া শহরের প্রধান প্রসিকিউটরকে 'অপমান ও হুমকি' দেওয়ার অভিযোগে অপর এক মামলায় তিনি কারাদণ্ড পেয়েছেন, যার বিরুদ্ধে তিনি আপিল করছেন।
