চীনের সাথে অংশীদারত্বে ট্রাম্পের প্রচেষ্টা: ভারতে বাড়ছে উদ্বেগ
গত সপ্তাহে বেইজিংয়ে সামরিক গার্ড অব অনার, পতাকা হাতে স্কুলশিক্ষার্থীদের অভিবাদন এবং রাষ্ট্রীয় নৈশভোজের ফাঁকে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির প্রধান শি জিনপিংয়ের ভূয়সী প্রশংসা করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি শি জিনপিংকে একজন "মহান নেতা" এবং "বন্ধু" হিসেবে অভিহিত করেন।
ট্রাম্প বলেন, তাঁরা দুজনে মিলে "একটি চমৎকার ভবিষ্যতের" দিকে এগিয়ে যাবেন।
চীন সফর শেষে এশিয়ার অন্য কোনো দেশে না গিয়ে—সরাসরি দেশে ফিরে যান ট্রাম্প। এই সফর চলাকালীন এবং পরবর্তী সময়ে দেওয়া সাক্ষাৎকারগুলোতে এ অঞ্চলে মার্কিন মিত্র বা অংশীদারদের বিষয়ে কোনো আশ্বস্তকারী মন্তব্য করেননি তিনি। তবে তিনি জানান যে, তাইওয়ানের কাছে অস্ত্র বিক্রির বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করবেন; তাঁর এই মন্তব্য পুরো এশিয়াজুড়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে এবং আমেরিকার নিরাপত্তা প্রতিশ্রুতির বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
এই পরিস্থিতিতে ভ্রু কুঁচকেছেন ভারতের নেতারাও।
এশিয়ার বিষয়ে ট্রাম্পের দৃষ্টিভঙ্গি সরাসরি তাঁর মুখ থেকে শোনার সুযোগ পায়নি ভারত। তার পরিবর্তে, বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশটিতে প্রথম সফরে আসা মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে আতিথেয়তা দিচ্ছে দিল্লি। রুবিও'র চার দিনের এই সফরে রুদ্ধদ্বার কূটনীতি গুরুত্ব পাচ্ছে। আজ শনিবার দিল্লিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাথে বৈঠকের মাধ্যমে যা শুরু হয়েছে।
ট্রাম্পের সাথে বেইজিংয়ে গিয়েছিলেন রুবিও। ভারতে সফরের পুরোটা সময়জুড়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রশাসনের এশিয়া নীতি ব্যাখ্যা করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষত যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের অংশীদার হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন এবং চীনের বিষয়ে নিরাপত্তা উদ্বেগকে খাটো করে দেখছেন বলে মনে করা হচ্ছে।
তাই পররাষ্ট্রমন্ত্রী কেবল ভারতীয় কর্মকর্তাদের সাথেই বৈঠক করবেন না, বরং জাপান ও অস্ট্রেলিয়ার শীর্ষ কূটনীতিকদের সাথেও বসবেন, যাঁরা 'কোয়াড' নিরাপত্তা জোটের একটি সম্মেলনে যোগ দিতে আগামী মঙ্গলবার দিল্লি আসছেন।
তাছাড়া, রুবিও মূলত ভারতে এসেছেন ট্রাম্পের তৈরি করা সংকট দূর করতে। গত গ্রীষ্মে প্রধানমন্ত্রী মোদি মার্কিন প্রেসিডেন্টকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনীত করতে অস্বীকৃতি জানানোর পর—উচ্চ শুল্ক আরোপ করে ভারতের অর্থনীতিকে পঙ্গু করার চেষ্টা করেছিলেন ট্রাম্প। ট্রাম্পের দাবি ছিল, ভারত ও পাকিস্তান একে অপরের ওপর মারাত্মক সামরিক হামলা চালানোর পর দুই দেশকে যুদ্ধবিরতিতে রাজি করাতে তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। কিন্তু, ভারত এই বয়ান গ্রহণ না করাতেই বাঁধে বিপত্তি।
