ফের যন্তর মন্তরের মতো আন্দোলনের হুঁশিয়ারি ককরোচ জনতা পার্টির, কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে ‘বিশ্বাসঘাতকতার’ অভিযোগ
ভারতের রাজধানী দিল্লির যন্তর মন্তরে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন বন্ধ করতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো কেন্দ্রীয় সরকারকে অবিলম্বে পূরণ করার আহ্বান জানিয়েছেন সংগঠনটি।
অনলাইন প্ল্যাটফর্ম থেকে প্রেসার গ্রুপে রূপ নেওয়া এই সংগঠনটি দেশের তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে প্রতারণা এবং তাদের আস্থা ভঙ্গের অভিযোগ তুলেছে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে।
এক বিবৃতিতে সিজেপি জানিয়েছে, শান্তিপূর্ণ আন্দোলন বন্ধ করতে প্রতিশ্রুতি দিয়ে রাজপথ খালি হওয়ার পর সেই প্রতিশ্রুতি থেকে সরে যাওয়ার চেষ্টা করে সরকার একটি পুরো প্রজন্মকে অপমান করতে পারবে না। ভারতের তরুণদের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অবশ্যই অক্ষরে অক্ষরে এবং আন্তরিকতার সঙ্গে পালন করতে হবে।
আদালতে এখনও তালিকা জমা দেয়নি সরকার
বিবৃতিতে সিজেপি উল্লেখ করেছে যে, যেসব শিক্ষার্থী বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে এফআইআর রুজু করা হয়েছিল, তা বাতিলের বিষয়ে আদালতের বারবার নির্দেশ সত্ত্বেও সরকার এখন পর্যন্ত কোনো তালিকা জমা দেয়নি।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, 'কেন্দ্রীয় সরকার এই তালিকা দেওয়ার বিষয়ে কোনো সদুত্তর দেয়নি। এর পরপরই অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে সিজেপির সহ-আহ্বায়ক সৌরভ দাস এবং আইনি বিষয়াবলির প্রধান রত্না সিং সতর্ক করে বলেন, যৌথ সংবাদ সম্মেলনে গৃহীত অঙ্গীকারের ভিত্তিতে আমাদের আন্দোলন স্থগিত করানোর পর, কেন্দ্র এখন দেশের তরুণ প্রজন্মকে প্রতারিত করার চেষ্টা করছে বলে মনে হচ্ছে।'
সংগঠনটি আরও বলেছে, এখন যদি দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলোকে খাটো করা, বিলম্বিত করা, ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করা বা অমান্য করার চেষ্টা করা হয়, তবে তা হবে অগ্রহণযোগ্য প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ এবং এ দেশের তরুণদের সঙ্গে সরাসরি বিশ্বাসঘাতকতা।
কর্মসূচির হুঁশিয়ারি সিজেপির
ককরোচ জনতা পার্টি জানিয়েছে, তাদের পরবর্তী কর্মপন্থা নির্ধারণের জন্য তারা ২৪ আগস্ট এক বৈঠকে বসবে এবং সেখান থেকে আবারও নতুন আন্দোলনের ঘোষণার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
সংগঠনটি বলেছে, 'আমরা সারা দেশের শিক্ষার্থী, তরুণ নাগরিক, সমর্থক ও সিজেপির স্বেচ্ছাসেবকদের ২৪ আগস্ট পরবর্তী কর্মসূচির জন্য প্রস্তুত থাকার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি।
সংগঠনটি আরও জানিয়েছে, প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নে নেওয়া পদক্ষেপের বিষয়ে সরকার পক্ষের কোনো প্রতিনিধি তাদের দলের সঙ্গে এখনো যোগাযোগ করেনি। এসব প্রতিশ্রুতির মধ্যে আত্মহত্যা করা নিট পরীক্ষার্থীদের পরিবারের জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণও অন্তর্ভুক্ত ছিল।
সিজেপি স্পষ্ট করে বলেছে, আমাদের আন্দোলনের ফলেই শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন। তবে নিশ্চিত থাকুন, তরুণ প্রজন্মের কাছে দেওয়া প্রতিটি প্রতিশ্রুতি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আমরা থামব না।'
উল্লেখ্য, ককরোচ জনতা পার্টি গত ২৫ জুলাই এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা বিক্ষোভের সমাপ্তি ঘোষণা করে জানায়, সরকার তাদের সব দাবি মেনে নিয়েছে।
সিজেপির দাবি অনুযায়ী, সরকার যে তিনটি মূল শর্তে সম্মত হয়েছিল সেগুলো হলো—
প্রথমত, নিট প্রশ্নফাঁস কেলেঙ্কারির ঘটনায় যেসব শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন, তাদের পরিবারকে সর্বোচ্চ সম্ভব ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করবে সরকার।
দ্বিতীয়ত, কেন্দ্রীয় সরকার এবং এনডিএ (ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স)-শাসিত রাজ্য সরকারগুলোর পক্ষ থেকে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সমস্ত আইনি পদক্ষেপ ও এফআইআর প্রত্যাহার করা হবে এবং ভবিষ্যতে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে না।
তৃতীয়ত, সিজেপির জমা দেওয়া পাঁচ দফা পরীক্ষা সংস্কার সনদ পর্যালোচনা করবে সরকার এবং প্রস্তাবিত সংস্কারগুলো বাস্তবায়ন ও পর্যালোচনার জন্য সিজেপি প্রতিনিধিদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলোচনায় বসবে।
