Skip to main content
  • অর্থনীতি
  • বাংলাদেশ
  • আন্তর্জাতিক
  • খেলা
  • বিনোদন
  • ফিচার
  • ইজেল
  • মতামত
  • অফবিট
  • সারাদেশ
  • কর্পোরেট
  • চাকরি
  • প্রবাস
  • English
The Business Standard বাংলা

Tuesday
May 19, 2026

Sign In
Subscribe
  • অর্থনীতি
  • বাংলাদেশ
  • আন্তর্জাতিক
  • খেলা
  • বিনোদন
  • ফিচার
  • ইজেল
  • মতামত
  • অফবিট
  • সারাদেশ
  • কর্পোরেট
  • চাকরি
  • প্রবাস
  • English
TUESDAY, MAY 19, 2026
আফ্রিকার যে দেশে রাস্তাঘাট পরিষ্কার করছে হাড়-খেকো হায়েনারা

আন্তর্জাতিক

সিএনএন
17 May, 2026, 11:05 am
Last modified: 17 May, 2026, 11:07 am

Related News

  • ১২.৫ বিলিয়ন ডলারে ইথিওপিয়ায় গড়ে উঠছে আফ্রিকার সবচেয়ে বড় বিমানবন্দর
  • লেজহীন প্রাণীর আনন্দের ভাষা বুঝবেন যেভাবে
  • ১২ হাজার বছরে প্রথম অগ্ন্যুৎপাত ইথিওপিয়ার আগ্নেয়গিরির; ছাই ছড়িয়েছে ভারতের আকাশে, ফ্লাইট বাতিল
  • অসহিষ্ণুতা কাটিয়ে মনুষ্যত্ব অর্জনই হোক আমাদের অঙ্গীকার: তারেক রহমান
  • বোটানিক্যাল গার্ডেনে কার অধিকার বেশি, প্রাণ-প্রকৃতির না মানুষের?

আফ্রিকার যে দেশে রাস্তাঘাট পরিষ্কার করছে হাড়-খেকো হায়েনারা

হায়েনারা দেশটির শহরের অতিরিক্ত আবর্জনা সমস্যা মেটানোর পাশাপাশি মানুষের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে পারে!
সিএনএন
17 May, 2026, 11:05 am
Last modified: 17 May, 2026, 11:07 am
আব্বাস হলেন হারার শহরের শেষ 'হায়েনা-ম্যান'দের একজন। ছবি: আনাদোলু এজেন্সি

প্রতিদিন রাত নামলেই ইথিওপিয়ার প্রাচীন ও পবিত্র শহর হারারের রাস্তায় নামেন আব্বাস ইউসুফ। তারপর নাম ধরে ডাকতে শুরু করেন তার অদ্ভূত সব বন্ধুদের।

'কামারিয়া, যেন চাঁদের আলো।' 'চালতু, বড় শান্ত' আর সবশেষে ডাকেন তার সবচেয়ে পছন্দের সঙ্গীকে—'জারজারা, যে খুব চঞ্চল!'

তার ডাক শুনে অন্ধকার ফুঁড়ে বেরিয়ে আসে একটা ডোরাকাটা চিত্রা হায়েনা। আব্বাসের দুই দাঁতে কামড়ে ধরা একটা কাঠি থেকে সে একটুকরো মাংস মুখে তুলে নেয়।

এই হিংস্র মাংসাশী প্রাণীরা আব্বাসের কাছে একেবারে সাধারণ অতিথির মতো। নিজের মাতৃভাষা অরোমো-তে আব্বাস বলেন, 'আমি মাংস তৈরি রাখি। যে অতিথিরা আসে, আমি তাদের যত্ন নিই আর শান্তিতেই বিদায় জানাই।'

আব্বাস হলেন হারার শহরের শেষ 'হায়েনা-ম্যান'দের একজন। নিজের হাতে এবং মুখে করে খাবার খাইয়ে তিনি আফ্রিকান শিকারিদের এই দলটির প্রতি প্রাচীন এক ঐতিহ্য টিকিয়ে রেখেছেন। নিজের ঘরেও তিনি অবলীলায় তাদের আপ্যায়ন করেন।