এখন দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে নতুন এক টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে: ইরান-বিরোধী মার্কিন-ইসরায়েলি যুদ্ধে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ভূমিকা রাখার জন্য পাকিস্তানি নেতাদের প্রশংসা করেছেন ট্রাম্প। ভারত ও চীনের প্রতি ট্রাম্পের এই দৃষ্টিভঙ্গি বাইডেন প্রশাসন, এমনকি ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের প্রশাসনের অনুসৃত নীতির সম্পূর্ণ বিপরীত।
২০০০-এর দশক থেকে শুরু করে, রিপাবলিকান এবং ডেমোক্র্যাট উভয় দলের নীতি-নির্ধারকরাই ভারতের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের ওপর জোর দিয়েছিলেন। যার উদ্দেশ্য ছিল চীনের প্রভাব মোকাবেলায় একটি অংশীদার নিশ্চিত করা এবং নিরাপত্তার জন্য রাশিয়ার ওপর দিল্লির নির্ভরতা কমিয়ে আনা।
ট্রাম্প সেই নীতিকে পুরোপুরি উল্টে দিয়েছেন। আর এর একটি আশ্চর্যজনক পরিণতি হলো, মার্কিন সমর্থনের আকস্মিক ঘাটতি দেখে ভারতীয় কর্মকর্তারা এখন চীনের সাথে সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য আরও বেশি চেষ্টা চালাচ্ছেন।
বেইজিংয়ে বসবাসরত এবং ভারত-চীন সম্পর্ক বিষয়ক একটি বইয়ের লেখক অনন্ত কৃষ্ণন বলেন, "ভারত-মার্কিন সম্পর্কের বর্তমান গতিপথ এবং যেভাবে সম্পর্কের অবনতি হয়েছে, তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ রয়েছে।"
তিনি আরও বলেন, "যদিও আমি বিশ্বাস করি প্রতিরক্ষা এবং প্রযুক্তির মতো ক্ষেত্রগুলোতে উভয় পক্ষের তৈরি করা গভীর সম্পর্কের মধ্যে একটি স্থিতিস্থাপকতা রয়েছে, তবুও এই অঞ্চলে ভারতকে একটি প্রধান অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করার চেনা বয়ানটি যেভাবে বদলে গেছে, তা বেশ চমকপ্রদ।"
বেইজিংয়ে ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সম্পর্ককে "দুটি মহান দেশ" বা "জি-২" হিসেবে অভিহিত করার বিষয়টি লক্ষ করেছেন ভারতীয় কর্মকর্তারা।
আসলে চীন ও রাশিয়ার নেতাদের প্রতি ট্রাম্পের এক ধরনের পক্ষপাত বা আকর্ষণ দীর্ঘদিনের। তিনি একনায়কতান্ত্রিক বা কর্তৃত্ববাদী নেতাদের প্রতি প্রায়ই মুগ্ধতা প্রকাশ করেন, যার মধ্যে কখনোবা বাহ্যিক অবয়বের প্রশংসাও থাকে। ফক্স নিউজের ওই সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, প্রায় ছয় ফুট লম্বা শি জিনপিংকে দেখতে যেন 'সেন্ট্রাল কাস্টিং' থেকে উঠে আসা কোনো চরিত্রের মতো (সিনেমার অভিনেতার মতো একদম মানানসই)। তিনি যোগ করেন: "তার মতো কোনো মানুষকে আপনি খুঁজে পাবেন না।"
অনেক বিশেষজ্ঞ মোদির শাসনব্যবস্থাকে কর্তৃত্ববাদী বললেও, তিনি একটি গণতান্ত্রিক দেশের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের দিনগুলোতে, এই জনতোষণবাদী (পপুলিস্ট) ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী যেন ট্রাম্পের মন জয় করে নিয়েছিলেন। ২০২০ সালে মোদি ভারতের একটি ১ লাখ ১০ হাজার ধারণ ক্ষমতার ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ট্রাম্পের জন্য নির্বাচনী প্রচারণার আদলে একটি বিশাল সমাবেশের আয়োজন করেছিলেন, যা ছিল হিউস্টনে মোদির জন্য আয়োজিত "হাউডি মোদি!" সমাবেশের মতোই এক জমকালো আয়োজন। সে সময় আহমেদাবাদে ট্রাম্প বলেছিলেন, "আজ থেকে ভারত আমাদের হৃদয়ে সবসময় একটি বিশেষ স্থান দখল করে রাখবে।"
