যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরবর্তী দফার আলোচনার কোনো তারিখ নির্ধারিত হয়নি: ইরান
ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পরবর্তী দফার আলোচনার জন্য কোনো তারিখ নির্ধারিত হয়নি বলে শনিবার জানিয়েছেন ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি আরও বলেন, আলোচনার আগে একটি সমঝোতার রূপরেখা অবশ্যই চূড়ান্ত করতে হবে।
উল্লেখ্য, ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর থেকে গত সপ্তাহের শেষে ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত সর্বোচ্চ পর্যায়ের যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রয়টার্সকে বলেন, চলতি সপ্তাহের শেষে আরও সরাসরি আলোচনা হতে পারে। তবে কিছু কূটনীতিকরা বলছেন, ইসলামাবাদে আবারও বৈঠকের আয়োজন করার মতো লজিস্টিক প্রস্তুতির অভাবে তা ঘটার সম্ভাবনা কম।
তুরস্কের দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশ আনতালিয়াতে একটি ডিপ্লোম্যাসি ফোরামের ফাঁকে সাংবাদিকদের সাইদ খতিবজাদে বলেন, 'আমরা এখন দুই পক্ষের মধ্যে একটি সমঝোতার রূপরেখা চূড়ান্ত করার দিকে মনোনিবেশ করছি। আমরা এমন কোনো আলোচনা বা বৈঠকে প্রবেশ করতে চাই না যা ব্যর্থ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এবং যা নতুন করে উত্তেজনা বৃদ্ধির ওজুহাত হিসেবে কাজ করতে পারে।'
তিনি আরও বলেন, 'যতক্ষণ না আমরা এই রূপরেখায় একমত হচ্ছি, ততক্ষণ আমরা কোনো তারিখ নির্ধারণ করতে পারছি না... প্রকৃতপক্ষে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছিল। কিন্তু অন্য পক্ষ ইরানের ওপর আন্তর্জাতিক আইনের বাইরে গিয়ে ব্যতিক্রমী শর্ত চাপিয়ে দেওয়ার যে সর্বোচ্চবাদী দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করেছে, তা আমাদের একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে বাধা দিয়েছে।' তিনি মূলত ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দাবির দিকে ইঙ্গিত করছিলেন।
খতিবজাদে স্পষ্টভাবে বলেন, 'আমি খুব পরিষ্কারভাবে বলে দিতে চাই, ইরান আন্তর্জাতিক আইনের বাইরে কোনো বিশেষ ব্যতিক্রম হিসেবে বিবেচিত হওয়া মেনে নেবে না। আমরা যা কিছু করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হব, তা আন্তর্জাতিক নিয়ম ও আইনের মধ্যেই থাকবে।'
বৃহস্পতিবার ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র-মধ্যস্থতাকৃত ১০ দিনের যুদ্ধবিরতির পর হরমুজ প্রণালি সাময়িকভাবে খুলে দেওয়া হলেও শনিবার তা আবারও বন্ধ করে দেওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে খতিবজাদে বলেন, ইরান ঘোষণা করেছিল যে তারা যুদ্ধবিরতির শর্ত অনুযায়ী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে নিরাপদ যাতায়াতের অনুমতি দেবে।
তিনি বলেন, 'অন্য পক্ষ অর্থাৎ আমেরিকান পক্ষ এতে নাশকতা করার চেষ্টা করেছে এই বলে যে—এটি সবার জন্য খোলা থাকলেও ইরানিদের জন্য নয়। এই কারণেই আমরা বলেছিলাম যে, আপনারা যদি যুদ্ধবিরতির শর্ত ও নিয়মাবলী লঙ্ঘন করেন এবং আমেরিকানরা যদি তাদের দেওয়া কথা না রাখে, তবে এর ফলাফল তাদের ভোগ করতে হবে।'