প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে, হারারিরা গবাদি পশুর উপর আক্রমণ বন্ধ করার জন্য চিত্রা হায়েনাদের খাইয়ে আসছে। এখন এই ঐতিহ্যটি একটি আকর্ষণে পরিণত হয়েছে, যেখানে পর্যটকরা টাকা দিয়ে এই খাওয়ানোর দৃশ্য দেখেন এবং এমনকি নিজেরাও এতে অংশ নেন। ছবি: গিডে ইয়ারগা

এখন আব্বাস পর্যটকদের কাছে রীতিমতো একটি আকর্ষণীয় ব্যাপার হয়ে উঠেছেন। প্রতিদিন রাতে পর্যটকরা টাকা দিয়ে তার এই অদ্ভুত হায়েনাদের খাওয়ানো দেখতে এবং এই বুনো প্রাণীদের সঙ্গে নিজেদের ছবি তুলতে ভিড় করেন।

সাভানার খলনায়ক বা খারাপ প্রাণী হিসেবেই পরিচিত হায়েনা। তবে ইথিওপিয়ায় এই প্রাণীদের নিয়ে নতুন গবেষণায় চমকে দেওয়ার মতো তথ্য বেরিয়ে এসেছে। জানা গেছে, হায়েনারা দেশটির শহরের অতিরিক্ত আবর্জনা সমস্যা মেটানোর পাশাপাশি মানুষের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে পারে! এমনকি জলবায়ু পরিবর্তন ঠেকানোর লড়াইয়েও তাদের বিশাল অবদান রয়েছে!

হাড়-খেকো ঝাড়ুদার

হারার থেকে একটু উত্তরে তাইগ্রে অঞ্চলের রাজধানী মেকেল্লে শহরে প্রায় ১৫ বছর ধরে শহরের হায়েনাদের জীবনযাপন নিয়ে গবেষণা করছেন ওয়াইল্ডলাইফ ইকোলজি বা বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞ ড. গিদেই ইয়ারগা।

ড. ইয়ারগার মতে, হায়েনাদের স্বভাব ভীষণ পরিবর্তনশীল হয়। সাধারণত মাতৃতান্ত্রিক ব্যবস্থায় চলা বড় আকারের এই দলটি একসঙ্গে মিলে শিকার করে আর তাদের শাবকদের বড় করে তোলে। কিন্তু দারুণ শিকারি হওয়ার পরও সুযোগ পেলে তারা আবর্জনা খুঁটে খাওয়ার কাজও বেছে নেয়।

আফ্রিকা যতই শহুরে রূপ নিচ্ছে, হায়েনা এবং অন্যান্য বুনো প্রাণীরাও ততই মানুষের কাছাকাছি এসে পড়ছে, বিশেষ করে ময়লা ফেলার জায়গাগুলোর আশেপাশে। মেকেল্লেতে রাত নামলেই শহরের বাইরের ময়লা ফেলার জায়গাগুলোতে শুরু হয় বুনো হায়েনাদের আনাগোনা।

শহরগুলোতে অনেক সময়ই আবর্জনা ঠিকমতো ফেলা হয় না। সেই আবর্জনার গন্ধ শুঁকে হায়েনারা চলে আসে আর ময়লার মধ্যে থাকা উচ্ছিষ্ট পচা মাংসের মতো জৈব বর্জ্যগুলো গিলে নেয়। এসব বর্জ্য পচে বাতাসে দুর্গন্ধ ও কার্বন নির্গমন হওয়ার হাত থেকেও তাই রক্ষা পায়। ড. ইয়ারগার গবেষণায় এ-ও উঠে এসেছে যে, হায়েনারা অ্যানথ্রাক্স বা গবাদিপশুর যক্ষ্মার মতো মারাত্মক কিছু রোগের বিস্তার রুখে দিতেও বিশাল অবদান রাখে।

হারারে মানুষ ও হায়েনার মুখোমুখি হওয়া দৈনন্দিন জীবনেরই একটি অংশ। তাদের পরিচ্ছন্নতার কাজকে সম্মান জানানোর পাশাপাশি, অনেক হারারবাসী হায়েনাদের রক্ষাকর্তা হিসেবে দেখে, যারা ইসলাম ধর্মমতে খারাপ জিনদের দূরে রাখে।ছবি: মার্কাস বেইন্স-রক

