ইতালির সৈকতে ১০ থেকে ৬৫ বছর বয়সীদের ছাতা ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা
জরুরি পরিস্থিতিতে নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে ইতালির সার্ডিনিয়া দ্বীপের অন্যতম জনপ্রিয় সমুদ্রসৈকত পুন্তা মোলেন্তিসে ১০ থেকে ৬৫ বছর বয়সীদের জন্য ছাতা ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে কর্তৃপক্ষ।
বিশ্বের অধিকাংশ স্থানে রোদ থেকে সুরক্ষা ও ত্বকের ক্যানসার প্রতিরোধকে গুরুত্ব দেওয়া হলেও, ইতালির দক্ষিণ উপকূলে অবস্থিত এই সৈকতে চলতি গ্রীষ্মে ছায়ার ব্যবস্থা সীমিত থাকবে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শুধু ১০ বছর বা তার কম বয়সী শিশুদের পরিবার এবং ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সীদের একটি করে ছাতা আনার অনুমতি দেওয়া হবে। অন্যদের জন্য ছাতা বা যেকোনো ধরনের ছায়া তৈরির সরঞ্জাম স্থাপন নিষিদ্ধ।
ব্যাপকভাবে সমালোচিত এই পদক্ষেপটি ছাড়াও কর্তৃপক্ষ আরও কিছু নতুন নিয়ম চালু করছে। আগামী ৫ জুন থেকে অক্টোবরের শেষ পর্যন্ত এই সৈকতে প্রবেশের জন্য পর্যটকদের ১০ ইউরো (১১.৫০ ডলার) ফি দিতে হবে। তবে প্রতিবন্ধী ব্যক্তি এবং তাদের সহযোগীরা এই ফি থেকে অব্যাহতি পাবেন।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত অধ্যাদেশ অনুযায়ী, 'সৈকতে ছাতা, গেজেবো (এক ধরনের ছাউনি), তাঁবু বা অন্য কোনো ছায়াদানকারী ব্যবস্থা স্থাপন করা নিষিদ্ধ।' এতে আরও বলা হয়েছে, 'শুধুমাত্র ১০ বছর পর্যন্ত বয়সী শিশু থাকা পরিবার এবং ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী ব্যক্তিদের জন্য একটি বড় ছাতা ব্যবহারের অনুমতি থাকবে।'
সমুদ্রসৈকতে আসা দর্শনার্থীদের মধ্যে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক ক্ষোভ ও বিদ্রূপ দেখা দিয়েছে। কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, রোদ থেকে বাঁচতে হলে কি এখন সন্তান জন্ম দিতে হবে? আবার কেউ পৌরসভার ওয়েবসাইটে মন্তব্য করেছেন, 'দারুণ! সৈকতে একটি সুন্দর দিন কাটাতে গিয়ে ২০ ঘণ্টা বার্ন ইউনিটে থাকতে হবে। আমার মনে হয় তারা আগেও এই অধ্যাদেশ কার্যকরের চেষ্টা করেছিল এবং তাতেই তাদের মস্তিষ্ক বিকল হয়ে গেছে।'
তবে ভিলাসিমিয়ুস পৌর কর্তৃপক্ষ বলছে, তাদের সামনে আর কোনো বিকল্প ছিল না। গত বছর এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের পর নৌকায় করে কয়েক ডজন মানুষকে সৈকত থেকে সরিয়ে নিতে হয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতার পরই ছাতা ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে।
কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, সৈকতে অতিরিক্ত ভিড় এবং বিপুল সংখ্যক ছাতা থাকায় স্থলপথে লোকজনকে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি।
ভিলাসিমিয়ুস পৌরসভার এক মুখপাত্র সিএনএনকে বলেন, 'মূলত ওই অগ্নিকাণ্ড এবং অসংখ্য ছাতার কারণে সৈকত খালি করতে যে সমস্যায় পড়তে হয়েছিল, সেটিই এই নিয়ম চালুর প্রধান কারণ।'
তিনি বলেন, এলাকাটিতে বাণিজ্যিক বিচ ক্লাব পরিচালনার অনুমতি নেই। ফলে দর্শনার্থীরা নিজেদের ছাতা পাশাপাশি বসিয়ে পুরো সৈকতজুড়ে জায়গা দখল করে নেন। এতে চলাচলের পথ সংকুচিত হয়, দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ে এবং সমুদ্রের দৃশ্যও আংশিকভাবে আড়াল হয়ে যায়।
ইতালিতে সৈকত ব্যবস্থাপনা বরাবরই বেশ নিয়ন্ত্রিত। দেশটির জনপ্রিয় বিচ ক্লাবগুলোতে সারিবদ্ধভাবে সাজানো ছাতা ও চেয়ার ভাড়া দেওয়া হয়। একটি ছাতা ও চেয়ার ব্যবহারের জন্য দিনে ১০০ থেকে ৫০০ ইউরো পর্যন্ত খরচ হতে পারে। মৌসুমজুড়ে নির্দিষ্ট জায়গা সংরক্ষণ করতে গেলে ব্যয় আরও অনেক বেশি।
এসব সৈকতে দর্শনার্থীর সংখ্যা সীমিত রাখা হয় এবং সাধারণত নিজস্ব চেয়ার বা তাঁবু স্থাপনের অনুমতি দেওয়া হয় না। তবে দেশের উপকূলজুড়ে বেসরকারি বিচ ক্লাবগুলোর বাড়তি দখলদারিত্ব নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক চলছে।
রোমের উপকূলবর্তী ওস্তিয়ার বেশ কয়েকটি সৈকতও এ বছর বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের মতে, কিছু প্রতিষ্ঠান হয় যথাযথ ফি পরিশোধ করছে না, নয়তো সরকারি সৈকতে ব্যবসা পরিচালনার বৈধ অনুমতি তাদের নেই।
ইতালির বিভিন্ন উপকূলীয় অঞ্চলে সৈকত রক্ষায় আরও কিছু কঠোর নিয়ম চালু রয়েছে। সার্ডিনিয়ার অনেক সৈকত থেকে বালু নিয়ে যাওয়া আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ, যার জন্য কয়েক হাজার ডলার পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। কোথাও কোথাও তোয়ালের পরিবর্তে খড়ের মাদুর ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়, যাতে বালু অনিচ্ছাকৃতভাবে সৈকতের বাইরে চলে না যায়।
অতিরিক্ত ভিড় নিয়ন্ত্রণে অনেক সৈকতে অবস্থানের সময়ও সীমিত করে দেওয়া হয়েছে। কিছু এলাকায় নৌকায় আসা পর্যটকরা সর্বোচ্চ ৯০ মিনিট থাকতে পারেন, আবার কোথাও আগে থেকেই অনলাইনে অর্থ পরিশোধ করে জায়গা সংরক্ষণ করতে হয়।
