ভারতকে ‘নরককুণ্ড’ বলে মন্তব্য ট্রাম্পের; নয়াদিল্লির ক্ষোভ
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শেয়ার করা একটি পোস্টে ভারতকে 'হেলহোল' বা 'নরককুণ্ড' বলায় এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছে নয়াদিল্লি সরকার। সেইসঙ্গে এ মন্তব্যকে 'অনুপযুক্ত' ও 'রুচিহীন' বলে অভিহিত করেছে তারা।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর আগামী মাসে ভারত সফরের পরিকল্পনার ঠিক আগে ট্রাম্প এই পোস্ট করলেন। তার এই সফরের লক্ষ্য এই দুই দেশের মধ্যে সাম্প্রতিক উত্তেজনা নিরসন করা।
কনজারভেটিভ পডকাস্ট উপস্থাপক মাইকেল স্যাভেজের করা মন্তব্যের একটি প্রতিলিপি গত বুধবার ট্রুথ সোশ্যালে শেয়ার করেন ট্রাম্প। সেখানে যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণকারী প্রত্যেকের নাগরিকত্ব পাওয়ার সাংবিধানিক অধিকারের বিষয়ে সমালোচনা করা হয়।
পোস্টটিতে যুক্তরাষ্ট্রে প্রযুক্তি খাতে কর্মরত ভারতীয় অভিবাসীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলা হয়, তারা শ্বেতাঙ্গ স্থানীয় আমেরিকানদের নিয়োগ দেয় না। এও দাবি করা হয়, ভারতীয় অভিবাসীদের ইংরেজি দক্ষতা কম।
পোস্টে বলা হয়, 'এখানে একটি শিশু জন্ম নিলেই সঙ্গে সঙ্গে নাগরিক হয়ে যায়, তারপর তারা চীন, ভারত বা বিশ্বের অন্য কোনো নরককুণ্ড থেকে পুরো পরিবারকে নিয়ে আসে।'
ট্রাম্প স্যাভেজের ওই মন্তব্যের একটি ভিডিও পোস্ট করেন।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল মার্কিন প্রেসিডেন্টের শেয়ার করা এই মন্তব্যকে 'স্পষ্ট অজ্ঞতাপূর্ণ, অনুপযুক্ত ও রুচিহীন' বলে অভিহিত করেন। তিনি এ মন্তব্যের নিন্দাও জানান।
জয়সওয়াল বলেন, 'এগুলো কোনোভাবেই ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের বাস্তবতা প্রতিফলিত করে না, যা দীর্ঘদিন ধরে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও অভিন্ন স্বার্থের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে।'
ভারতের প্রধান বিরোধী দল ন্যাশনাল কংগ্রেস এই মন্তব্যকে 'অত্যন্ত অপমানজনক ও ভারতবিরোধী' বলে উল্লেখ করেছে।
পোস্টটি যুক্তরাষ্ট্রেও উদ্বেগ সৃষ্টি করে। হিন্দু আমেরিকান ফাউন্ডেশন নামের একটি সংগঠন এটিকে 'ঘৃণামূলক ও বর্ণবাদী বক্তব্য' বলে উল্লেখ করেছে।
সংগঠনটি এক্সে (সাবেক টুইটার) লিখেছে, 'যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে এ ধরনের বক্তব্য সমর্থন করা ঘৃণা আরও বাড়াবে এবং আমাদের সম্প্রদায়কে ঝুঁকির মধ্যে ফেলবে, এমন এক সময়ে যখন বিদেশিবিদ্বেষ ও বর্ণবাদ ইতোমধ্যেই সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে।'