কিন্তু গত জুনে এক ফোনালাপে মোদি জোর দিয়ে বলেন, ভারত ও পাকিস্তান ট্রাম্পের কোনো সাহায্য ছাড়াই নিজেদের মধ্যকার সংকট নিজেরা সমাধান করেছে। নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার জন্য মরিয়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট এতে চরম ক্ষুব্ধ হন।
এর পরপরই তিনি ভারত থেকে আমদানির ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেন, যা মার্কিন কোম্পানিগুলোকে পরিশোধ করতে হতো। গত ফেব্রুয়ারিতে দুই দেশ একটি অন্তর্বর্তীকালীন বাণিজ্য চুক্তিতে পৌঁছায়, যার শর্তগুলো ভারতের জন্য বেশ কঠিন ছিল। পরবর্তীতে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট ১০০টিরও বেশি দেশের ওপর ট্রাম্পের আরোপিত শুল্ক বাতিল করে দিলেও, ট্রাম্প বিকল্প উপায়ে এই ধরনের কর চাপানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
এই পরিস্থিতিতে, "পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিও'র সামনে এক বিশাল দায়িত্ব হলো ট্রাম্পের জন্য এই সম্পর্কটি মেরামত করার ভিত্তি তৈরি করা," বলেন ডোনাল্ড লু, যিনি একজন অবসরপ্রাপ্ত পেশাদার কূটনীতিক এবং বাইডেন প্রশাসনের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন।
এই মিশনের একটি বড় অংশ বর্তাবে ভারতে নিযুক্ত নতুন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ও ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী সার্জিও গোরের ওপর।
ভারত-মার্কিন সম্পর্ক বিষয়ক একটি বইয়ের লেখক মীনাক্ষী নারুলা আহমেদ বলেন, "এক অর্থে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদ ছিল বুশ ও ওবামার ভারতমুখী নীতির ধারাবাহিকতা এবং চীনকে নিয়ন্ত্রণে ইন্দো-প্যাসিফিক অংশীদারত্ব গড়ে তোলার প্রয়াস।"
এখনকার সমস্যা হলো ট্রাম্পের বর্তমান সহযোগীরা ভারতকে খুব একটা ইতিবাচক চোখে দেখছেন না। তিনি বলেন, "মিত্র দেশগুলোর বিষয়ে তাদের কোনো কৌশলগত চিন্তাভাবনা আমার চোখে পড়ছে না।"
ট্রাম্পের এই অননুমেয় বা খামখেয়ালি আচরণের কারণে অনেক ভারতীয় কর্মকর্তা বলছেন যে, ভারতের উচিত তার দীর্ঘদিনের "কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন" নীতি বজায় রাখা—অর্থাৎ বিশ্বের অন্যান্য পরাশক্তি থেকে একটি নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রাখা।
গত ফেব্রুয়ারিতে মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে ভারতের শীর্ষ কূটনীতিক এস জয়শঙ্কর বলেন, এই অবস্থানটি "আমাদের ইতিহাস ও বিবর্তনের অংশ" এবং "এটি অত্যন্ত গভীর একটি বিষয়।"
এর পরের মাসে, দিল্লির একটি বার্ষিক ফোরাম 'রাইসিনা সংলাপে' মার্কিন উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টোফার ল্যান্ডাউ এই দাবি করে কিছু ভারতীয় কর্মকর্তাকে চমকে দেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের সরকার ভারতকে একটি অর্থনৈতিক ও কৌশলগত হুমকি হিসেবে দেখতে পারে।
