পদ্মায় নৌ পুলিশের টহল দলের ওপর বন্দুক হামলা, ওসিসহ গুলিবিদ্ধ ৬
পাবনার ঈশ্বরদীতে পদ্মা নদীতে টহলরত লক্ষীকুন্ডা নৌ ফাঁড়ির পুলিশ সদস্যদের ওপর বন্দুক হামলা করেছে অজ্ঞাত সন্ত্রাসীরা। এ ঘটনায় নৌ ফাঁড়ির ইনচার্জসহ (ওসি) পাঁচ পুলিশ সদস্য এবং নৌকার মাঝি গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) রাত আনুমানিক ১টা ১০ মিনিট থেকে ১টা ৫০ মিনিটের মধ্যে ঈশ্বরদী উপজেলার পদ্মা নদীর হরিপুর এলাকায় এ গোলাগুলির ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন- লক্ষীকুন্ডা নৌ ফাঁড়ির ইনচার্জ (ওসি) খন্দকার শফিকুল ইসলাম, পুলিশ সদস্য ইনামুল হক, শাহিনুর হক, নাজমুল হাসান এবং মানিক মিয়া। এছাড়াও তাদের বহনকারী নৌকার মাঝিও আহত হয়েছেন।
পুলিশ সূত্র জানায়, নিয়মিত টহল ডিউটি পালনকালে লক্ষীকুন্ডা নৌ পুলিশ ক্যাম্পের একটি দল নৌকায় করে পদ্মা নদীর হরিপুর পয়েন্টে অভিযান পরিচালনা করতে যায়। এ সময় আগে থেকেই সেখানে অবস্থান নেওয়া একদল সশস্ত্র অপরাধী পুলিশকে লক্ষ্য করে আকস্মিকভাবে গুলি চালায়। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি গোলাগুলির ঘটনা ঘটে।
আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে পাবনা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে পুলিশ সদস্য শাহিনুর হকের চোখে গুলিবিদ্ধ হওয়ার কারণে তার অবস্থার অবনতি হলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে আহতরা সবাই চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মশিউর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, 'ঘটনার পরপরই ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। হামলাকারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।'
তিনি বলেন, 'ঘটনাটি তদন্ত করে হামলাকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।'
পুলিশ জানিয়েছে, পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
কুষ্টিয়া পুলিশ সুপার জসিম উদ্দিন দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে (টিবিএস) বলেন, 'ঘটনাস্থলে কুষ্টিয়া ও পাবনা পুলিশের যৌথ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এছাড়া কারা কী উদ্দেশ্যে এ হামলা চালিয়েছে, তা বের করতে পুলিশ কাজ করছে।'
