ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আসছে, মিত্ররা ‘হয় আমাদের সঙ্গে, অথবা আমাদের বিপক্ষে থাকবে’: যুক্তরাষ্ট্র
ইরানের ওপর ইতিহাসের সবচেয়ে কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য করা দেশগুলোকে ওয়াশিংটনের সঙ্গে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট। বিশেষ করে ইরান থেকে বিপুল পরিমাণ তেল কেনা চীনের সহযোগিতা চেয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
বৃহস্পতিবার বেসেন্ট বলেন, ইরানের ওপর 'ইতিহাসের সবচেয়ে কঠোর নিষেধাজ্ঞা' আরোপ করা হবে। আগামী সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব নিষেধাজ্ঞার বিস্তারিত তুলে ধরবেন।
সিএনবিসিকে বেসেন্ট বলেন, 'এটি এক-দুই আঘাতের মতো। ইরানের ওপর আমাদের অবরোধ রয়েছে। এর সঙ্গে আমরা ইতিহাসের সবচেয়ে কঠোর নিষেধাজ্ঞাও দিতে যাচ্ছি।'
তিনি বলেন, 'এটি ইরানে কাজ করবে এবং আমরা এই শাসনব্যবস্থাকে ধসিয়ে দেব।'
বেসেন্ট মিত্রদের উদ্দেশে বলেন, 'এটি হবে বিশ্বের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় সমন্বিত অর্থনৈতিক বিচ্ছিন্নতা। আমরা স্পষ্ট করে বলছি, তারা (মিত্র দেশ) হয় আমাদের সঙ্গে থাকবে, অথবা আমাদের বিপক্ষে থাকবে।'
এর আগে বুধবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, ইরানকে 'যেকোনো ধরনের সহায়তা' দেওয়া দেশের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের শুরু করা প্রায় ছয় মাসের যুদ্ধ শেষ করার চেষ্টা করছে ওয়াশিংটন। এর মধ্যেই ট্রাম্প এই হুঁশিয়ারি দিলেন।
বেসেন্ট বলেন, তেলের বাজার যুক্তরাষ্ট্রের এই অর্থনৈতিক চাপের প্রভাব ঠিকভাবে বুঝতে পারছে না। বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম তিন সপ্তাহের বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছে।
তিনি বলেন, 'আমাদের কাছে এমন কিছু তথ্য আছে, যা বাজারের কাছে নেই। তাই তেলের দাম কেন বেড়েছে, তা আমি নিশ্চিত নই।'
যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের ওপর সর্বোচ্চ মাত্রার অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগ করে, তাহলে বড় ধরনের সামরিক সংঘাত আবার শুরু হওয়ার সম্ভাবনা কমে আসবে বলে মনে করেন বেসেন্ট।
ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করার কারণে চীনকেও যুক্তরাষ্ট্রের নিশানায় আনা হতে পারে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে বেসেন্ট বলেন, এ ধরনের অনেক আলোচনা প্রকাশ্যে নয়, ব্যক্তিগতভাবে করাই ভালো।
তিনি বলেন, 'মনে রাখতে হবে, চীনের জ্বালানির প্রায় ৫০ শতাংশ আসে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে। তাই এই উদ্যোগে সহযোগিতা করা চীনের জন্যও বড় সুবিধা হবে।'
বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের ২০২৫ সালের তথ্য অনুযায়ী, ইরান থেকে সমুদ্রপথে রপ্তানি হওয়া তেলের ৮০ শতাংশের বেশি কেনে চীন।
তবে যুক্তরাষ্ট্র যদি চীনের বিরুদ্ধেও আরও কঠোর অর্থনৈতিক ব্যবস্থা নেয়, তাহলে পাল্টা পদক্ষেপের ঝুঁকি রয়েছে। চীন যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বড় বাণিজ্যিক অংশীদার। গুরুত্বপূর্ণ বিরল খনিজসহ বিভিন্ন পণ্যও চীন যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি করে।
১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর থেকে প্রায় ৫০ বছর ধরে কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার মধ্যে রয়েছে ইরান। তারপরও দেশটি এসব নিষেধাজ্ঞা মোকাবিলা করে টিকে আছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি অবশ্য ট্রাম্পের মন্তব্যের সমালোচনা করেছেন। তার দাবি, ইরানের বিরুদ্ধে চাপ বাড়ানোর মাধ্যমে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক সমস্যা থেকে জনগণের দৃষ্টি সরানোর চেষ্টা করছেন। এসব সমস্যার মধ্যে রয়েছে রেকর্ড পরিমাণ ঋণ ও বাড়তে থাকা সুদের হার।
ইরানের প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদার যেসব দেশ
যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর নতুন করে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকি দেওয়ায় দেশটির প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদারদের ওপরও চাপ বাড়তে পারে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, তুরস্ক, ইরাক, ওমান, পাকিস্তান, ভারত, আর্মেনিয়া ও আজারবাইজান ইরানের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অংশীদার।
চীন
ইরানের সবচেয়ে বড় তেল ক্রেতা চীন। ইরান থেকে তেল কেনার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞার চাপ চীনের ওপরও পড়তে পারে।
