ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান ‘গুটিয়ে আনার’ কথা ভাবছেন ট্রাম্প, ইরানি তেল কেনায় নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে শিথিল
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার আজ (২১ মার্চ) ২২তম দিন। হামলার প্রথম দিন গত ২৮ ফেব্রুয়ারিতেই দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ অন্তত ৪০ জন শীর্ষ নেতা নিহত হন। এর জবাবে প্রতিশোধমূলক হামলা শুরু করেছে ইরান। দেশটি ইরাক, কুয়েত, বাহরাইন ও সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্য ও উপসাগরীয় অঞ্চলের যেসব দেশে মার্কিন ঘাঁটি রয়েছে, সেগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে ইসরায়েলের বিভিন্ন শহরেও হামলা হচ্ছে। এতে সংঘাত ধীরে ধীরে পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে।
নাতাঞ্জ পারমাণবিক কেন্দ্রে ফের যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা
ইরানের নাতাঞ্জ পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্রে পুনরায় বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। ইরানের সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সির এক প্রতিবেদনে আজ এই দাবি করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আজ সকালে নাতাঞ্জ পারমাণবিক কেন্দ্র লক্ষ্য করে এই বিমান হামলা চালানো হয়। তবে হামলার ফলে ওই কমপ্লেক্স থেকে কোনো তেজস্ক্রিয় পদার্থ নির্গত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।
এছাড়া পারমাণবিক কেন্দ্রটির আশেপাশের এলাকার বাসিন্দাদের জন্য কোনো বিপদের আশঙ্কা নেই বলেও প্রতিবেদনে আশ্বস্ত করা হয়েছে।
'যুদ্ধ সম্পূর্ণ এবং স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে হবে': ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাথে চলমান যুদ্ধের অবসানে শুধুমাত্র সাময়িক যুদ্ধবিরতি যথেষ্ট নয় বলে জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। জাপানের কিয়োডো নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জোর দিয়ে বলেন, 'তেহরান এই যুদ্ধের স্থায়ী সমাধান চায়।'
শুক্রবার প্রকাশিত ঐ সাক্ষাৎকারে আরাগচি বলেন, 'আমাদের বার্তা পরিষ্কার—এই যুদ্ধ আমাদের নয়। এটি আমাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। যখন আমরা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনারত ছিলাম, ঠিক তখনই তারা আমাদের ওপর হামলার সিদ্ধান্ত নেয়। এটি একটি প্রকাশ্য, অবৈধ এবং উস্কানিমূলক আগ্রাসন।'
নিজের টেলিগ্রাম অ্যাকাউন্টে শেয়ার করা সাক্ষাৎকারের অনুলিপি অনুযায়ী আরাগচি আরও বলেন, 'আমরা যা করছি তা শুধুই আত্মরক্ষা। যতক্ষণ প্রয়োজন এবং যেভাবে প্রয়োজন, আমরা নিজেদের রক্ষা করে যাব।'
যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে ইরানের শীর্ষ এই কূটনীতিক বলেন, 'আমি আবারও বলছি, আমাদের অবস্থান হলো আমরা কেবল যুদ্ধবিরতি মেনে নেব না। কারণ আমরা গত বছরের পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি চাই না। যুদ্ধ অবশ্যই সম্পূর্ণ এবং স্থায়ীভাবে বন্ধ হতে হবে। এছাড়া ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটবে না—এমন গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তা থাকতে হবে।'
তেহরানে আইআরজিসি কমান্ডার নাইনির জানাজা
মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলায় নিহত ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী মোহাম্মদ নাইনির জানাজা ও শোকমিছিলে হাজার হাজার মানুষ অংশগ্রহণ করেছেন। ইরানের সংবাদ সংস্থা 'ইরানিয়ান স্টুডেন্টস নিউজ এজেন্সি' (ইসনা) এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
শনিবার (২১ মার্চ) ইরানের রাজধানী তেহরানে নাইনির এই শেষকৃত্য অনুষ্ঠানটি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হলো, যখন দেশজুড়ে পবিত্র ঈদুল ফিতর এবং পারস্য নববর্ষ 'নওরোজ' উদযাপিত হচ্ছে। উৎসবের আবহের মধ্যেই শোকাতুর হাজারো মানুষ তার জানাজায় শামিল হন।
আইআরজিসি জানিয়েছে, ৬৮ বছর বয়সী এই সামরিক কর্মকর্তা গত রাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় নিহত হন। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে একের পর এক শীর্ষ ইরানি কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে যে হামলা ও গুপ্তহত্যা চালানো হচ্ছে, নাইনি সেই তালিকায় সর্বশেষ সংযোজন।
ইরান যুদ্ধের নিন্দা জানিয়ে কারবালায় হাজার হাজার মানুষের ঈদের নামাজ আদায়
ইরাকের পবিত্র নগরী কারবালায় দশ সহস্রাধিক শিয়া মুসলিম একত্রিত হয়ে পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করেছেন। এক মাস সিয়াম সাধনা শেষে রমজানের সমাপ্তি উপলক্ষে এই বিশাল জমায়েত অনুষ্ঠিত হয়।
