হরমুজে ইরান কর্তৃক জাহাজ জব্দের ঘটনা যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন হিসেবে দেখেন না ট্রাম্প: হোয়াইট হাউস
ইরান কর্তৃক হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ জব্দের ঘটনাকে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন হিসেবে দেখছেন না মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে এমনটাই জানানো হয়েছে।
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিট বলেন, প্রেসিডেন্ট এই ঘটনাকে যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন মনে করছেন না কারণ জব্দ করা জাহাজগুলো যুক্তরাষ্ট্রের বা ইসরায়েলের ছিল না।
তিনি ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, 'এগুলো ছিল আন্তর্জাতিক জাহাজ। ইরান এখন জলদস্যুর মতো আচরণ করছে। কারণ তাদের মূল নৌবাহিনীকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পুরোপুরি ধ্বংস করে দিয়েছেন। এখন তারা দ্রুতগতির গানবোটের মাধ্যমে দস্যুতা চালাচ্ছে।'
লেভিট আরও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের আরোপ করা নৌ-অবরোধ ইরানের ওপর অত্যন্ত কার্যকরভাবে কাজ করছে।
মূলত হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াতকারী জাহাজগুলোর কাছ থেকে ইরান যেন কোনো টোল আদায় করতে না পারে, সেজন্যই এই অবরোধ আরোপ করা হয়েছে। এটি ইরানি বন্দরে আসা-যাওয়া করা সব জাহাজের ওপর কার্যকর।
উল্লেখ্য, বুধবার হরমুজ প্রণালিতে ইরান অন্তত দুটি জাহাজ জব্দ করেছে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গ্রিক মালিকানাধীন জাহাজ 'এপামিননডাস' এবং 'ফ্রান্সেসকা' লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছে ইরানি বাহিনী। পরে জাহাজ দুটিকে ইরানি জলসীমায় নিয়ে যাওয়া হয়। এ ছাড়া 'ইউফোরিয়া' নামে তৃতীয় একটি জাহাজও ইরানি গোলার আঘাতে ওই অঞ্চলে আটকা পড়েছে।
এদিকে, মঙ্গলবার ট্রাম্প যে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়িয়েছিলেন, তা তিন থেকে পাঁচ দিন স্থায়ী হবে বলে যে খবর রটেছিল, তা নাকচ করে দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট নিজে। ফক্স নিউজের উপস্থাপক মার্থা ম্যাককালামকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, এ ধরনের কোনো সময়সীমা দেওয়া হয়নি।
ট্রাম্প আরও বলেন, 'আমি কোনো তাড়াহুড়ো করছি না, আমি সেরা চুক্তিটিই চাই।' তার মতে, বোমা হামলার চেয়ে মার্কিন সামরিক অবরোধ ইরানকে অনেক বেশি ভীত করে তুলেছে।
পরে হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে লেভিটও এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, 'আমি জানি বেনামী সূত্রের বরাত দিয়ে কিছু খবর এসেছে যে ৩ থেকে ৫ দিনের সময়সীমা দেওয়া হয়েছে। এটি সত্য নয়।'
তিনি আরও বলেন, 'প্রেসিডেন্ট কোনো সময়সীমা নির্ধারণ করেননি। তিনিই চূড়ান্ত সময়সূচি নির্ধারণ করবেন। প্রেসিডেন্ট বর্তমানে নৌ-অবরোধ নিয়ে সন্তুষ্ট এবং তিনি জানেন, ইরান এখন অত্যন্ত দুর্বল অবস্থানে রয়েছে। সব তুরুপের তাস এখন ট্রাম্পের হাতে।'