ইউনিভার্সিটি অফ শেফিল্ড আর মেকেল্লে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক যৌথ গবেষণায় আরও চমৎকার তথ্য পাওয়া গেছে। তারা দেখেছে, হায়েনা থেকে শুরু করে শকুন এবং রাস্তার কুকুর মিলে বছরে প্রায় পাঁচ হাজার মেট্রিক টন জৈব বর্জ্য খেয়ে পরিষ্কার করে, যা মেকেল্লে সিটি কর্পোরেশনের প্রায় এক লাখ ডলারের আবর্জনা ফেলার খরচ বাঁচায়! আর এই বিশাল কাজের প্রায় ৯০ ভাগ একা হায়েনারাই করে থাকে।

মানুষের কাছে এই 'বাস্তুতান্ত্রিক পরিষ্কারকদের' কাজ বেশ কদরও পেয়েছে। ৪০০ পরিবারের ওপর করা এক জরিপে দেখা গেছে যে, সেখানকার অন্তত ৭২ ভাগ মানুষ হায়েনা আর অন্যান্য বর্জ্য পরিষ্কারকদের কাজকে খুবই উপকারী বলে মনে করে।

ড. ইয়ারগা বলেন, 'শহুরে এই প্রাণীরা বাসিন্দাদের ফেলে দেওয়া ময়লা দিয়ে বেঁচে থাকে আর স্থানীয়রা এই বর্জ্য পরিষ্কারের বিনিময়ে একটা পরিষ্কার পরিবেশ পায়। এটা দুই পক্ষের জন্যই দারুণ একটি লেনদেন।'

সাধারণত এদের সাথে মানুষের বসবাস শান্তিপূর্ণই ছিল। কিন্তু ২০২০-২০২২ সালের তাইগ্রে যুদ্ধ এই সম্পর্কে বড় চিড় ধরায়। তখন হায়েনাদের খুঁটে খাওয়ার মতো ময়লা কমে যাওয়ায় যুদ্ধক্ষেত্রের আশেপাশে তারা গবাদিপশু আক্রমণ করতে শুরু করে এবং কিছু জায়গায় মানুষের লাশেও মুখ দেয়। মেকেল্লের আশেপাশে অনেকেই এখন অস্থায়ী ভিড়-ভাট্টা ক্যাম্পে বসবাস করছেন, যারা হায়েনার হামলার ঝুঁকিতে রয়েছেন।

ইয়ারগার আরেকটি গবেষণা অনুযায়ী, হায়েনাকে দেখার মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি শহর ভেদে বেশ আলাদা। যেমন মেকেল্লেতে মানুষ হায়েনাকে পরিষ্কারকারী হিসেবে সম্মান করে। তবে দক্ষিণাঞ্চলীয় আরবা মিনচ শহরে এদের দেখা হয় 'উপদ্রবকারী' হিসেবে। আবার অন্যদিকে 'হায়েনা ম্যান'-এর শহর হারারে হায়েনাকে একেবারে পুজো বা চরম শ্রদ্ধা করা হয়।

হায়েনা-ম্যানদের কথা

প্রায় পাঁচশ বছর ধরে ইউনেস্কোর তালিকাভুক্ত হারারের পুরোনো শহরটিতে মানুষ আর হায়েনা এক সাথে শান্তিপূর্ণভাবে বাস করছে। ষোড়শ শতকের এই প্রাচীন দেয়ালটির নিচে কয়েকটি ছোট ছোট গর্ত রাখা হয়েছিল, যেগুলোকে স্থানীয়রা 'ওয়ারেবা নুদুল' বা হায়েনার গর্ত বলে। রাতের আঁধারে দল বেঁধে হায়েনারা এই দেয়াল টপকে কসাইদের ফেলে দেওয়া মাংস খুঁটে খেতে শহরে আসে।

প্রথমে এদের খাইয়ে মানুষের আর গবাদি পশুর ওপর আক্রমণ ঠেকানো শুরু হলেও, একটা সময়ে সেটা হায়েনা-ম্যান বা নিজ হাতে তাদের খাওয়ানোর এক বিশেষ ঐতিহ্যে রূপ নেয়।

আব্বাস এই অভ্যাস শিখেছেন তার বাবা ইউসুফ মুমে সালেহ-এর কাছ থেকে, যিনি ১৯৫০-এর দশকে নিজের ছাগলের পালের কাছ থেকে হায়েনাদের দূরে রাখতে তাদের মাংস খাওয়াতে শুরু করেছিলেন।

