ট্রাম্পের মন গলাতে দেশের একাংশের নাম ‘ডনিল্যান্ড’ রাখতে চাইছেন ইউক্রেনের কর্মকর্তারা
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন জয় করতে এবং তাকে নিজেদের পক্ষে টানতে অভিনব এক উপায় বের করেছেন ইউক্রেনের কর্মকর্তারা। তারা প্রস্তাব দিয়েছেন, রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যকার বিতর্কিত দনবাস অঞ্চলের একাংশের নাম ট্রাম্পের নামানুসারে 'ডনিল্যান্ড' রাখা হোক।
রাশিয়ার ভৌগোলিক দাবি আরও জোরালোভাবে মোকাবিলায় ট্রাম্প প্রশাসনকে রাজি করাতেই এই নাম প্রস্তাব করা হয়েছে। আলোচনার সঙ্গে যুক্ত চারজন ব্যক্তির বরাত দিয়ে মার্কিন দৈনিক নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, একজন ইউক্রেনীয় অনুবাদক কিছুটা মজা করেই প্রথম এই নামের প্রস্তাব দিয়েছিলেন।
ট্রাম্প প্রায় সবকিছুতেই নিজের নাম বসাতে পছন্দ করেন—হোক সেটা ফেডারেল ভবন, আকাশচুম্বী অট্টালিকা, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট কিংবা স্মারক মুদ্রা। তার এই স্বভাবের কথা মাথায় রেখেই সম্ভবত প্রায় ৫০ মাইল দীর্ঘ ও ৪০ মাইল চওড়া ওই ভূখণ্ডের নাম 'ডনিল্যান্ড' রাখার কথা বলা হয়েছে।
এমনকি আলোচনার সঙ্গে যুক্ত একজন ইউক্রেনীয় কর্মকর্তা চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করে ডনিল্যান্ডের জন্য সবুজ-সোনালি রঙের একটি পতাকা এবং জাতীয় সংগীতও তৈরি করে ফেলেছেন বলে নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে। তবে মার্কিন কর্মকর্তারা আদৌ ওই পতাকার নকশা দেখেছেন কি না, তা স্পষ্ট নয়।
ইউক্রেনের খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ দনবাস অঞ্চলের বড় অংশই এখন রুশ বাহিনীর দখলে। এই ভূখণ্ডের নিয়ন্ত্রণ দুই দেশের শান্তি আলোচনার অন্যতম প্রধান ইস্যু। যুদ্ধ থামাতে মস্কো ইউক্রেনের সার্বভৌম ভূখণ্ড দাবি করছে, যা কিয়েভ মেনে নেবে না। এই ইস্যুতে তাই এখন অচলাবস্থা বিরাজ করছে।
এ অবস্থায় ইউক্রেনের আলোচকেরা প্রস্তাব দিয়েছেন যে 'ডনিল্যান্ড' এমন একটি এলাকা হতে পারে, যার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ কোনো পক্ষের হাতেই থাকবে না। আর এই ব্যবস্থাকে ট্রাম্পের একটি বড় সাফল্য হিসেবে তুলে ধরা হবে।
খবরে বলা হয়েছে, 'ডনিল্যান্ড' নামটি সরকারি কোনো নথিতে যুক্ত না হলেও শান্তি আলোচনায় এটি ব্যবহার করা হয়েছে। এমনকি ট্রাম্পের 'বোর্ড অব পিস' এই ডনিল্যান্ডের ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকতে পারে—এমন একটি ধারণাও আলোচনায় তোলা হয়েছে।
জেলেনস্কির ক্ষোভ
এদিকে ট্রাম্পের দূতেরা আলোচনার জন্য বারবার মস্কোতে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে দেখা করতে গেলেও কিয়েভে না আসায় ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
গত মাসে মিয়ামিতে ইউক্রেনীয় প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার। কিন্তু তারা কিয়েভে না আসায় জেলেনস্কি এটিকে 'অসম্মানজনক' বলে মন্তব্য করেছেন।
উইটকফ ও কুশনার ইরানের সঙ্গে শান্তি চুক্তির জন্য গঠিত মার্কিন প্রতিনিধিদলের অংশ। তারা এই আলোচনার জন্য পাকিস্তানে যাতায়াত করছেন।
জেলেনস্কি স্বীকার করেছেন যে যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের দিকেই বেশি মনোযোগ দিচ্ছে। তবে তিনি বলেন, 'যা-ই হোক না কেন, আমেরিকানদের সঙ্গে আমাদের সহযোগিতা চলমান রাখা গুরুত্বপূর্ণ।'
দ্বিতীয় মেয়াদে ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হওয়ার পরপরই ওভাল অফিসে জেলেনস্কির সঙ্গে তার একটি উত্তপ্ত বৈঠক হয়েছিল। ওই বৈঠকে ট্রাম্প ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের সামনেই ইউক্রেনের নেতার কড়া সমালোচনা করেছিলেন।
সামরিক পোশাক পরে আসায় ভ্যান্স প্রকাশ্যেই জেলেনস্কির সমালোচনা করেছিলেন। এই ঘটনার পরের আলোচনায় জেলেনস্কি অবশ্য কালো স্যুট পরে উপস্থিত হয়েছিলেন।
