টোকিওর বাইরে দ্বিতীয় রাজধানী স্থাপনের পরিকল্পনা অনুমোদন দিল জাপান
টোকিওর বাইরে 'দ্বিতীয় রাজধানী' স্থাপনের লক্ষ্যে একটি পরিকল্পনা অনুমোদন দিয়েছে জাপানের পার্লামেন্ট। বড় ধরনের কোনো দুর্যোগে টোকিও অচল হয়ে পড়লেও যাতে দেশের প্রশাসনিক কাজ ও অর্থনীতি সচল রাখা যায়, সেজন্যই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের ওপর টোকিওর দীর্ঘদিনের একচেটিয়া প্রভাব কমানোরও একটি চেষ্টা এটি।
নতুন এই আইনে সরকারের কিছু গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর অন্যত্র স্থানান্তর এবং কর-প্রণোদনার মাধ্যমে টোকিও শহরের মতো আরেকটি অর্থনৈতিক কেন্দ্র গড়ে তোলার কথা বলা হয়েছে। এক্ষেত্রে ওসাকা সবচেয়ে সম্ভাবনাময় স্থান হিসেবে এগিয়ে রয়েছে। তবে বাস্তবতা হলো, বহু প্রতিষ্ঠান এখনও ওসাকা ছেড়ে টোকিওমুখী হচ্ছে। তাই দ্বিতীয় রাজধানী ঘোষণা করা যতটা সহজ, বাস্তবে সেটিকে শক্তিশালী অর্থনৈতিক কেন্দ্রে পরিণত করা ততটাই কঠিন হতে পারে।
অর্থনীতির দিক থেকে টোকিওর পরেই ওসাকার অবস্থান। ২০২২ অর্থবছরে ওসাকা প্রিফেকচারের নামমাত্র জিডিপি ছিল ৪৩.১২ ট্রিলিয়ন ইয়েন (প্রায় ২৬৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার)। এখানে রয়েছে কানসাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং টোকিও থেকে জাপানের দক্ষিণাঞ্চল পর্যন্ত চলাচলকারী শিনকানসেন বুলেট ট্রেনের মতো যোগাযোগব্যবস্থা।
টেইকোকু ডেটাব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ১৪৯টি কোম্পানি ওসাকায় গেলেও ২২৬টি প্রতিষ্ঠান সেখান থেকে অন্যত্র চলে গেছে। সে হিসাবে টানা ৪৪ বছর ধরে ওসাকা থেকে কোম্পানিগুলোর অন্যত্র স্থানান্তর অব্যাহত রয়েছে। যেসব প্রতিষ্ঠান ওসাকা ছেড়েছে, তাদের ২৪.৩ শতাংশই গিয়েছে টোকিওতে।
কিয়োটো ইনস্টিটিউট অব ইকোনমিক রিসার্চের অধ্যাপক তোমোয়া মোরির মতে, 'ওসাকায় প্রধান কার্যালয় রাখার তেমন কোনো উপকার নেই।'
তিনি বলেন, উন্নত রেল যোগাযোগ ও ইন্টারনেটের বিস্তৃতির ফলে টোকিও ও ওসাকার ভৌগোলিক দূরত্বের গুরুত্ব কমে গেছে। এর ফলে ব্যবসা ও জনসংখ্যা—উভয় ক্ষেত্রেই ওসাকা থেকে টোকিওমুখী হওয়ার প্রবণতা বেড়েছে।
নতুন আইনে বলা হয়েছে, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে দ্বিতীয় রাজধানীতে স্থানান্তরে উৎসাহ দিতে সরকার কর-সুবিধা দেবে এবং সেখানে বিভিন্ন সরকারি সংস্থার কার্যালয়ও স্থাপন করবে।
তবে অধ্যাপক মোরির মতে, এসব প্রণোদনার প্রভাব আহামরি হবে না। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) বিস্তারের ফলে কম জনবল দিয়েও প্রতিষ্ঠান পরিচালনা সম্ভব হবে। তাই একাধিক স্থানে অফিস রাখার প্রয়োজন কমে যাবে এবং করপোরেট কার্যক্রম শেষ পর্যন্ত 'অবশ্যম্ভাবীভাবে টোকিওতেই কেন্দ্রীভূত হবে'।
কিয়োটোর দোশিশা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ইউ নোদা মনে করেন, দেশের উন্নয়নকে বিকেন্দ্রীকরণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তার ভাষায়, 'আঞ্চলিক এলাকাগুলো যদি ধসে পড়ে, তবে টোকিও শেষ পর্যন্ত টিকতে পারবে না।'
নোদার মতে, দ্বিতীয় রাজধানী ঘোষণার ফলে বিশেষ করে উৎপাদন ও প্রযুক্তির মতো বৈশ্বিক বাজারমুখী শিল্পের কোম্পানিগুলো স্থানান্তরে আগ্রহী হতে পারে। এতে ওসাকাও উপকৃত হবে।
