শত্রুদের বাধা সত্ত্বেও পরমাণু প্রকল্প ও বৈজ্ঞানিক অগ্রগতি অব্যাহত রাখার ঘোষণা ইরানের
ইরানের পারমাণবিক শিল্পকে ধ্বংস করতে শত্রুভাবাপন্ন শক্তির সব চেষ্টা সত্ত্বেও দেশটির পারমাণবিক প্রযুক্তি ও বৈজ্ঞানিক অগ্রগতি দৃঢ়তার সঙ্গে অব্যাহত থাকবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) ডেপুটি কমান্ডার মোস্তফা ইজাদি।
ইসলামী বিপ্লবের শহীদ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির স্মরণসভায় দেওয়া বক্তব্যে মেজর জেনারেল মোস্তফা ইজাদি বলেন, ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরানকে উৎখাত ও খণ্ডিত করার লক্ষ্য নিয়ে শত্রুপক্ষ সরাসরি সংঘাতের পথ বেছে নিয়েছিল। কিন্তু ইরানের পারমাণবিক শিল্পে তাদের প্রবেশাধিকার অর্জন ও ধ্বংস করার চেষ্টাসহ সব ফ্রন্টেই তারা চূড়ান্তভাবে ব্যর্থ হয়েছে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, "আমরা পূর্ণ শক্তি ও দৃঢ়তার সঙ্গে দেশের পারমাণবিক, বৈজ্ঞানিক ও সার্বিক উন্নয়নের পথচলা অব্যাহত রাখব।"
আইআরজিসির এই শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, শত্রুভাবাপন্ন শক্তিগুলো নানা অশুভ উদ্দেশ্য নিয়ে এগোচ্ছিল—যার মধ্যে ছিল ইরানকে দুর্বল করা, সরকার উৎখাত ও দেশকে বিভক্ত করা, পারস্য উপসাগরের তেল সম্পদ ও কৌশলগত হরমুজ প্রণালীর ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা, ইরানি-ইসলামি সভ্যতার ধ্বংস সাধন, সশস্ত্র বাহিনী ও প্রতিরোধ ফ্রন্ট'কে ভেঙে দেওয়া এবং দেশের পারমাণবিক শিল্পকে পুরোপুরি নির্মূল করা।
তবে তিনি উল্লেখ করেন, মহান আল্লাহর ওপর ভরসা এবং বিজ্ঞ নেতৃত্বের সুবাদে ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরান এই সবকটি কঠিন ও সংকটময় পরিস্থিতি সফলভাবে অতিক্রম করতে সক্ষম হয়েছে।
বিশ্ব পরিস্থিতির সাম্প্রতিক ভূরাজনৈতিক পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করে ইজাদি বলেন, বিশ্বজুড়ে যেসব বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটে চলেছে, তা মার্কিন সাম্রাজ্যবাদী ক্ষমতার ধারাবাহিক পতনেরই স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর কৌশলগত সামরিক সক্ষমতার কথা তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি, শিল্প ও অর্থনীতির ধমনী– হরমুজ প্রণালির ওপর তাদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। এর পাশাপাশি ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তির অভূতপূর্ব উন্নয়ন এবং আধুনিক বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার দ্রুত অগ্রগতি এক "অসাধারণ প্রতিরোধ ক্ষমতা" (ডিটারেন্স) তৈরি করেছে, যা প্রতিপক্ষকে সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় করেছে এবং রক্ষণাত্মক অবস্থান নিতে বাধ্য করেছে।