'বাবা প্রতিদিন মাংস কেটে ওদের জন্য নিয়ে যেতেন,' সিএনএনকে বলেন আব্বাস। 'আমি বাবাকে যখন ওদের খাওয়াতে দেখতাম, তখনই ভয় ভেঙে যায়।' আব্বাস ৭ বছর বয়সে বাবার হাত ধরে এ কাজ শুরু করেন এবং তার বয়স বিশ পার হলে এই কাজের পুরোপুরি দায়িত্ব তুলে নেন।

আব্বাস তার বাবা ইউসুফ মুমে সালেহ (ছবিতে) এর কাছ থেকে হায়েনাকে খাওয়ানো শিখেছেন, যিনি ১৯৫০-এর দশকে তার ছাগলগুলোকে হায়েনাদের আক্রমণ থেকে বাঁচাতে তাদের খাওয়ানো শুরু করেন। বহু বছর পর, তিনি নিজের বাড়ির ভেতরেও তাদের খাওয়ান। ছবি: মার্কাস বেইন্স-রক

মানবসৃষ্ট পরিবেশে হায়েনা ও মানুষের এই সহাবস্থান নিয়ে বছর খানেক গবেষণা করেছেন নৃবিজ্ঞানী মার্কুস বাইন্স-রক, যিনি 'এমং দ্য বোন ইটার্স' নামের একটি বইও লিখেছেন। তিনি আব্বাসের বাবার সাথে অনেক সময় পার করে তাদের দেখেছেন।

বাইন্স-রকের মতে, 'আব্বাসের বাবা এই প্রাণীদের শুধু জানোয়ার মনে করতেন না, বরং তার চোখে এরা একেকটা মানুষ ছিল, যাদের আলাদা চরিত্র এবং হায়েনাদের নিজস্ব সমাজে নির্দিষ্ট সম্মান ছিল।'

তাদের সম্পর্ক একদিনে গড়ে ওঠেনি। ইউসুফ প্রথাগতভাবে হায়েনাদের কোনো বিশেষ তালিমও দেননি। বরং তিনি হায়েনাদের আচরণ, মর্যাদা আর মেজাজটা পড়ার চেষ্টা করেছেন। তেমনি হায়েনারাও বাবা ও ছেলের দেওয়া নাম আর তাঁদের ডাকে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছিল। এক কথায় মানুষ এবং হায়েনারা একে অপরের সাথে মানিয়ে নিয়েছিল, যেখানে একজন পর্যটকদের কাছ থেকে কিছু অর্থ রোজগার করতে পারছে, অন্যজন নিরাপদে পেট ভরানোর সুযোগ পাচ্ছে।

হারার এলাকার বাসিন্দারা হায়েনাকে পরিবেশ পরিষ্কারকারী প্রাণীর চেয়ে বরং 'আধ্যাত্মিক পরিচ্ছন্নতাকর্মী' মনে করে বেশি ভক্তি করেন। ইসলামের একটি বিশেষ ধারা অনুযায়ী মনে করা হয়, তারা জিন বা অশুভ আত্মাদের খেয়ে দূরে সরিয়ে দেয়। আর এই শহরের মানুষ এই জন্য নিজেদের নিরাপদ মনে করেন। প্রায় ৩০,০০০ মানুষের ভাষায় বলা যায়, হারার ভাষায় হায়েনাদের ডাকা হয় 'ওয়ারাবা' (অর্থ সংবাদকর্মী বা বার্তাবাহক), কারণ অনেকেই বিশ্বাস করেন এরা আত্মাদের জগত থেকে খবর বা বার্তা বয়ে নিয়ে আসে।

'খলনায়ক' তকমা ঘুচিয়ে

পুরো আফ্রিকায় ডোরাকাটা বা স্পটেড হায়েনাদের থাকার জায়গা এখন আগের চেয়ে অনেকটাই কমে গেছে। খামার আর রাস্তা বানানোর জন্য যখন তাদের সীমানা ছোট হয়ে আসছে, তখন বাধ্য হয়ে হায়েনারা গবাদিপশুর ওপর হামলা চালাতে শুরু করেছে। এর কারণে খামারিরাও এখন হায়েনাদের চরম শত্রুতে পরিণত হয়েছে।

