তনু হত্যাকাণ্ড: ১০ বছর পর গ্রেপ্তার সাবেক সেনা কর্মকর্তা ৩ দিনের রিমান্ডে
কুমিল্লায় ১০ বছর আগে সোহাগী জাহান তনু হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সেনাবাহিনীর এক সাবেক ওয়ারেন্ট অফিসারকে গ্রেপ্তারের পর তিন দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। তার নাম হাফিজুর রহমান। আজ বুধবার বিকেলে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোমিনুল হক এ আদেশ দেন। এর মধ্যে দিয়ে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় প্রথম কোনো অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার দেখানো হলো।
তনুর ভাই রুবেল হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে, হাফিজুর রহমানকে তার বাসভবন থেকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই। পরে তাকে কুমিল্লা সদর আদালতে হাজির করা হয়।
তনু হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই পরিদর্শক তরিকুল ইসলাম বলেন, 'ঢাকার কেরানীগঞ্জের বাসা থেকে গত রাতে হাফিজুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। তনুর মা বিভিন্ন সময়ে তাকে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য অনুরোধ করেছিলেন। সেই অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আমরা সাতদিনের রিমান্ড আবেদন করি। আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। তার ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এখনও ম্যাচিং করানো হয়নি।'
তনুর মা আনোয়ারা বেগম বলেন, প্রায় ১১ বছর পর একজন আসামি গ্রেপ্তার হয়েছে। আমি আসামি গ্রেপ্তারে সন্তুষ্ট। আমি চাইব তার যেন উপযুক্ত সাজা হয়। ফাঁসি নিশ্চিত হয়। দেশবাসী যেন বলতে পারে তনু হত্যার বিচার হয়েছে।
তনুর বাবা ইয়ার হোসেন বলেন, দেশের মানুষ জানতে চায়, তনু হত্যার বিচার হবে কি না। এবার বলতে পারব, আসামি গ্রেপ্তার হয়েছে। আমি আদালতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আশা করি বিচার হবে।
এ মামলায় এখন পর্যন্ত চারটি সংস্থার সাতজন তদন্ত কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করেছেন। গত ১০ বছরে মামলার শুনানির জন্য অন্তত ৮০টি ধার্য তারিখ অতিবাহিত হলেও প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্তে দীর্ঘ সময় ধরে অনিশ্চয়তা ছিল।
এরই মধ্যে গত ৬ এপ্রিল মামলার সপ্তম তদন্ত কর্মকর্তা সার্জেন্ট জাহিদ, ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমান ও সৈনিক শাহিনুল আলমের ডিএনএ নমুনা ক্রসম্যাচ করানোর জন্য আদালতের কাছে অনুমতি চেয়েছিলেন। আদালতের সেই নির্দেশনার পরই তদন্তকারী সংস্থা হাফিজুর রহমানকে গ্রেপ্তারের পদক্ষেপ নেয়।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, আজ বিকেল ৫টার দিকে তনুর বাবা-মা ও ছোট ভাই রুবেল হোসেন কুমিল্লা আদালতে উপস্থিত হন। তনুর বাবা-মায়ের জবানবন্দি গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতরে একটি বাসায় টিউশনি করাতে গিয়ে আর নিজ বাসায় ফেরেননি তনু। পরে খোঁজাখুঁজি করে সেনানিবাসের পাওয়ার হাউজের অদূরে একটি জঙ্গলের মধ্যে তার মরদেহ পাওয়া যায়। পরদিন তার বাবা ইয়ার হোসেন অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে কুমিল্লা কোতয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
শুরুতে থানা পুলিশ, জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) এবং পরে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) দীর্ঘ সময় ধরে মামলাটি তদন্ত করেও কোনো রহস্য বের করতে পারেনি। সর্বশেষ পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশে ২০২০ সালের ২১ অক্টোবর এ মামলার নথি পিবিআইয়ের ঢাকা সদর দপ্তরে হস্তান্তর করে সিআইডি।
গত প্রায় চার বছর মামলাটি তদন্ত করেছেন পিবিআই সদর দফতরের পুলিশ পরিদর্শক মো. মজিবুর রহমান। সর্বশেষ ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে মামলাটির সপ্তম তদন্ত কর্মকর্তার দায়িত্ব পেয়েছেন পরিদর্শক মো. তরিকুল ইসলাম।
