হাজারো মার্কিন কোম্পানির ব্যবহৃত সফটওয়্যার হ্যাক উত্তর কোরিয়ান হ্যাকারদের; ক্রিপ্টো নিরাপত্তা বিপন্ন
ফের উত্তর কোরিয়ান হ্যাকারদের বিরুদ্ধে হাজার হাজার মার্কিন কোম্পানির ব্যবহৃত ওপেন-সোর্স সফটওয়্যার 'এক্সিওস'-এ ম্যালওয়্যার ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
মঙ্গলবার মার্কিন সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, উত্তর কোরিয়ান হ্যাকাররা একটি বড় সাপ্লাই-চেইন হামলা চালিয়েছে। সফটওয়্যারটির নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে কয়েক মাস সময় লাগতে পারে।
হ্যাকের তদন্তে অংশ নেওয়া বিশেষজ্ঞরা সিএনএনকে বলেছেন, তাদের ধারণা এই আক্রমণ দীর্ঘমেয়াদী ক্রিপ্টোকারেন্সি চুরির অংশ, যা উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রোগ্রামের তহবিল যোগাতে কাজে লাগে।
মঙ্গলবার সকালে হ্যাকাররা তিন ঘণ্টা সফটওয়্যার ডেভেলপার অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছিল। তারা ওই ডেভেলপার ওপেন-সোর্স সফটওয়্যার 'এক্সিওস'-এ ম্যালওয়্যার ছড়িয়ে দেয়। হ্যাকাররা ওই অ্যাক্সেস ব্যবহার করে সফটওয়্যার ডাউনলোড করা সব কম্পিউটারে আপডেট পাঠিয়েছিল।
নিজেদের ওয়েবসাইট নির্মাণ ও পরিচালনা সহজ করতে অর্থ, স্বাস্থ্যসেবা ও প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন খাতের নানা প্রতিষ্ঠান 'এক্সিওস' ব্যবহার করে। কিছু ক্রিপ্টোকারেন্সি সংস্থা এবং ক্রিপ্টো খাতে সক্রিয় প্রযুক্তি সংস্থাও এই সফটওয়্যার ব্যবহার করে।
গুগলের মালিকানাধীন সাইবার-ইন্টেলিজেন্স ফার্ম 'ম্যানডিয়ান্ট' নিশ্চিত করেছে, উত্তর কোরিয়ার একটি হ্যাকিং গ্রুপ এই আক্রমণের পিছনে রয়েছে।
ম্যানডিয়ান্ট -এর প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা চার্লস কার্মাকাল সিএনএনকে বলেছেন, 'আমরা ধারণা করছি তারা সম্প্রতি পাওয়া লগইন তথ্য এবং সিস্টেম অ্যাক্সেস ব্যবহার করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে ক্রিপ্টোকারেন্সি চুরি করার চেষ্টা করবে। এই হামলার প্রভাব মূল্যায়নে সম্ভবত কয়েক মাস সময় লাগবে।'
হান্ট্রেসের সিকিউরিটি গবেষক জন হ্যামন্ড জানান, তাদের সংস্থা প্রায় ১২টি কোম্পানির ১৩৫টি হ্যাক হওয়া ডিভাইস শনাক্ত করেছে। তবে এটি কেবল প্রাথমিক তথ্য; এ সংখ্যা আরও অনেক বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
উত্তর কোরিয়ার হ্যাকাররা বিগত কয়েক বছরে ব্যাংক ও ক্রিপ্টো সংস্থা থেকে কয়েক বিলিয়ন ডলার চুরি করেছে।
২০২৩ সালে হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা অভিযোগ করেন, উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির প্রায় অর্ধেক অর্থ ডিজিটাল চুরি থেকে সংগৃহীত।
গত বছর, উত্তর কোরিয়ান হ্যাকাররা একটিমাত্র আক্রমণে ১.৫ বিলিয়ন ডলার ক্রিপ্টোকারেন্সি হাতিয়ে নেয়, যা তখন রেকর্ড ক্রিপ্টো হ্যাক হিসেবে বিবেচিত হয়।
হান্ট্রেসের গবেষক জন হ্যামন্ড এই হ্যাককে 'অনুমেয়' বলে বর্ণনা করেছেন। কারণ এখন অনেক প্রতিষ্ঠান 'কোনো পর্যালোচনা বা নিয়ন্ত্রণ ছাড়া'ই এআই এজেন্ট ব্যবহার করে সফটওয়্যার তৈরি করছে।
হ্যামন্ড সিএনএনকে বলেছেন, 'আজকের দিনে সফটওয়্যার সাপ্লাই চেইনের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হলো খোলা দরজা।'
