শুক্রবারের খুনের পর রাউজানে আবারও গুলি; যুবদল কর্মী নিহত
চট্টগ্রামের রাউজানে আবারও গুলির ঘটনা ঘটেছে। অস্ত্রধারী দুর্বৃত্তদের গুলিতে এক যুবদল কর্মী নিহত হয়েছেন।
রোববার রাত ১০টার দিকে উপজেলার কদলপুর ইউনিয়নের ইশানভট্টেরহাট এলাকায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে আহত হওয়ার পর চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে নেওয়ার পথে সে মারা যায়।
নিহতের ভাইপো মো. সম্রাট টিবিএসকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর প্রথমে তাকে রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে সেখান থেকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে পথেই তার মৃত্যু হয়।
নিহত যুবদল কর্মীর নাম মুহাম্মদ নাসির উদ্দিন। তিনি কদলপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ শমসেরনগর গ্রামের বাসিন্দা।
পুলিশ ও স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, রাত ১০টার দিকে একদল অস্ত্রধারী দুর্বৃত্ত নাসিরকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে। এতে তিনি গুলিবিদ্ধ হন। স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। নাসিরের শরীরে একাধিক গুলি লেগেছে বলে জানা গেছে।
এর আগে শুক্রবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে উপজেলার পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বিএনপি-সমর্থক কাউসারুজ্জামান বাবলুকে গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। ওই ঘটনার পর আবার গুলির ঘটনায় এলাকায় নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের সহসভাপতি সাবের সুলতান বলেন, নাসির যুবদলের কর্মী এবং তাকে লক্ষ্য করেই গুলি চালানো হয়েছে। তিনি এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান।
রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজেদুল ইসলাম বলেন, অস্ত্রধারী দুর্বৃত্তরা নাসিরকে গুলি করে পালিয়ে গেছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
এদিকে, কাউসারুজ্জামান বাবলু হত্যা মামলায় এজাহারভুক্ত দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার রাতে বিশেষ অভিযানে পূর্ব রাউজান এলাকা থেকে মো. শফি (৩৯) ও মো. সুমন (৩৩) নামে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তার এবং ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব, আধিপত্য বিস্তার ও চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে রাউজানে সহিংসতা বেড়েছে। গত দেড় বছরে অন্তত ২০ জন নিহত হয়েছেন। টানা এ ধরনের ঘটনায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।
