ইমরান খানের ‘যথাযথ চিকিৎসা’ নিশ্চিতের আহ্বান গাভাস্কার, গিলক্রিস্ট, কুকসহ ২১ সাবেক অধিনায়কের
পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও কিংবদন্তি ক্রিকেটার ইমরান খান কারাগারে 'যথাযথ চিকিৎসা' পাচ্ছেন কি না, তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন বিশ্বের কয়েকজন সাবেক ক্রিকেট অধিনায়ক। পাকিস্তানের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফকে লেখা এক চিঠিতে উদ্বেগ জানিয়েছেন ২১ জন সাবেক অধিনায়ক।
চিঠিতে স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে ভারতের কপিল দেব, সুনীল গাভাস্কার ও দিলীপ ভেংসরকার এবং অস্ট্রেলিয়ার বেলিন্ডা ক্লার্ক, অ্যাডাম গিলক্রিস্ট, স্টিভ ওয়াহ ও কিম হিউজ রয়েছেন। ইংল্যান্ডের মাইকেল অ্যাথারটন, মাইকেল ব্রিয়ারলি, নাসের হুসেইন, অ্যান্ড্রু স্ট্রস ও ডেভিড গাওয়ার এবং স্যার অ্যালিস্টার কুকও এতে সাক্ষর করেছেন।
অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অধিনায়ক গ্রেগ চ্যাপেলের উদ্যোগে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়, 'ইমরান খানের বয়স ৭৩ বছর। তিনি এখন তিন বছরের বেশি সময় ধরে কারাগারে আছেন।'
চিঠিতে আরও বলা হয়, 'তার মামলাকে ঘিরে আইনি ও রাজনৈতিক বিতর্ক যা-ই থাকুক, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী চিকিৎসা প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন করা কোনো বিতর্কিত দাবি নয়।'
গত সপ্তাহে ইমরান খানকে মাত্র কয়েক ঘণ্টার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল বলে তারা চিঠিতে উল্লেখ করেন। সেখানে পাকিস্তান সরকারের নিয়োগ করা একটি চিকিৎসক দল তাকে পরীক্ষা করে।
চিঠিতে সাবেক অধিনায়করা তিনটি দাবি জানিয়েছেন।
প্রথমত, পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী একটি মেডিকেল বোর্ড দিয়ে ইমরান খানের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে হবে। ওই বোর্ডে তাঁর ব্যক্তিগত চিকিৎসকদেরও অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানানো হয়েছে। বিশেষ করে তার ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়ার অভিযোগটি পরীক্ষা করার কথা বলা হয়েছে।
দ্বিতীয়ত, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী ইমরান খানের পরিবারের সদস্যদের যেন কোনো বাধা বা প্রশাসনিক বিলম্ব ছাড়া প্রতি সপ্তাহে তাঁর সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হয়।
তৃতীয়ত, মেডিকেল বোর্ড যে চিকিৎসার পরামর্শ দেবে, তা যেন কোনো বিলম্ব ছাড়াই নিশ্চিত করা হয়।
এর আগে ফেব্রুয়ারিতে ইমরান খানের 'মানবিক আচরণ ও যথাযথ চিকিৎসাসেবা' নিশ্চিত করার দাবিতে করা আরেকটি আবেদনে এই ২১ জনের মধ্যে ১৪ জন সমর্থন জানিয়েছিলেন।
সে সময় ইমরানের আইনজীবী দাবি করেছিলেন, কারা কর্তৃপক্ষ সময়মতো ব্যবস্থা না নেওয়ায় তার মক্কেলের ডান চোখের মাত্র ১৫ শতাংশ দৃষ্টিশক্তি অবশিষ্ট আছে।
দুই চিঠির স্বাক্ষরকারীরাই নিজেদের 'ক্রিকেট মাঠে গড়ে ওঠা বন্ধনে আবদ্ধ সাবেক সতীর্থ ও প্রতিদ্বন্দ্বী' হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাঁদের ভাষায়, এই বন্ধন 'দেশগুলোর মধ্যে বিভেদ ও বিরোধের সীমা ছাড়িয়ে যায়।'
পাকিস্তান জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ইমরান খান ২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত দেশটির প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।
দুর্নীতির অভিযোগে ২০২৩ সালের আগস্টে তিনি কারাগারে যান। এরপর রাষ্ট্রীয় গোপন তথ্য ফাঁস থেকে রাষ্ট্রীয় উপহার বিক্রি পর্যন্ত ১০০টির বেশি মামলায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। ইমরান খান ও তাঁর দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) এসব মামলাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে আসছে।
তার কারাবাসের পর সমর্থকদের বড় ধরনের বিক্ষোভ শুরু হলে কর্তৃপক্ষ তা দমনে কঠোর পদক্ষেপ নেয়।
এদিকে, আদালতের নির্দেশ সত্ত্বেও ইমরান খানকে তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের কাছে যেতে দেওয়া হচ্ছে না—এ অভিযোগে তার দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) সরকারের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার আবেদনও করেছে।
গত মঙ্গলবার পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট ইমরান খানকে ব্যক্তিগত মালিকানাধীন একটি হাসপাতালে নিয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের দিয়ে পরীক্ষা করানোর নির্দেশ দেয়।
তবে তাকে ইসলামাবাদের একটি সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসকদের দেখানো হয়। তারা ইমরান খানকে 'চিকিৎসাগতভাবে সুস্থ' ঘোষণা করেন। এরপর তাকে আবার কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।