খামারিদের হাতে বিষ খেয়ে আর ফাঁদে আটকা পড়ে প্রতি বছর বিপুলসংখ্যক হায়েনা প্রাণ হারায়। বিশাল একটি বিস্তীর্ণ অঞ্চলে ঘুরে বেড়ানোর জায়গা থাকার পরও, কেবল সংরক্ষিত অঞ্চল বা প্রটেক্টেড এরিয়াগুলোতেই এদের বেঁচে থাকার সংখ্যাটি বর্তমানে কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ২৭ থেকে ৪৭ হাজারের মধ্যে।

এদের সবচেয়ে কাছাকাছি আত্মীয় যেমন স্ট্রাইপড হায়েনা, লুকিয়ে থাকতে পছন্দ করা ব্রাউন হায়েনা এবং আর্ডউলফের অবস্থাও চরম শঙ্কার মুখে রয়েছে।

আইইউসিএন-এর হায়েনা স্পেশালিস্ট গ্রুপের মতে, হায়েনাদের এই 'ক্ষতিকর বা ক্ষতিকারক' ভাবমূর্তিই তাদের বেঁচে থাকার জন্য সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ মানুষ মনে করে, হায়েনা মানেই ভীষণ বিপজ্জনক ও বিরক্তিকর প্রাণী।

মানুষ ও হায়েনার এই লড়াই বা শত্রুতা একদম নতুন নয়। আমাদের পূর্বপুরুষরা যখন থেকে মাংস খেতে শুরু করেছিলেন (প্রায় পঁচিশ লক্ষ বছর আগে), তখন থেকেই মানুষের সাথে এই প্রাণীদের উচ্ছিষ্ট নিয়ে লড়াই হয়ে আসছে, বলে জানান নৃবিজ্ঞানী মার্কাস বেইন্স-রক। তিনি বলেন, ডিজনির জনপ্রিয় সিনেমা 'দ্য লায়ন কিং'-এ যেভাবে হায়েনাদের দুষ্ট, খলনায়ক আর এক কুৎসিত হাসির অধিকারী প্রাণী হিসেবে দেখানো হয়েছে, সেই ছবিটা আমাদের মাথায় গেঁথে গেছে। তাই এদের ব্যাপারে এক ধরনের বাজে বা নেতিবাচক চিন্তা আধুনিক সমাজেও আটকে রয়েছে।

ইথিওপিয়ার শহর মেকেলে ও হারারে হায়েনার আক্রমণ বিরল, যা আফ্রিকার অনেক গ্রামীণ অঞ্চলের সম্পূর্ণ বিপরীত।ছবি: মার্কাস বেইন্স-রক

তিনি বলেন, 'তবে ইথিওপিয়ায় মানুষ হায়েনাকে একটি মাত্র রূপে বিচার করে না। তারা এটা বোঝে যে প্রাণীটি এক দিকে যেমন বিপজ্জনক, অন্যদিকে তেমনই উপকারীও।'

উত্তর আমেরিকায় কাক বা র‍্যাকুন, ভারতে অ্যাডজুট্যান্ট স্টর্ক এবং অস্ট্রেলিয়ায় আইবিসের মতো বর্জ্যখোর পাখিদের এখনও বিশ্বের অনেক শহরে শুধু 'ময়লা পরিষ্কারের বিরক্তিকর কীট' হিসেবে দেখা হয়।

অথচ এই শিকারি বা আবর্জনা পরিষ্কার করা প্রাণীরা আমাদের শহরগুলোর জন্য দারুণ কাজের! বড় মাপের এই 'ক্লিনার বা শীর্ষ স্ক্যাভেঞ্জার' প্রাণী যেমন হায়েনা ও শকুনের আকার আর নেতিবাচক ভাবমূর্তির কারণে এদের যেভাবে ধাওয়া করা হয় বা মারা হয়, সেটা আমাদের নিজেদের স্বাস্থ্যের জন্যই চরম ভয়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বাইন্স-রকের মতে, 'আমরাই কিন্তু শহরগুলোকে ময়লা ফেলে নোংরা বানিয়েছি আর এই প্রাণীদের ময়লা খাওয়ার জায়গা করে দিয়েছি। আমরা যদি তাদের কাজে কোনো বাগড়া না দিই, তবে প্রকৃতিতে তারা নিজেদের চমৎকার কাজটা ঠিকমতোই করে যেতে পারবে।'

