নিউইয়র্কের টাইমস স্কয়ারে কর্মস্থলের কাছে ছুরিকাঘাতে ব্যাংক অব আমেরিকার কর্মকর্তা নিহত
নিউইয়র্কের ব্যস্ত টাইমস স্কয়ারে ছুরিকাঘাতে ব্যাংক অব আমেরিকার এক কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় বৃহত্তম ঋণদাতা ব্যাংকটি এ তথ্য জানিয়েছে। সোমবার দিনের বেলায় এই ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটে।
নিহত কর্মকর্তা হলেন ৩২ বছর বয়সী এরিন পিয়াচেন্তি। নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের (এনওয়াইপিডি) তথ্য অনুযায়ী, তিনি ব্যাংকটির বিজনেস সিলেকশন অ্যান্ড কনফ্লিক্টস ইউনিটের ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলেন।
ব্যাংক অব আমেরিকা এক বিবৃতিতে বলেছে, 'আমাদের সহকর্মীর মর্মান্তিক মৃত্যুতে আমরা শোকাহত ও গভীরভাবে ব্যথিত। তিনি দলের একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন এবং তাকে আমরা খুব মিস করব। তার পরিবার ও স্বজনদের প্রতি আমাদের গভীর সমবেদনা।'
ব্যাংকটির ম্যানহাটন কার্যালয় টাইমস স্কয়ারের কাছেই ওয়ান ব্রায়ান্ট পার্কে অবস্থিত।
পিয়াচেন্তি ২০২১ সালে ফোর্ডহ্যাম ল স্কুল থেকে আইন বিষয়ে ডিগ্রি অর্জন করেন। একই সময়ে তার স্বামী ফ্র্যাঙ্কও সেখান থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেন। পিয়াচেন্তির মৃত্যুতে শোক জানিয়েছে ফোর্ডহ্যাম ল স্কুল।
হামলায় ৬৮ বছর বয়সী এক ব্যক্তিও আহত হন। এনওয়াইপিডি জানিয়েছে, তার অবস্থা স্থিতিশীল।
পুলিশ কমিশনার জেসিকা টিশ বলেন, সোমবার বিকেলে ওয়েস্ট ৪২তম স্ট্রিট ও সেভেন্থ অ্যাভিনিউয়ের কাছে হামলাটি 'এলোপাথারি ও বিনা উসকানিতে' হয়েছে বলে মনে হচ্ছে।
এনওয়াইপিডি জানায়, ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ পামেলা সিসনেরোস নামে ৪৯ বছর বয়সী এক নারীকে দুটি বড় ছুরি হাতে দেখতে পায়। তিনি পুলিশ কর্মকর্তাদের দিকে এগিয়ে গেলে তারা স্টান গান ব্যবহার করে তাকে অস্ত্র ফেলে দিতে বললেও তিনি তা করেননি। পরে পুলিশ তাকে গুলি করে। হাসপাতালে নেওয়ার পর তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
পুলিশ কমিশনার টিশ জানান, সিসনেরোরোসের মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার নথিভুক্ত ইতিহাস ছিল।
ব্যাংক অব আমেরিকার গ্লোবাল করপোরেট অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকিং বিভাগের প্রেসিডেন্ট ম্যাথিউ কোডার এক অভ্যন্তরীণ বার্তায় পিয়াচেন্তিকে 'প্রিয় সহকর্মী ও বন্ধু' হিসেবে বর্ণনা করেন।
তিনি লেখেন, 'এরিন বিজনেস সিলেকশন অ্যান্ড কনফ্লিক্টস দলের একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন। তিনি ১৮ মাস আগে ব্যাংকে যোগ দিয়েছিলেন। তার মৃত্যুতে অনেকেই গভীরভাবে শোকাহত।'
কোডার আরও জানান, ব্যাংকের নিরাপত্তা দল পুলিশি তদন্তে সহযোগিতা করছে। একই সঙ্গে ব্যাংকের কার্যালয় ও কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও তারা কাজ করছে।
