মার্কিন অবরোধ তুলে নিতে কাজ করছে পাকিস্তান, শান্তি আলোচনায় যোগ দিতে পারে ইরান: সূত্র
পাকিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আবারও শান্তি আলোচনায় অংশ নেওয়ার কথা বিবেচনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। তিনি আজ সোমবার রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছেন।
ইরানের বন্দরগুলোর ওপর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ তুলে দিতে পাকিস্তান উদ্যোগ নেওয়ার পর ইরান এ অবস্থানের কথা জানালো।
তবে ওই কর্মকর্তা জোর দিয়ে বলেছেন, এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। তেহরান আলোচনায় অংশগ্রহণের বিষয়টি 'ইতিবাচকভাবে পর্যালোচনা করছে'।
তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ তুলে দিতে এবং ইরানের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তান ইতিবাচক প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাঈল বাগায়ি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি শেষ হওয়ার আগে পাকিস্তানে দ্রুত আলোচনা শুরু করতে চাচ্ছিল এবং ইসলামাবাদে ব্যাপক নিরাপত্তা প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছিল। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র "কিছু অযৌক্তিক ও অবাস্তব অবস্থানে অনড় রয়েছে''।
পাকিস্তানের একটি সূত্র জানিয়েছে, পাকিস্তানের প্রধান মধ্যস্থতাকারী ফিল্ড মার্শাল অসিম মুনির মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বলেছেন, অবরোধ আলোচনার পথে বাধা। ট্রাম্প এটি বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছেন বলেও জানান তিনি।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, তারা অবরোধ লঙ্ঘন করে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করা একটি ইরানি মালবাহী জাহাজ আটক করে। অন্যদিকে প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার করে তেহরান। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঝুঁকির মুখে পড়ে।
উল্লেখ্য, ট্রাম্প গত ৭ এপ্রিল ইরানের সঙ্গে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেন। তবে এটি ঠিক কখন শেষ হবে তা নির্দিষ্ট করে বলেননি।
সংশ্লিষ্ট একটি পাকিস্তানি সূত্র জানায়, এটি মঙ্গলবার ইরানের স্থানীয় সময় বুধবার ভোর সাড়ে ৩টায় শেষ হবে।
যুদ্ধবিরতি বাড়ানো হতে পারে কি না জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, "আমি জানি না। হয়তো না। হয়তো আমি বাড়াব না। তবে অবরোধ বহাল থাকবে।"
যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ অব্যাহত রেখেছে। অন্যদিকে ইরান হরমুজ প্রণালির ওপর নিজের অবরোধ তুলে নিয়ে আবার তা পুনর্বহাল করেছে।
পাকিস্তানের উদ্দেশে রওনা হননি ভ্যান্স
একটি সূত্র জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রেই আছেন। তিনি পাকিস্তানের উদ্দেশে রওনা হননি।
তিনি কবে রওনা হতে পারেন অথবা মার্কিন প্রতিনিধিদলের অন্য সদস্যরা পথে রয়েছেন নাকি ইতোমধ্যে ইসলামাবাদে পৌঁছেছেন— সেটিও স্পষ্ট নয়।
এর আগে, নিউইয়র্ক পোস্ট ট্রাম্পের বরাত দিয়ে জানিয়েছিল, ভ্যান্স ও একটি মার্কিন প্রতিনিধিদল কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইসলামাবাদে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনা আয়োজনের প্রচেষ্টায় পাকিস্তান প্রধান মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে।