গত এক দশকে চীন এমন একটি পরিশোধনব্যবস্থা গড়ে তুলেছে, যেখানে মূলত ইরানের তেল পরিশোধন করা হয়। এসব প্রতিষ্ঠানের যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ব্যবসায়িক যোগাযোগও খুব সীমিত।
পরিশোধনাগার ও ব্যবসায়ীদের তথ্য অনুযায়ী, ইরানের তেল দীর্ঘদিন ধরে মালয়েশিয়া ও সাম্প্রতিক সময়ে ইন্দোনেশিয়ার তেল হিসেবে চীনে পাঠানো হচ্ছে। এসব তেলের লেনদেন চীনা মুদ্রায় হয় এবং একাধিক মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে সম্পন্ন হওয়ায় এগুলোর গতিপথ শনাক্ত করা কঠিন।
এপ্রিলে ইরানের তেল কেনার অভিযোগে চীনের একটি স্বাধীন তেল পরিশোধনাগারের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয় যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের তেল বাণিজ্যে সহযোগিতা করলে চীনা ব্যাংকগুলোর বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেয় ওয়াশিংটন।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান বলেন, 'নিষেধাজ্ঞা ও চাপ দিয়ে সমস্যার সমাধান হবে না। সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক উপায়ে দায়িত্বশীলভাবে সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নিতে হবে।'
ইরান থেকে সমুদ্রপথে রপ্তানি হওয়া তেলের ৮০ শতাংশের বেশি চীনে যায়। কেপলারের হিসাবে, ২০২৫ সালে চীন প্রতিদিন গড়ে ১৩ লাখ ৮০ হাজার ব্যারেল ইরানি তেল কিনেছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাত
ইরানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক অংশীদার সংযুক্ত আরব আমিরাত। বিশেষ করে দুবাইয়ের ব্যাংকগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিপুল অর্থ জমা রয়েছে। তবে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে এর বড় অংশ এখন আটকে আছে।
২০২৪ সালে ইরানের মোট আমদানির ৩০ শতাংশ এসেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে। এর মূল্য ছিল ২১ বিলিয়ন ডলার। একই বছরে ইরানের মোট রপ্তানির ১৩ শতাংশের গন্তব্য ছিল আমিরাত।
আমিরাতের অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দুই দেশের অ-তেল বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ৬ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার। এর বড় অংশই ছিল পুনঃরপ্তানি।
তবে চলতি সপ্তাহে ইরানের সঙ্গে সব ধরনের আর্থিক ও অর্থনৈতিক লেনদেন পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত করেছে আমিরাত। তেহরানের সামরিক উত্তেজনা ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার হুমকির কথা উল্লেখ করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তুরস্ক
তুরস্ক ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘদিনের গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। তুরস্ক ইরান থেকে প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানি করে এবং দেশটিতে বিভিন্ন শিল্পপণ্য রপ্তানি করে।
দুই দেশের বার্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ৫ থেকে ৬ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে তুরস্কের ইরানে রপ্তানি প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলার।
তুরস্ক তার প্রয়োজনীয় প্রায় সব প্রাকৃতিক গ্যাসই আমদানি করে। এর মধ্যে ইরান থেকে আসে মোট গ্যাস আমদানির প্রায় ১৩ শতাংশ।
ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য কমানোর বিষয়ে তুরস্ক এখনো কোনো আগ্রহ দেখায়নি।
ইরাক
২০২৫ সালে ইরাক ও ইরানের বাণিজ্যের পরিমাণ ১০ বিলিয়ন ডলারের বেশি ছিল। ইরান থেকে খাদ্য, ভোগ্যপণ্যসহ বিভিন্ন পণ্য আমদানিই এই বাণিজ্যের মূল ভিত্তি।
তবে যুদ্ধ শুরুর পর ২০২৬ সালে দুই দেশের বাণিজ্য কমেছে। আঞ্চলিক নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ায় সীমান্তপথে পণ্য পরিবহনে মাঝে মাঝে বিঘ্ন ঘটছে। পরিবহন ব্যয়ও বেড়েছে।
ইরাকি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা মোহাম্মদ করিম বলেন, এসব কারণে সীমান্তপথে বাণিজ্যের পরিমাণ ও নির্ভরযোগ্যতা কমেছে। তবে ইরান ও ইরাক এখনো গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অংশীদার।
দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে জ্বালানি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ইরাক প্রতি বছর ইরানকে প্রাকৃতিক গ্যাসের জন্য প্রায় ৪ থেকে ৫ বিলিয়ন ডলার দেয়। এই গ্যাস বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়।
