সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের এফডিআরে মুনাফা পেতে গ্রাহকদের ‘রেজুলেশন স্কিমে’ থাকতে হবে: বাংলাদেশ ব্যাংক
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের স্থায়ী আমানত বা এফডিআর গ্রাহকদের জন্য নতুন নির্দেশনা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এই ব্যাংকের এফডিআর হিসাবধারীরা চাইলে তাদের জমা করা পুরো টাকা একবারে তুলে নিতে পারবেন, তবে সেক্ষেত্রে তারা কোনো মুনাফা পাবেন না। এফডিআরের বিপরীতে মুনাফা পেতে হলে গ্রাহকদের অবশ্যই 'ব্যাংক রেজুলেশন স্কিম'-এর অধীনে থাকতে হবে।
আজ সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং রেগুলেশন বিভাগের এক নির্দেশনায় এ তথ্য জানানো হয়। দেশের সব তফসিলি ব্যাংক ও ফাইন্যান্স কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে এ নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে।
নির্দেশনায় জানানো হয়, যারা এফডিআর ভেঙে পুরো টাকা একবারে উত্তোলন করবেন, তারা শুধুমাত্র তাদের জমা রাখা মূল অর্থ ফেরত পাবেন। তবে যারা এই মুহূর্তে টাকা না তুলে ব্যাংকের নির্ধারিত রেজুলেশন স্কিমে অন্তর্ভুক্ত থাকবেন, কেবল তারাই চুক্তি অনুযায়ী মুনাফা পাওয়ার যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন।
অন্যদিকে, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের চলতি ও সঞ্চয়ী হিসাবের গ্রাহকদের জন্য কিছুটা শিথিল নিয়ম রাখা হয়েছে। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, এই শ্রেণির আমানতকারীরা তাদের জমানো আসল টাকা এবং সেই সঙ্গে প্রযোজ্য মুনাফাও একবারে উত্তোলন করতে পারবেন।
নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রাথমিকভাবে গ্রাহকেরা তাদের হিসাব থেকে জমানো সম্পূর্ণ মূলধন এককালীন তুলতে বা নগদায়ন করতে পারবেন। এজন্য আগামীকাল মঙ্গলবার থেকে আবেদন গ্রহণ শুরু করবে ব্যাংকটির শাখাগুলো।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ঘোষণা অনুযায়ী ১ সেপ্টেম্বর থেকেই ব্যক্তি হিসেবে স্বাভাবিক লেনদেন পুনরায় শুরুর সিদ্ধান্ত রয়েছে। তবে শাখা ও উপশাখাগুলোতে নগদ টাকার রিকুইজিশন পাঠানো, বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে নগদ টাকার জোগান নিশ্চিত করা এবং ঝুঁকিমুক্ত ক্যাশ ব্যবস্থাপনাসহ সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে কয়েক দিন সময় প্রয়োজন। সেজন্য ৭ সেপ্টেম্বর থেকে পুরোদমে আমানতের টাকা ফেরত দেওয়া শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা যায়।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, 'ব্যাংক রেজল্যুশন স্কিম, ২০২৫'-এর আওতায় কোনো অ-প্রাতিষ্ঠানিক অর্থাৎ সাধারণ ও ব্যক্তি শ্রেণির আমানতকারী তার চলতি ও সঞ্চয়ী হিসাবের স্থিতি এবং মেয়াদি হিসাবের শুধু আসল অর্থ উত্তোলন করতে চাইলে হস্তান্তরগ্রহীতা ব্যাংককে তা পরিশোধ করতে হবে।
অর্থাৎ, গ্রাহক নিজস্ব তহবিল থেকে হস্তান্তরকারী ব্যাংকে যে অর্থ জমা রেখেছিলেন, সেই মূল টাকা তুলতে পারবেন। ওই আমানতের বিপরীতে প্রাপ্য বা অর্জিত মুনাফা এ সুবিধার আওতায় পাওয়া যাবে না।
তবে এ সুবিধা নেওয়ার ক্ষেত্রে শর্ত রয়েছে। কোনো আমানতকারী মূল টাকা উত্তোলনের সুবিধা নিলে সেটিকে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসির পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট আমানতকারীর পূর্ণ ও চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হিসেবে গণ্য করা হবে। পরবর্তী সময়ে ওই হিসাবের বিপরীতে আর কোনো দাবি গ্রহণযোগ্য হবে না।
আরও জানানো হয়, ব্যাংকের আল-ওয়াদিয়া চলতি হিসাব, মুদারাবা সঞ্চয়ী এবং বিভিন্ন মেয়াদি হিসাব (যেমন-এমটিডিআর ও ডিপিএস) থেকে গ্রাহকরা তাদের জমানো মূল টাকা তুলে নিতে পারবেন। তবে যেসব গ্রাহক হিসাব বন্ধ না করে চালু রাখবেন, তারা চুক্তি অনুযায়ী পূর্বনির্ধারিত হারে যথারীতি মুনাফা পেতে থাকবেন। পরবর্তী সময়ে ব্যাংকের সার্বিক কার্যক্রম পূর্ণমাত্রায় চালু হলে মুনাফাসহ যেকোনো পরিমাণ অর্থ জমা ও উত্তোলনের সুযোগ মিলবে।