গবেষক ড. ইয়ারগাও মনে করেন, শহরের এই বর্জ্যখোর প্রাণীদের সম্পর্কে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টানো ভীষণ জরুরি। তিনি জানান, মিডিয়া, ডকুমেন্টারি বা তথ্যচিত্র, স্কুল প্রোগ্রামের পাশাপাশি আমাদের শহর পরিকল্পনার ক্ষেত্রে এদের জন্য আলাদা নিরাপদ জায়গা নিশ্চিত করতে হবে।

মানুষ ও হায়েনা অন্তত ২৫ লক্ষ বছর ধরে একই ভূখণ্ডে বসবাস করেছে এবং একই প্রাণীর মাংসের জন্য প্রতিযোগিতা করেছে। ফ্রান্সের শোভে গুহার এই প্রাগৈতিহাসিক গুহাচিত্রটি হায়েনার প্রাচীনতম পরিচিত চিত্রগুলোর মধ্যে অন্যতম।ছবি: জেফ পাচৌড/এএফপি

কিন্তু হায়েনাদের সবচেয়ে পুরনো আশ্রয়ের শহর হারারে-তেই এখন শহরের দেওয়ালের বাইরের আধুনিক নির্মাণকাজগুলো বাড়তে থাকায়, তাদের চলাফেরার পুরোনো সব পথ ক্রমশ ছোট হয়ে যাচ্ছে।

আব্বাস যে খোলা ময়লার জায়গায় হায়েনাদের খাবার খাওয়ান, তার কাছাকাছি সরকারের একটি 'ইকো পার্ক'-এর কাজ শুরু হয়েছে। পর্যটকরা যাতে সুরক্ষিত ও নিরাপদ জায়গা থেকে হায়েনাদের খাওয়ানোর অদ্ভুত দৃশ্যটা দেখতে পারেন, সে জন্য সরকার এখানে জাদুঘর ও কিছু দোকানের ব্যবস্থা করছে।

তবে, ড. ইয়ারগা সাবধান করে দিয়েছেন, মানুষ আর হায়েনার মধ্যে বেশি মাখামাখি হতে থাকলে এরা এদের স্বভাবসুলভ প্রাকৃতিক সাবধানতা বা লাজুকতা হারাতে পারে। ফলে ভয় হারিয়ে মানুষের কাছাকাছি আসার কারণে এদের মানুষ আর গবাদি পশুর ওপর আক্রমণের সংখ্যা বাড়তে পারে, যার ফলশ্রুতিতে পাল্টা আক্রমণের ঝুঁকিও চরমভাবে বেড়ে যাওয়ার ভয় আছে।

তারপরও এই প্রাচীন ঐতিহ্য হারিয়ে যাবে বলে একদমই চিন্তিত নন আব্বাস। তিনি বলেন, 'হায়েনাকে হাতে করে খাওয়ানোর এই রীতি যুগ যুগ ধরে চলতেই থাকবে। আমি চাই, যেভাবে বাবা আমাকে এটা বুঝিয়ে গিয়েছিলেন, আমিও তেমনি দারুণ সুন্দরভাবে এটা আমার ছেলের কাছে দিয়ে যেতে পারি।'

Related Topics

টপ নিউজ

হায়েনা / ইথিওপিয়া / প্রাণী

Comments

While most comments will be posted if they are on-topic and not abusive, moderation decisions are subjective. Published comments are readers’ own views and The Business Standard does not endorse any of the readers’ comments.