ইরাকের কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন, যুক্তরাষ্ট্র নতুন নিষেধাজ্ঞা দিলে ইরানকে জ্বালানির অর্থ পরিশোধ করা কঠিন হয়ে পড়তে পারে। একই সঙ্গে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়ার ঝুঁকিও তৈরি হবে।
ওমান
১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবেরও আগে থেকে ইরানের সঙ্গে ওমানের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের মধ্যে আলোচনায় ওমান প্রায়ই মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দুই দেশের বাণিজ্যও বেড়েছে। ওমানের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দুই দেশের পণ্য বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ১ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার। চলতি বছরের প্রথম চার মাসে তা ছিল ৩৪৫ মিলিয়ন ডলার।
পাকিস্তান
ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য বা সহযোগিতাকারী দেশগুলোর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ব্যবস্থা নিলে পাকিস্তানও বড় ধরনের সমস্যায় পড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
পাকিস্তান ও ইরান দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ১০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
ইরানের ওপর আগের নিষেধাজ্ঞার সময় দুই দেশের আনুষ্ঠানিক বাণিজ্য প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে অনানুষ্ঠানিক বাণিজ্যের মাধ্যমে দুই দেশের রপ্তানি-আমদানির পরিমাণ প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে বলে বেসরকারি হিসাব রয়েছে।
জুনে ইসলামাবাদে অন্তর্বর্তী চুক্তি সই হওয়ার পর দুই দেশ বাণিজ্য সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়। বহু বছর ধরে অনানুষ্ঠানিক পথে ইরান ও পাকিস্তানের মধ্যে তেল, গম, চাল, গবাদিপশু ও ওষুধের বাণিজ্য হয়ে আসছে।
ভারত
২০২০ সালে ইরানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা কঠোর হওয়ার পর ভারতের সঙ্গে দেশটির বাণিজ্য উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়।
২০১৯-২০ অর্থবছরে দুই দেশের বাণিজ্য আগের বছরের ১৭ বিলিয়ন ডলার থেকে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি কমে প্রায় ৪ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলারে নেমে আসে।
এরপরও বাণিজ্য কমতে থাকে। ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দুই দেশের বাণিজ্য ছিল ১ দশমিক ৬৩ বিলিয়ন ডলার।
এর বড় অংশই ভারতের রপ্তানি। ভারত মূলত ইরানে শস্য, চা, কফি ও মসলা রপ্তানি করে। নয়াদিল্লির কর্মকর্তারা আগে বলে আসছেন, মানবিক কারণে এসব রপ্তানি অব্যাহত রাখা উচিত এবং এগুলো নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়া উচিত নয়।
আর্মেনিয়া
২০২৫ সালে আর্মেনিয়ার মোট বাণিজ্যের ৩ দশমিক ৬ শতাংশ বা ৭৬৮ মিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য ছিল ইরানের সঙ্গে।
২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে দুই দেশের বাণিজ্য ৩৭১ দশমিক ৪ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় এটি ৮ দশমিক ৪ শতাংশ বেশি।
এই সময়ে আর্মেনিয়ার রপ্তানি ছিল ৪২ দশমিক ৮ মিলিয়ন ডলার, যা ৬ শতাংশ কমেছে। অন্যদিকে আমদানি বেড়ে হয়েছে ৩৩৬ দশমিক ৯ মিলিয়ন ডলার, যা ১২ শতাংশ বেশি।
আর্মেনিয়ার বৈদেশিক বাণিজ্যের প্রায় ২০ শতাংশ ইরানের মাধ্যমে পরিচালিত হয়।
দুই দেশের মধ্যে 'গ্যাসের বিনিময়ে বিদ্যুৎ' চুক্তিও রয়েছে। এই চুক্তির আওতায় আর্মেনিয়া ইরান থেকে গ্যাস নিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে। এরপর সেই বিদ্যুতের একটি অংশ ইরানে পাঠানো হয় এবং বাকিটা আর্মেনিয়ায় ব্যবহার করা হয়।
আজারবাইজান
২০২৬ সালের জানুয়ারি-জুন সময়ে আজারবাইজান ও ইরানের বাণিজ্য আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে ৩১২ দশমিক ৬ মিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। ২০২৫ সালের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ২৯৯ দশমিক ১ মিলিয়ন ডলার।
এই সময়ে ইরান থেকে আজারবাইজানের আমদানি ১ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে ২৯৭ মিলিয়ন ডলার হয়েছে। আগের বছরের একই সময়ে তা ছিল ২৯২ দশমিক ৭ মিলিয়ন ডলার।
অন্যদিকে, আজারবাইজানের ইরানে রপ্তানি ২ দশমিক ৪ গুণ বেড়ে ১৫ দশমিক ৬ মিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারি-জুন সময়ে এর পরিমাণ ছিল ৬ দশমিক ৪ মিলিয়ন ডলার।
আজারবাইজানের মোট আমদানিতে ইরানের অংশও বেড়েছে। ২০২৫ সালের একই সময়ে ২ দশমিক ৫৪ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে তা ৩ দশমিক ৫৬ শতাংশ হয়েছে।
