চুক্তি না করলে সব উড়িয়ে দিয়ে ইরানের তেল দখল করব: ট্রাম্প; হরমুজ খুলতে যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ চায় ইরান
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার আজ (৫ এপ্রিল) ৩৭তম দিন। হামলার প্রথম দিন গত ২৮ ফেব্রুয়ারিতেই দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ অন্তত ৪০ জন শীর্ষ নেতা নিহত হন। এর জবাবে প্রতিশোধমূলক হামলা শুরু করেছে ইরান। দেশটি ইরাক, কুয়েত, বাহরাইন ও সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্য ও উপসাগরীয় অঞ্চলের যেসব দেশে মার্কিন ঘাঁটি রয়েছে, সেগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে ইসরায়েলের বিভিন্ন শহরেও হামলা হচ্ছে। এতে সংঘাত ধীরে ধীরে পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে।
চুক্তি না করলে সবকিছু উড়িয়ে দিয়ে ইরানের তেল সম্পদ দখল করব: ট্রাম্প
ইরানের অবকাঠামোর ওপর সম্ভাব্য হামলা নিয়ে আবারও হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, 'তারা (ইরান) যদি দ্রুত কোনো চুক্তিতে না পৌঁছায়, তাহলে আমি সবকিছু উড়িয়ে দিয়ে তেলসম্পদ দখলে নেওয়ার কথা ভাবছি।'
মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে টেলিফোনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি ইরানের উদ্দেশ্যে এ হুমকি দেন। ফোনে ট্রাম্প আরও বলেছেন, 'তাদের (ইরান) পুরো দেশে সেতু আর বিদ্যুৎকেন্দ্র ধসে পড়তে দেখবেন।'
মার্কিন প্রেসিডেন্ট দাবি করেছেন, কিছু ইরানি কর্মকর্তা 'এখন আলোচনা করছেন' এবং তিনি মনে করেন, সোমবারের মধ্যে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর 'ভালো সম্ভাবনা' রয়েছে।
তবে তেহরান কোনো চুক্তি করতে চাইছে- ট্রাম্পের এমন দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন ইরানের কর্মকর্তারা।
হরমুজ খুলতে যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ চায় ইরান
যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ ছাড়া হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে ইরান। ইরানের প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের যোগাযোগ বিষয়ক উপ-প্রধান সাইয়েদ মেহেদি তাবাতাবেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে এ কথা বলেছেন।
তাবাতাবেই বলেছেন, ট্রানজিট ফি-র ওপর ভিত্তি করে একটি 'নতুন আইনি কাঠামো বা ব্যবস্থার' মাধ্যমে এই ক্ষতিপূরণ পরিশোধ করতে হবে।
ট্রাম্পের 'বেপরোয়া পদক্ষেপের' কারণে 'পুরো অঞ্চল পুড়বে': ইরানের স্পিকার
ইরানের বিরুদ্ধে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন করে দেওয়া হুমকির প্রতিক্রিয়ায় ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মাদ বাকের গালিবফ বলেছেন, তার এই 'বেপরোয়া পদক্ষেপের' ফলে 'পুরো অঞ্চল পুড়বে'।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ইংরেজিতে লেখা একটি পোস্টে ট্রাম্পকে উদ্দেশ্য করে স্পিকার বলেছেন: 'আপনার বেপরোয়া পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রকে প্রতিটি পরিবারের জন্য এক জীবন্ত নরকের দিকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে এবং আমাদের পুরো অঞ্চল পুড়তে চলেছে। কারণ, আপনি নেতানিয়াহুর (ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী) নির্দেশ অনুসরণ করার ব্যাপারে জেদ করছেন।'
গালিবফ আরও লিখেছেন: 'কোনো ভুল করবেন না: যুদ্ধাপরাধের মাধ্যমে আপনি কিছুই অর্জন করতে পারবেন না।'
'একমাত্র প্রকৃত সমাধান হলো ইরানি জনগণের অধিকারকে সম্মান করা এবং এই বিপজ্জনক খেলা বন্ধ করা', লিখেছেন স্পিকার।
ট্রাম্প নিজেই 'প্রস্তর যুগে আটকে গেছেন': ইরানের ভাইস প্রেসিডেন্ট