MOST VIEWED

  • ফাইল ছবি: সংগৃহীত
    ৯ বছর পর ডিএনএ পরীক্ষায় তনুর পোশাকে পাওয়া গেল আরও একজনের রক্ত
  • চট্টগ্রাম বন্দর। ছবি: মিনহাজ উদ্দিন/ টিবিএস
    চট্টগ্রাম কনটেইনার টার্মিনাল পরিচালনার দায়িত্ব পেতে প্রতিযোগিতায় ডিপি ওয়ার্ল্ড ও আরএসজিটি
  • ইসরায়েলের বেন গুরিয়ান বিমানবন্দরে যুক্তরাষ্ট্রের রিফুয়েলিং বিমান এবং সি-১৭ গ্লোবমাস্টার বিমান। ফাইল ছবি: সংগৃহীত
    গোলাবারুদ নিয়ে ইসরায়েলে নামল কয়েক ডজন মার্কিন বিমান, ইরানে ফের হামলার প্রস্তুতি
  • জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী (বামে) এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। ছবি: সংগৃহীত
    মিটিং শেষে বাইরে গিয়ে গালিগালাজ করেন পাটওয়ারী, এতে আমরা অভ্যস্ত, একদমই ক্ষুব্ধ নই: সিইসি
  • আজ সোমবার (১৮ মে) ঢাকা সফরতর কাতারের শ্রমমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। ছবি: টিবিএস
    চার খাতে বাংলাদেশি কর্মী নিতে আগ্রহী কাতার: প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী
  • প্রতীকী ছবি: রয়টার্স
    ক্রেতাদের চাপ, বিদ্যুতের খরচ কমানো: সৌরবিদ্যুতে ঝুঁকছেন ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা

Related News

  • ১২.৫ বিলিয়ন ডলারে ইথিওপিয়ায় গড়ে উঠছে আফ্রিকার সবচেয়ে বড় বিমানবন্দর
  • লেজহীন প্রাণীর আনন্দের ভাষা বুঝবেন যেভাবে
  • ১২ হাজার বছরে প্রথম অগ্ন্যুৎপাত ইথিওপিয়ার আগ্নেয়গিরির; ছাই ছড়িয়েছে ভারতের আকাশে, ফ্লাইট বাতিল
  • অসহিষ্ণুতা কাটিয়ে মনুষ্যত্ব অর্জনই হোক আমাদের অঙ্গীকার: তারেক রহমান
  • বোটানিক্যাল গার্ডেনে কার অধিকার বেশি, প্রাণ-প্রকৃতির না মানুষের?

Most Read

1
ফাইল ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশ

৯ বছর পর ডিএনএ পরীক্ষায় তনুর পোশাকে পাওয়া গেল আরও একজনের রক্ত

2
চট্টগ্রাম বন্দর। ছবি: মিনহাজ উদ্দিন/ টিবিএস
বাংলাদেশ

চট্টগ্রাম কনটেইনার টার্মিনাল পরিচালনার দায়িত্ব পেতে প্রতিযোগিতায় ডিপি ওয়ার্ল্ড ও আরএসজিটি

3
ইসরায়েলের বেন গুরিয়ান বিমানবন্দরে যুক্তরাষ্ট্রের রিফুয়েলিং বিমান এবং সি-১৭ গ্লোবমাস্টার বিমান। ফাইল ছবি: সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক

গোলাবারুদ নিয়ে ইসরায়েলে নামল কয়েক ডজন মার্কিন বিমান, ইরানে ফের হামলার প্রস্তুতি

4
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী (বামে) এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশ

মিটিং শেষে বাইরে গিয়ে গালিগালাজ করেন পাটওয়ারী, এতে আমরা অভ্যস্ত, একদমই ক্ষুব্ধ নই: সিইসি

5
আজ সোমবার (১৮ মে) ঢাকা সফরতর কাতারের শ্রমমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। ছবি: টিবিএস
বাংলাদেশ

চার খাতে বাংলাদেশি কর্মী নিতে আগ্রহী কাতার: প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী

6
প্রতীকী ছবি: রয়টার্স
বাংলাদেশ

ক্রেতাদের চাপ, বিদ্যুতের খরচ কমানো: সৌরবিদ্যুতে ঝুঁকছেন ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা

EMAIL US
contact@tbsnews.net
FOLLOW US
WHATSAPP
+880 1847416158
The Business Standard
  • About Us
  • Contact us
  • Sitemap
  • Privacy Policy
  • Comment Policy
Copyright © 2026
The Business Standard All rights reserved
Technical Partner: RSI Lab

Contact Us

The Business Standard

Main Office -4/A, Eskaton Garden, Dhaka- 1000

Phone: +8801847 416158 - 59

Send Opinion articles to - oped.tbs@gmail.com

For advertisement- sales@tbsnews.net