গুলিবিদ্ধ স্লোভাকিয়ার প্রধানমন্ত্রী রবার্ট ফিকো এখন শঙ্কামুক্ত: উপ-প্রধানমন্ত্রী
আততায়ীর হামলার শিকার স্লোভাকিয়ার প্রধানমন্ত্রী রবার্ট ফিকো এখন শঙ্কামুক্ত আছেন। গতকাল (১৫ মে) স্থানীয় সময় বুধবার দেশটির রাজধানী ব্রাতিশ্লোভার উত্তর-পূর্বে হ্যান্ডলোভা শহরে 'হাউস অব কালচার' ভবনের সামনে গুলিবিদ্ধ হন তিনি। খবর বিবিসি'র।
দেশটির উপ-প্রধানমন্ত্রী টমাস তারাবা জানিয়েছেন, গুলিবিদ্ধ ফিকোর 'অস্ত্রোপচার' সফল হয়েছে, এ যাত্রায় তিনি বেঁচে যাবেন।
এর আগে দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেছিলেন, হ্যান্ডলোভায় হামলায় গুরুতর আহত হওয়া ফিকোর অবস্থা আশঙ্কাজনক, জীবনের জন্য লড়ছেন তিনি।
গত বুধবার হ্যান্ডলোভায় সরকারি একটি বৈঠকে অংশ নেন ফিকো। বৈঠক থেকে বের হওয়ার পর সেখানে বহু মানুষ তাকে শুভেচ্ছা জানানোর জন্য জড়ো হয়েছিলেন। একপর্যায়ে জনতার ভিড়ের মধ্য থেকে ফিকোকে লক্ষ্য করে কেউ গুলি চালায়।
টমাস তারাবা জানান, প্রধানমন্ত্রীর 'খুব কাছ থেকে' গুলি করা হয় এবং 'একটি গুলি পেট ভেদ করে এবং দ্বিতীয়টি জয়েন্টে বিদ্ধ হয়।
পরে গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে ফিকোর নিরাপত্তা কর্মকর্তারা তাকে কাছের একটি হাসপাতালে নিয়ে যান। অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় সেখান থেকে হেলিকপ্টারে করে বানস্কা ব্রিস্তিকা শহরের একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়।
এ ঘটনায় এক সন্দেহভাজন হামলাকারীকে আটক করেছে পুলিশ। হামলাকারীর পূর্ণ পরিচয় পুলিশ এখনও প্রকাশ না করলেও স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ৭১ বছর বয়সী হামলাকারী একজন লেখক ও রাজনৈতিক কর্মী।
স্লোভাকিয়ার গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচারিত একটি ভিডিওতে সন্দেহভাজন হামলাকারীকে দেখা গেছে।
ফুটেজে ওই ব্যক্তিকে বলতে শোনা যায়, তিনি সরকারের নীতি এবং রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের প্রতি দেশটির অবস্থানের সঙ্গে একমত নন। তবে ভিডিওতে যে ব্যক্তিকে দেখা গেছে, তিনি ঘটনাস্থল থেকে আটককৃত অপরাধী কিনা সেটি এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
স্লোভাকিয়ার পাবলিক ব্রডকাস্টার আরটিভিএস বিলুপ্ত করার সরকারের প্রস্তাব নিয়ে পার্লামেন্টে আলোচনা শুরু হওয়ার দিনই এই বন্দুক হামলার ঘটনা ঘটল।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে দেশটির হাজার হাজার নাগরিক পাবলিক ব্রডকাস্টারের প্রস্তাবিত সংস্কারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছে। তবে গোলাগুলির খবর ছড়িয়ে পড়লে বুধবার বিরোধী দলের নেতৃত্বে পরিকল্পিত বিক্ষোভ কর্মসূচি বাতিল করা হয়।
বিবিসিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে দেশটির উপ-প্রধানমন্ত্রী তারাবা এ ঘটনার জন্য স্লোভাকিয়ার বিরোধী দলগুলোর 'মিথ্যা বর্ণনাকে' দায়ী করেছেন।
বিবিসির ওয়ার্ল্ড টুনাইট প্রোগ্রামকে দেয়া আরেক সাক্ষাৎকারে তারাবা বলেন, 'আমাদের প্রধানমন্ত্রী বেশ কয়েকবার সতর্ক করেছিলেন যে, তিনি আশঙ্কা করছেন যে এমন কিছু ঘটতে পারে।'
তার মতে, ফিকো সতর্ক করে দিয়েছিলেন যে, 'যেভাবে সরকারকে মিথ্যা বিবরণ দিয়ে আক্রমণ করা হয়েছে তা জনগণের প্রতিক্রিয়াকে বাড়িয়ে তুলতে পারে এবং এ জাতীয় কিছুর দিকে নিয়ে যেতে পারে'।
ফিকোর ওপর 'নৃশংস এবং নির্মম' হামলা চালানো হয়েছে উল্লেখ করে স্লোভাকিয়ার প্রেসিডেন্ট জুজানা কাপুতোভা ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।
তিনি বলেছেন, 'আমি হতবাক হয়ে গিয়েছি। এই কঠিন পরিস্থিতিতে রবার্ট ফিকোর পাশে আছি আমি। তার দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি।'
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাতুস সুতাজ এস্তোকা একে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হত্যাচেষ্টা বলে বর্ণনা করেছেন।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ঋসি সুনাকসহ অন্যান্য পশ্চিমা নেতারাও এ হামলার নিন্দা জানিয়েছেন।
গত সেপ্টেম্বরে নির্বাচনের পর তৃতীয়বারের মতো স্লোভাকিয়ার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ক্ষমতায় ফেরেন ফিকো। গত ৩০ সেপ্টেম্বর দেশটিতে অনুষ্ঠিত পার্লামেন্টারি ইলেকশনে তার বামপন্থী দল জয় লাভ করে। রুশপন্থী ও আমেরিকাবিরোধী প্রচারণা চালিয়েছিল দলটি। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তার প্রথম কয়েক মাস রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত বিতর্কিত প্রমাণিত হয়েছে। জানুয়ারিতে তিনি ইউক্রেনে সামরিক সহায়তা বন্ধ করে দেন এবং গত মাসে আরটিভিএস বিলুপ্ত করার পরিকল্পনা করেন।
অনুবাদ: সাকাব নাহিয়ান শ্রাবন