যুক্তরাষ্ট্রে সামাজিক কর্মসূচির জন্য তহবিলের অভাব নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন ইরানের প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ রেজা আরেফ।
মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলো এই সপ্তাহে জানিয়েছে, ট্রাম্প বলেছেন, তার সরকারের পক্ষে চিকিৎসা ও শিশু পরিচর্যা খাতে অর্থায়ন করা সম্ভব নয়। কারণ, সরকার সামরিক ব্যয়ের দিকেই বেশি মনোযোগ দিচ্ছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ রেজা আরেফ লিখেছেন, ট্রাম্প গত রাতে যুদ্ধকে অজুহাত হিসেবে দেখিয়ে মার্কিন জনগণের জন্য 'শিশু পরিচর্যা ও স্বাস্থ্যসেবা' প্রদানে তার অক্ষমতার কথা বলেছেন এবং আজ তিনি ইরানের 'বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতু' ধ্বংস করার হুমকি দিয়েছেন।
''যে ব্যক্তি অন্যদের হুমকি দেওয়ার জন্য নিজের জনগণের কল্যাণকে বিসর্জন দেয়, তিনি এখনও 'প্রস্তর যুগে' আটকে আছেন। তবে ইরান একটি ভিন্ন পথ বেছে নিয়েছে: চাপের মুখেও নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাওয়া।"
উল্লেখ্য, সম্প্রতি ট্রাম্প বারবার ইরানকে বোমা মেরে 'স্টোন এজ' বা প্রস্তর যুগে ফেরত পাঠানোর হুমকি দেন।
কুয়েতের তেল স্থাপনায় ইরানি ড্রোন হামলা: ব্যাপক অগ্নিকাণ্ড ও ক্ষয়ক্ষতির খবর
ইরানের ড্রোন হামলার ফলে কুয়েতের বেশ কয়েকটি তেল স্থাপনায় 'উল্লেখযোগ্য বস্তুগত ক্ষয়ক্ষতি' হয়েছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা কুনা কুয়েত পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের বরাতে এই তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ড্রোন হামলার ফলে বেশ কয়েকটি স্থাপনায় আগুনের সূত্রপাত হয়। আগুন যাতে পার্শ্ববর্তী অন্যান্য স্থাপনায় ছড়িয়ে পড়তে না পারে, সেজন্য দ্রুত দমকল বাহিনীকে মোতায়েন করা হয়।
কুয়েত পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন জানিয়েছে, এই হামলায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
আমেরিকান 'রিপার' ও ইসরায়েলি 'হার্মিস' ড্রোন ধ্বংসের দাবি ইরানের
ইরানের সেনাবাহিনী দাবি করেছে যে তারা ইসফাহান প্রদেশে যুক্তরাষ্ট্রের দুটি 'এমকিউ-৯ রিপার' ড্রোন এবং ইসরায়েলের বেশ কয়েকটি 'হার্মিস ৯০০' ড্রোন ধ্বংস করেছে। ইরানের আধা-সরকারি বার্তাসংস্থা ফারস নিউজ এজেন্সি এই তথ্য জানিয়েছে।
ইরানি কর্মকর্তারা দাবি করেছেন যে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশটির অভ্যন্তরে বেশ কয়েকটি বিদেশি বিমান ও ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে।
এর আগে, ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) একজন মুখপাত্র জানিয়েছিলেন যে ইরানি বাহিনী যুক্তরাষ্ট্রের দুটি 'সি-১৩০' সামরিক পরিবহন বিমান এবং দুটি 'ব্ল্যাক হক' হেলিকপ্টার ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে।
মার্কিন বিমানের ধ্বংসাবশেষের ছবি প্রকাশ করলেন ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার
ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ সমাজমাধ্যম এক্স-এ ইরানি বাহিনীর হামলায় ভূপাতিত একটি মার্কিন বিমানের ধ্বংসাবশেষের ছবি প্রকাশ করেছেন।
এর আগে ইরানি সংবাদ সংস্থা ফারস জানিয়েছিল, নিখোঁজ মার্কিন পাইলটের খোঁজে তল্লাশি অভিযানে নেমেছিল একটি 'সি-১৩০' মার্কিন বিমান। পুলিশের এক কমান্ডো বাহিনী সেটিকে ধ্বংস করেছে।
বাহরাইনের রাসায়নিক কারখানায় ড্রোন হামলা, আগুন
বাহরাইনের গালফ পেট্রোকেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ কোং জানিয়েছে, তাদের কারখানার বেশ কয়েকটি ইউনিটে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান।
বাহরাইন নিউজ এজেন্সির তথ্যমতে, ওই হামলার জেরে কারখানার সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলোতে আগুন লেগে গিয়েছিল। তবে দ্রুত তা নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে।
এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর মেলেনি। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ খতিয়ে দেখতে এবং পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরিতে বিশেষজ্ঞ দল কাজ শুরু করেছে বলে ওই রিপোর্টে জানানো হয়েছে।
মার্কিন উদ্ধারকারী বিমান ভূপাতিত করার দাবি আইআরজিসির
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) দাবি করেছে যে, তারা একটি মার্কিন বিমান ভূপাতিত করেছে। বিমানটি দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশ ইসফাহানে নিখোঁজ এক মার্কিন কর্মকর্তাকে উদ্ধারের অভিযানে নিয়োজিত ছিল বলে জানা গেছে।
ইরানি সংবাদ সংস্থা 'ফারস নিউজ' তাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে একটি ছবি পোস্ট করেছে, যেখানে একটি মাঠ থেকে ঘন ধোঁয়া উড়তে দেখা যাচ্ছে। ছবিটির ক্যাপশনে সংস্থাটি লিখেছে, 'বিশাল এক পরাজয় আড়াল করতে ট্রাম্পের মরিয়া চেষ্টা।'
আইআরজিসি-র এই দাবি এমন এক সময়ে এলো যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, নিখোঁজ ক্রু সদস্যকে উদ্ধার করা হয়েছে।
মূলত ওই নিখোঁজ কর্মকর্তাকে খুঁজতে চলা উদ্ধার অভিযান চলাকালীনই ইরান বিমানটি ভূপাতিত করার এই দাবি জানালো। তবে এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
'আমরা তাকে ফিরে পেয়েছি': মার্কিন যুদ্ধবিমানের দ্বিতীয় ক্রু-কেও উদ্ধারের পর ট্রাম্প
ইরানে ভূপাতিত মার্কিন এফ-১৫ই যুদ্ধবিমানের নিখোঁজ অস্ত্র কর্মকর্তাকে উদ্ধারের খবর নিশ্চিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। উদ্ধারকৃত ওই কর্মকর্তা মার্কিন বিমানবাহিনীর একজন 'কর্নেল' পদমর্যাদার অফিসার।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে ট্রাম্প অত্যন্ত উল্লাসের সাথে ঘোষণা করেন, 'আমরা তাকে পেয়েছি! আমার আমেরিকান ভাই ও বোনেরা, গত কয়েক ঘণ্টায় মার্কিন সামরিক বাহিনী আমাদের একজন অসাধারণ ক্রু মেম্বারকে উদ্ধারে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের অন্যতম দুঃসাহসিক 'সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ' অপারেশন চালিয়েছে। আমি অত্যন্ত আনন্দের সাথে জানাচ্ছি যে, তিনি এখন সম্পূর্ণ নিরাপদ ও সুস্থ আছেন।'
ট্রাম্প জানান, বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার পর থেকেই মার্কিন সামরিক বাহিনী ওই কর্মকর্তার অবস্থান ২৪ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণ করছিল এবং তাকে উদ্ধারের জন্য অত্যন্ত নিবিড় পরিকল্পনা করা হয়েছিল। এই অভিযানে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী ও মারণাস্ত্রে সজ্জিত ডজনখানেক যুদ্ধবিমান অংশ নেয়।
উদ্ধারকৃত কর্মকর্তার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে প্রেসিডেন্ট বলেন, 'অভিযান চলাকালে তিনি কিছু আঘাত পেয়েছেন, তবে তিনি দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবেন।'
পুরো অভিযানের সাফল্য তুলে ধরে ট্রাম্প আরও বলেন, 'কোনো ধরনের প্রাণহানি বা একজন মার্কিন সেনাও আহত হওয়া ছাড়াই আমরা এই দুটি অপারেশন (বিমান উদ্ধার ও সেনা উদ্ধার) সফলভাবে সম্পন্ন করতে পেরেছি। এটি আবারও প্রমাণ করে যে, ইরানের আকাশসীমায় আমাদের সামরিক বাহিনী নিরঙ্কুশ আধিপত্য বজায় রেখেছে।'
উল্লেখ্য, এর আগে ওই বিমান ক্রুরা দুই দিন ধরে ইরানি কর্তৃপক্ষের চোখ ফাঁকি দিয়ে আত্মগোপনে ছিলেন, যাকে শেষ পর্যন্ত এক শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানের মাধ্যমে উদ্ধার করে মার্কিন বিশেষ বাহিনী।
ইরানে ভূপাতিত মার্কিন যুদ্ধবিমানের দ্বিতীয় ক্রু-কেও উদ্ধার করে আনার দাবি
