রিজার্ভ চুরির মামলা পরিচালনায় নিয়োজিত মার্কিন আইনি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করল বাংলাদেশ ব্যাংক
বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে দায়ের করা মামলা পরিচালনায় নিয়োজিত মার্কিন আইনি প্রতিষ্ঠান কোজেন ও'কনর-এর সঙ্গে চুক্তি বাতিল করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে মামলায় মার্কিন আইনি প্রতিষ্ঠান ব্রাউন, নেরি, স্মিথ & খান এলএলপি (বিএনএসকে), বাংলাদেশি আইনি প্রতিষ্ঠান এসআইএ & এসোসিয়েটস ও যুক্তরাজ্যের আইনি প্রতিষ্ঠান কিস্টোন ল মামলা পরিচালনায় নিয়োজিত থাকবে।
আজ রোববার বাংলাদেশ ব্যাংকের বোর্ড সভায় সদস্যদের সম্মতিক্রমে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান।
সভায় যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে দায়ের করা মামলায় ইতিপূর্বে আইনি সহায়তা দেওয়া প্রতিষ্ঠান কোজেন ও'কনর-এর বিল পরিশোধের বিষয়টিও চূড়ান্ত অনুমোদন হয়। একই সঙ্গে এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আইনি সহায়তা চুক্তি বাতিলের সিদ্ধান্তও সভায় গৃহীত হয়।
এর আগে, ২০১৬ সালে নিউইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে রক্ষিত বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব থেকে অজ্ঞাত হ্যাকাররা প্রায় ১০ কোটি ১০ লাখ ডলার হাতিয়ে নেয়। এর মধ্যে ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার ফিলিপাইনের কয়েকটি হিসাবে যায় এবং ২ কোটি ডলার শ্রীলঙ্কায় পাঠানো হয়। শ্রীলঙ্কায় পাঠানো অর্থের লেনদেন বানান ভুলের কারণে আটকে যায়। বাংলাদেশ পরে বিভিন্ন উদ্যোগে চুরি যাওয়া অর্থের একটি অংশ উদ্ধার করতে সক্ষম হয়।
চুরি যাওয়া অর্থের বড় অংশ উদ্ধারের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক যুক্তরাষ্ট্রে আইনি পদক্ষেপ নেয়। এ মামলায় কোজেন ও'কনর বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষে কাজ করে আসছিল।
সংশ্লিষ্ট নথি অনুযায়ী, মার্কিন এই আইনি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি বাতিল হলেও মামলায় বাংলাদেশ ব্যাংকের আইনি কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হচ্ছে না। বিএসএনকে ও কিস্টোন ল মামলা পরিচালনায় সহায়তা অব্যাহত রাখবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা শাখার (বিএফআইইউ) এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা টিবিএসকে বলেন, "কোজেন ও'কনর আমাদের রিজার্ভ চুরির মামলায় ঐচ্ছিক আইনি সহায়তা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ছিল। বর্তমানে তাদের সহায়তা অতটা জরুরি না হওয়ায় আমরা চুক্তি বাতিল করেছি। তবে আমাদের অন্য প্রতিষ্ঠানগুলো মামলাটি চলমান রাখবে।"
তিনি আরও বলেন, "যেহেতু আমাদের দেশের টাকা চুরি করে নেওয়া হয়েছে এবং এর স্পষ্ট প্রমাণ রয়েছে, তাই এই মামলায় আমরা জয়ী হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। ইতিপূর্বে আমাদের প্রতিপক্ষ গোষ্ঠী চুরি হওয়া অর্থের অর্ধেক দিয়ে মামলাটি নিষ্পত্তির জন্য আলোচনা করার চেষ্টা করেছিল। আমরা আমাদের পুরো টাকা সুদসহ চেয়েছি।"
