এশিয়ার জলসীমায় ইরানের ৩ তেলবাহী ট্যাংকার আটক করল যুক্তরাষ্ট্র
এশিয়ার জলসীমায় ইরানের পতাকাবাহী অন্তত তিনটি তেলবাহী ট্যাংকার আটক করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। শিপিং ও নিরাপত্তা সূত্রের বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স বুধবার জানিয়েছে, ট্যাংকারগুলোকে ভারত, মালয়েশিয়া এবং শ্রীলঙ্কার কাছাকাছি অবস্থান থেকে সরিয়ে অন্য দিকে ঘুরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
ইরানের সামুদ্রিক বাণিজ্যের ওপর ওয়াশিংটন কঠোর অবরোধ আরোপ করার পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হলো। অন্যদিকে, পারস্য উপসাগরের প্রবেশদ্বার হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ করতে ইরানও বিদেশি জাহাজ লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে।
গত কয়েক দিনে মার্কিন বাহিনী ইরানের একটি পণ্যবাহী জাহাজ ও একটি তেলের ট্যাংকার জব্দ করেছে। এর জবাবে ইরানও বুধবার হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়ার সময় দুটি কন্টেইনার জাহাজ জব্দ করার দাবি করেছে। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এটিই ইরানের পক্ষ থেকে প্রথম জাহাজ জব্দের ঘটনা।
রয়টার্স জানিয়েছে, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে মার্কিন বাহিনী ইরানের পতাকাবাহী আরও অন্তত তিনটি তেলের ট্যাংকারকে তাদের পথ থেকে সরিয়ে দিয়েছে। আটক হওয়া জাহাজগুলোর মধ্যে একটি হলো 'ডিপ সি' নামক সুপারট্যাংকার। অপরিশোধিত তেল বোঝাই এই জাহাজটিকে এক সপ্তাহ আগে মালয়েশিয়া উপকূলে সর্বশেষ দেখা গিয়েছিল।
অন্য একটি ছোট জাহাজ 'সেভিন', যার ধারণক্ষমতা ১০ লাখ ব্যারেল, সেটিকেও আটক করা হয়েছে। এছাড়া ২০ লাখ ব্যারেল তেল বোঝাই 'ডোরেনা' নামক একটি সুপারট্যাংকার তিন দিন আগে দক্ষিণ ভারত উপকূলে সর্বশেষ অবস্থান করছিল।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ এক পোস্টে নিশ্চিত করেছে, 'ডোরেনা' অবরোধ লঙ্ঘনের চেষ্টা করলে ভারত মহাসাগরে একটি মার্কিন নৌবাহিনীর ডেস্ট্রয়ার সেটিকে পাহারায় নেয়।
শিপিং সূত্রগুলো আরও জানিয়েছে, 'দেরিয়া' নামক আরেকটি ইরানি ট্যাংকারও মার্কিন বাহিনীর কবলে পড়ে থাকতে পারে। ইরানের তেল কেনায় যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া বিশেষ ছাড়ের মেয়াদ গত রোববার শেষ হয়ে যাওয়ার আগে জাহাজটি ভারতে তেল খালাস করতে ব্যর্থ হয়েছিল।
সেন্টকম বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে জানিয়েছে, ইরানি বন্দরগুলোতে জাহাজ চলাচল বন্ধে তাদের এই অবরোধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ৩১টি জাহাজকে তারা পথ পরিবর্তন করতে অথবা বন্দরে ফিরে যেতে বাধ্য করেছে।
একটি সামুদ্রিক নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের পেতে রাখা ভাসমান মাইন এড়াতে মার্কিন সামরিক বাহিনী এখন খোলা সমুদ্রে ইরানি জাহাজগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করার কৌশল নিয়েছে।