ইরানের মাটিতে ভূপাতিত মার্কিন যুদ্ধবিমান এফ-১৫ই-র নিখোঁজ ক্রু সদস্যের সন্ধান মিলেছে। মার্কিন সরকারের একজন কর্মকর্তা আল জাজিরা-কে জানিয়েছেন, 'তীব্র গোলাগুলির' পর ওই চালককে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
একজন মার্কিন কর্মকর্তা আল জাজিরাকে বলেন, ওই ক্রুকে নিরাপদে ইরান থেকে বের করে নেওয়া হয়েছে।
একাধিক মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে সিবিএস নিউজ জানিয়েছে, রোববার স্থানীয় সময় খুব ভোরে মার্কিন বাহিনী ওই ক্রুকে ইরানের একটি প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে উদ্ধার করে। শুক্রবার তার অবস্থান চিহ্নিত হয়েছিল।
সূত্রের খবর, গত রাতে ইরানেই ওই ক্রু সদস্যের খোঁজ পায় মার্কিন উদ্ধারকারী দল। এর পরেই তাকে নিরাপদে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়।
তবে উদ্ধারকাজ চলাকালীন ইরান ও মার্কিন—দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র গুলি বিনিময় শুরু হয়। এতে গোটা এলাকা রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়।
তবে ওই মার্কিন সেনা পুরুষ নাকি নারী, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ট্রাম্পের ৪৮ ঘণ্টার 'অসহায়, উদ্বিগ্ন' আল্টিমেটাম প্রত্যাখ্যান করল ইরান
৪৮ ঘণ্টার মধ্যে শান্তিচুক্তি মেনে না নিলে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ধ্বংস করে দেওয়ার ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকি প্রত্যাখ্যান করেছে দেশটির কেন্দ্রীয় সামরিক কমান্ড।
খাতাম আল-আম্বিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্স থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জেনারেল আলি আবদোল্লাহি আলিয়াবাদি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের এ হুমকিকে "অসহায়, স্নায়ুচাপগ্রস্ত, ভারসাম্যহীন ও নির্বোধ পদক্ষেপ" বলে অভিহিত করেন।
তিনি বলেন, "মার্কিন-জায়নবাদী শত্রু যদি কোনো আগ্রাসন চালায়, তাহলে আমরা কোনো সীমাবদ্ধতা ছাড়াই মার্কিন সন্ত্রাসী বাহিনী ব্যবহৃত সব অবকাঠামো এবং জায়নবাদী শাসনের অবকাঠামোর ওপর ধারাবাহিক ও ধ্বংসাত্মক হামলা চালাব।"
এর আগে ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছিলেন, "মনে আছে, আমি ইরানকে ১০ দিন সময় দিয়েছিলাম চুক্তি করতে বা হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে। সময় ফুরিয়ে আসছে—আর ৪৮ ঘণ্টা, তারপর তাদের ওপর নরক নেমে আসবে। স্রষ্টার রক্ষা করুন।"
জবাবে আলিয়াবাদি সতর্ক করে বলেন, "এই বার্তার সরল অর্থ হলো, নরকের দরজা তোমাদের জন্যই খুলবে।"
ইরানের ড্রোন হামলায় কুয়েতের বিদ্যুৎ ও পানি স্থাপনায় 'গুরুতর ক্ষয়ক্ষতি'
কুয়েতের বিদ্যুৎ, পানি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, ইরানের ড্রোন হামলায় দেশটির দুটি বিদ্যুৎকেন্দ্র ও পানি শোধন প্ল্যান্ট গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
মুখপাত্র ফাতিমা আব্বাস জোহার হায়াত বলেন, এই "অপরাধমূলক আগ্রাসনে" স্থাপনাগুলোর "গুরুতর ভৌত ক্ষয়ক্ষতি" হয়েছে এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনের দুটি ইউনিট বন্ধ হয়ে গেছে।
তবে এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি বলেও তিনি জানান।
কুয়েতের অবকাঠামো লক্ষ্য করে সাম্প্রতিক হামলাগুলোর মধ্যে এটিই সর্বশেষ। এর আগে অন্য ড্রোন হামলায় শুয়াইখ অয়েল সেক্টর কমপ্লেক্সে আগুন লাগে এবং একটি সরকারি অফিস কমপ্লেক্সের "উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি" হয়।
কুয়েতের অয়েল কমপ্লেক্সে ড্রোন হামলার পর আগুন
ড্রোন হামলার পর কুয়েতের শুয়াইখ অয়েল সেক্টর কমপ্লেক্সে আগুন লেগেছে বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম কুনা।
তারা জানিয়েছে, এ ঘটনায় কেউ আহত হয়নি। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিস ও জরুরি সেবার সদস্যরা কাজ করছেন।
