সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের ঋণ আদায় ও পুনর্গঠন কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকে সভা
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি'র ঋণ আদায়, পুনর্গঠন ও সার্বিক কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনার লক্ষ্যে আজ ২৭ আগস্ট ২০২৬ সকাল ১১টায় বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে ব্যাংক রেজুলেশন ডিপার্টমেন্ট (বিআরডি)-এর একটি বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সভায় ব্যাংকটির একীভূতকরণ (মার্জার) ও পুনর্গঠন, পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা পুনর্গঠন, মানবসম্পদ সমন্বয়, শাখা একীভূতকরণ এবং আইটি ও অপারেশনাল ইন্টিগ্রেশনের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। এসব কার্যক্রম বাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্যোগ ও তত্ত্বাবধানে বাস্তবায়িত হচ্ছে এবং বিআরডি নিয়মিতভাবে এর অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ ও ফলোআপ করছে।
সভায় জানানো হয়, আমানতকারীদের স্বার্থ সংরক্ষণে খেলাপি ঋণ আদায়ে গুরুত্বারোপ করে ব্যাংকটি ইতোমধ্যে প্রায় ১০ হাজার মামলা দায়ের করেছে এবং আরও মামলা করার প্রক্রিয়া চলছে। ঋণ আদায়ে প্রচলিত আইনগত ব্যবস্থার পাশাপাশি এক্সিট পলিসি ও অল্টারনেটিভ ডিসপিউট রেজুলেশন (এডিআর)-সহ সমঝোতাভিত্তিক বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
একই সঙ্গে পূর্ববর্তী মালিকানা ও ব্যবস্থাপনার সময়ে সংঘটিত অনিয়ম, দুর্নীতি, ঋণ জালিয়াতি ও সম্পদ অপব্যবহারের সঙ্গে জড়িত দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করতে পরিচালিত ফরেনসিক
অডিট চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
গত ছয় মাসে ব্যাংকটির পুনর্গঠন ও সংস্কারের লক্ষ্যে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম গ্রহণ ও ফলোআপ করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে স্বতন্ত্র পরিচালকদের প্রাধান্য দিয়ে ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন করা হয়েছে এবং গত ১৬ জুলাই ২০২৬ তারিখ থেকে নতুন চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার (সিইও) নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া প্রায় ১৬ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারীর পদমর্যাদা, দায়িত্ব ও সাংগঠনিক কাঠামোর মধ্যে প্রয়োজনীয় সমন্বয়ের কাজ চূড়ান্ত করা হয়েছে। পাঁচটি ব্যাংকের কার্যক্রমকে একটি সমন্বিত কাঠামোর আওতায় আনার লক্ষ্যে কোর ব্যাংকিং সিস্টেম (সিবিএস), সুইফট ও আরএমএ-সহ আইটি অবকাঠামো একীভূতকরণের কাজও দ্রুত এগিয়ে চলছে। আমানতকারীরা যাতে এই পাঁচটি ব্যাংকের যেকোনো শাখা থেকেই নিজেদের আমানতের অর্থ উত্তোলন করতে পারেন, সে জন্য একটি কমন ইন্টারফেস চালুর কাজ শীঘ্রই সম্পন্ন করা হয়েছে। পাশাপাশি শাখার অবস্থান, ব্যবসায়িক সম্ভাবনা, গ্রাহকসেবা ও পরিচালন ব্যয় বিবেচনায় নিয়ে ৭৮০টি শাখা এবং ১,৫০০টি বিজনেস ইউনিটের মার্জার, রেশনালাইজেশন ও অপারেশনাল ইন্টিগ্রেশনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
পাশাপাশি, বাংলাদেশ ব্যাংক সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি'র কার্যক্রমের ওপর নিবিড় নজর রাখছে। ব্যাংকটির পুনর্গঠন, ঋণ আদায়, মামলা নিষ্পত্তি, মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা, শাখা ও বিজনেস ইউনিট একীভূতকরণ এবং প্রযুক্তিগত ইন্টিগ্রেশনের অগ্রগতি বিআরডি নিয়মিতভাবে পর্যালোচনা করছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রত্যাশা, এসব সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে ব্যাংকটির সুশাসন, পরিচালন দক্ষতা ও আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে, ঋণ আদায় ত্বরান্বিত হবে, পরিচালন ব্যয় হ্রাস পাবে এবং ব্যাংকের আটকে থাকা অর্থ পুনরায় দেশের উৎপাদনশীল খাতে প্রবাহিত করা সম্ভব হবে।
৩৫ হাজার কোটি টাকা মূলধন সমৃদ্ধ রাষ্ট্র-মালিকানাধীন বাংলাদেশের বৃহত্তম শরিয়াহভিত্তিক ইসলামী ব্যাংক হিসেবে যাত্রা শুরু করা সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি'র সম্পদ ও আমানত ব্যবস্থাপনার স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সুশাসন নিশ্চিত করা বাংলাদেশ ব্যাংকের অন্যতম অগ্রাধিকার বলে জানানো হয়েছে।