ল্যান্ডাউ বলেন, "ভারতের বোঝা উচিত ২০ বছর আগে চীনের ক্ষেত্রে আমরা যে ভুলটি করেছিলাম, ভারতের ক্ষেত্রে আমরা সেই একই ভুল করতে যাচ্ছি না। আমরা এমনটি বলব না যে 'আমরা আপনাদের এই সমস্ত বাজার উন্নত করতে দেব', এবং তারপরে হঠাৎ আমরা দেখব যে আপনারা অনেক বাণিজ্যিক বিষয়ে আমাদের হারিয়ে দিচ্ছেন।"
গত মাসে ট্রাম্প একটি ডানপন্থী পডকাস্টের অনুলিপি পোস্ট করেন, যেখানে উপস্থাপক মাইকেল স্যাভেজ চীন ও ভারতকে "নরককুণ্ড" (হেল হোল) হিসেবে উল্লেখ করেন এবং বলেন যে এই দেশগুলো থেকে আসা অভিবাসীরা "ইউরোপীয় আমেরিকানদের" মতো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে "একাত্ম" হতে পারেনি।
এরপরে ট্রাম্পের নাম উল্লেখ না করেই, ভারত সরকার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হোয়াইট হাউসকে তিরস্কার করার একটি বিরল পদক্ষেপ নেয় এবং এই মন্তব্যগুলোকে "স্পষ্টতই তথ্যহীন, অনুপযুক্ত এবং রুচিহীন" বলে অভিহিত করে।
আগামীকাল রোববার রুবিওর সাথে আলোচনায় জয়শঙ্কর এবং অন্যান্য ভারতীয় কর্মকর্তারা তাদের দেশ সম্পর্কে ট্রাম্প প্রশাসনের মূল্যায়ন বোঝার চেষ্টা করবেন। একই সাথে শি জিনপিংয়ের বিষয়ে ট্রাম্পের আসল উদ্দেশ্য কী, তাও আরও ভালোভাবে বোঝার লক্ষ্য রয়েছে তাদের।
ভারত-চীন সম্পর্ক বিষয়ক গবেষক এবং ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের সিনিয়র ফেলো তানভি মদন বলেন, "তারা বিশেষ করে বেইজিংয়ের সাথে ওয়াশিংটনের 'কৌশলগত স্থিতিশীলতার গঠনমূলক সম্পর্ক'-এ সম্মত হওয়ার তাৎপর্য বোঝার চেষ্টা করবেন।"
মঙ্গলবারের কোয়াড বৈঠকে অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা করা জাপান ও অস্ট্রেলিয়ার শীর্ষ কূটনীতিকদেরও একই আগ্রহ রয়েছে।
ভারতের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের এসব পদক্ষেপের একটি উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়েছে: ভারতীয় কর্মকর্তারা এখন চীনের সাথে উত্তেজনা প্রশমনের চেষ্টা করছেন। ২০২০ সালে হিমালয় সীমান্তে চীন-ভারতের সামরিক বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষের পর—তাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের চরম অবনতি ঘটেছিল। এর আগে ১৯৬২ সালে হিমালয়ের পার্বত্য অঞ্চল নিয়ে এই দুই দেশ একটি যুদ্ধও করেছে।
লেখক কৃষ্ণন বলেন, "যদিও আমি মনে করি না যে ভারত-চীন সম্পর্ক আগের জায়গায় ফিরে যাবে, কারণ ২০২০ সালে আমরা যে ফাটল দেখেছি তা অত্যন্ত গভীর ছিল; তবে এটি স্পষ্ট যে উভয় পক্ষই সম্পর্কের মধ্যে কিছুটা ভারসাম্য বা স্থিতি ফিরিয়ে আনতে চাইছে।"
দুই দেশ সম্প্রতি একে অপরের ওপর থেকে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছে এবং ভারত তার অর্থনীতির কিছু অসংবেদনশীল (নন-সেনসিটিভ) খাতে আরও বেশি চীনা বিনিয়োগের অনুমতি দেওয়ার বিষয়ে কাজ করছে।
কৃষ্ণন বলেন, সীমান্ত সমস্যায় যদি অগ্রগতি হয়, "তবে তা সম্পর্কের বর্তমান সীমাবদ্ধতার দেয়াল ভেঙে আরও এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করতে পারে– এমন সম্ভাবনা রয়েছে।"
