মার্কিন বাহিনী ইরানের জাহাজ দখলের পর বাড়ল তেলের দাম
মার্কিন বাহিনী ইরানের পতাকাবাহী একটি কার্গো জাহাজ মাঝসমুদ্রে আটকে দখল করার পর সোমবার বিশ্ববাজারে তেলের দাম এক ধাক্কায় অনেকটাই বেড়ে গেছে। অন্যদিকে, পতন দেখা দিয়েছে স্টক ফিউচারস-এ।
শনিবারই ইরান ঘোষণা দিয়েছিল, হরমুজ প্রণালি দিয়ে সমস্ত বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল ফের বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে; ওই নৌপথের ধারেকাছে কোনো জাহাজ দেখা গেলে তাকে লক্ষ্য করে গুলি করা হবে। সোমবার তার প্রতিফলন দেখা গেছে বাজারে।
শুক্রবার ৯ শতাংশ কমার পর সোমবার আবার ৬ শতাংশ বেড়ে গেছে তেলের দাম।
এদিন বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারস তেলের দাম প্রায় ৬.১১ ডলার বা ৬.৭৬ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৬.৪৯ ডলারে ঠেকেছে । অন্যদিকে প্রতি ব্যারেল মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ৬.৫৩ ডলার বা ৭.৭৯ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ৯০.৩৮ ডলার।
অন্যদিকে 'এসঅ্যান্ডপি ৫০০' ফিউচারসে পতন হয়েছে প্রায় ০.৬ শতাংশ। ইউরোপীয় ফিউচারসও ১.১ শতাংশ নিম্নমুখী।
মঙ্গলবার পর্যন্ত যুদ্ধবিরতি চলার কথা থাকলেও মার্কিন বাহিনী ইরানের পণ্যবাহী জাহাজ দখলের পর থেকেই পরিস্থিতি অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে। ইরানও পাল্টা জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। ফলে যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।
সিডনির উইলসন অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট-এর পোর্টফোলিও স্ট্র্যাটেজিস্ট ডেমিয়েন বোয়ি বলেন, 'খবরের শিরোনামগুলো বেশ আশঙ্কাজনক। দুই পক্ষের মতবিরোধ স্পষ্ট, যার ফলে পরিস্থিতি নতুন করে জটিল হচ্ছে।' তবে তার মতে, দুই দেশই শেষ পর্যন্ত চুক্তি করতে আগ্রহী। সেই আশাতেই বাজার পুরোপুরি ভেঙে পড়েনি।
সোমবার হংকংয়ের হ্যাং সেং সূচক ০.৮ শতাংশ, জাপানের নিক্কেই ১ শতাংশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার কোস্পি ১.৪ শতাংশ ঊর্ধ্বমুখী ছিল।
২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে মার্কিন-ইসরায়েলি আগ্রাসন শুরু হওয়ার পর থেকেই জ্বালানি তেলের বাজারে অস্থিরতা তুঙ্গে। হামলার শিকার হওয়ার পর হরমুজ প্রণালিতে কার্যত অবরুদ্ধ করে রেখেছে তেহরান। বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় ২০ শতাংশ এই সংকীর্ণ নৌপথ দিয়েই পরিবাহিত হয়।
ইরান যুদ্ধ শুরুর আগে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ছিল ব্যারেলপ্রতি ৭০ ডলারের নিচে। ৯ মার্চ তা প্রায় ১২০ ডলারে পৌঁছে গিয়েছিল।
এই সংঘাতের জেরে বিশ্বজুড়ে তীব্র জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে এশিয়া। কারণ, এই অঞ্চলের দেশগুলোর প্রয়োজনীয় জ্বালানির প্রায় ৯০ শতাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়েই আসে।
জ্বালানি সাশ্রয়ে বিভিন্ন দেশের সরকার কর্মচারীদের বাড়ি থেকে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছে। কোথাও সাপ্তাহিক কাজের দিন কমানো হয়েছে, আবার কোথাও জাতীয় ছুটি ঘোষণা করে বা বিশ্ববিদ্যালয় আগেভাগে বন্ধ করে দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
সিঙ্গাপুর ও থাইল্যান্ডসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কিছু দেশে মানুষকে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের (এসি) ব্যবহার কমানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় রদবদল করছে চীনও। দেশটিতে খুচরো বাজারে তেলের দাম এক ধাক্কায় ২০ শতাংশ বেড়ে গেছে।
অন্যদিকে, জেট ফুয়েল মূল্যবৃদ্ধির জেরে সংকটে পড়েছে বিমান এয়ারলাইনগুলোও।
ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সির (আইইএ) গত সপ্তাহে বলেছিলেন, ইউরোপের হাতে আর মাত্র ছয় সপ্তাহের জেট ফুয়েলের মজুত রয়েছে।
আইইএ-প্রধান ফাতিহ বিরল এপিকে বলেন, জেট ফুয়েলের সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে অচিরেই বহু ফ্লাইট বাতিল করতে হতে পারে।