কারবালার ঈদের জামাতের ইমাম শেখ আহমদ আল-সাফি তার খুতবায় ইরান ও লেবাননে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। ইরাকি ও ইরানি সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানানো হয়েছে, খুতবায় তিনি ভয়াবহ বিমান হামলায় ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন এবং তাদের সহায়তায় আন্তর্জাতিক সমর্থন গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
ইরানের মেহের নিউজ এজেন্সির প্রকাশিত একটি ছবিতে দেখা গেছে, ইমাম হোসেন ও আবু ফজল আল-আব্বাসের পবিত্র মাজার দুটির মধ্যবর্তী প্রধান 'বাইন আল-হারামাইন' চত্বরে হাজার হাজার মানুষ কাতারবদ্ধ হয়ে নামাজ আদায় করছেন।
উল্লেখ্য, শিয়া মুসলিমদের কাছে কারবালা বিশ্বের অন্যতম পবিত্রতম ধর্মীয় স্থান হিসেবে বিবেচিত। যুদ্ধের আবহে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে এবারের ঈদ উদযাপিত হলো এই নগরীতে।
হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালু করতে সহায়তা দিতে প্রস্তুত জাতিসংঘ: গুতেরেস
হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার ক্ষেত্রে সব ধরনের সহযোগিতা করতে জাতিসংঘ প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। ২০২২ সালে ইউক্রেনের শস্য ও সার পরিবহনের সুযোগ দিতে জাতিসংঘ যেভাবে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে একটি চুক্তিতে মধ্যস্থতা করেছিল, হরমুজ প্রণালীর ক্ষেত্রেও তারা একই ধরনের ভূমিকা রাখতে চায়।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম 'পলিটিকো'-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে আন্তোনিও গুতেরেস এই আগ্রহ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, "আমার প্রধান লক্ষ্য হলো হরমুজ প্রণালীতে আগে যে ধরনের (স্বাভাবিক) পরিস্থিতি বিদ্যমান ছিল, তা ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় পরিবেশ তৈরি করা সম্ভব কি না সেটি দেখা।"
গুতেরেস আরও জানান, বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে জাতিসংঘ বর্তমানে পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর পাশাপাশি ইউরোপীয় কাউন্সিলের সঙ্গেও নিবিড়ভাবে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।
৭০তম দফায় প্রতিশোধমূলক হামলার ঘোষণা দিল আইআরজিসি
পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলসহ এর বাইরে মার্কিন ও ইসরায়েলি স্বার্থ লক্ষ্য করে ৭০তম দফায় প্রতিশোধমূলক হামলা চালিয়েছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। এবারের অভিযানে অন্তত ৫৫টি স্থানকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে আইআরজিসি-র পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
ইরানের ইংরেজি ভাষার সংবাদমাধ্যম 'প্রেস টিভি'র ওয়েবসাইটে প্রকাশিত আইআরজিসি-র এক বিবৃতিতে এই সর্বশেষ হামলার বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, প্রতিটি লক্ষ্যবস্তু এলাকায় "প্রচণ্ড বিস্ফোরণ, আগুনের লেলিহান শিখা এবং ধোঁয়ার কুণ্ডলী" দেখা গেছে।
শনিবার (২১ মার্চ) ভোরের দিকে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে চালানো এই হামলা প্রতিহত করতে সৌদি আরব, কুয়েত এবং ইসরায়েলসহ অঞ্চলের বেশ কয়েকটি দেশ তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করার কথা জানিয়েছে।
এদিকে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, ভারত মহাসাগরের ডিয়েগো গার্সিয়া দ্বীপে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের যৌথ সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ইরান অন্তত দুটি মাঝারি পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে।
মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় ইরানে নিহতের সংখ্যা ৩ হাজার ছাড়াল
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ৩ হাজার ২২০ জন নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে মানবাধিকার সংস্থা 'হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্ট নিউজ এজেন্সি' (এইচআরএএনএ)। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এই সংস্থাটি মূলত 'হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্ট ইন ইরান' (এইচআরএআই) সংগঠনের একটি অঙ্গপ্রতিষ্ঠান।
সংস্থাটির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে অন্তত ১ হাজার ৩৯৮ জন বেসামরিক নাগরিক রয়েছেন, যার মধ্যে অন্তত ২১০ জন শিশু। এছাড়া ১ হাজার ১৬৫ জন সামরিক সদস্য এবং আরও ৬৫৭ জন নিহত হয়েছেন যাদের দাপ্তরিক পরিচয় বা ভূমিকা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
তবে হতাহতের সংখ্যা নিয়ে ইরানের সরকারি পরিসংখ্যান ও এই মানবাধিকার সংস্থার তথ্যের মধ্যে বড় ধরনের পার্থক্য দেখা গেছে। ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া সর্বশেষ সরকারি তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ১ হাজার ৪৪৪ জন নিহত এবং ১৮ হাজার ৫৫১ জন আহত হয়েছেন।
তথ্য সংগ্রহের প্রক্রিয়া সম্পর্কে এইচআরএএনএ জানিয়েছে, তারা মাঠপর্যায়ের প্রতিবেদন, স্থানীয় সূত্র, চিকিৎসা ও জরুরি সেবা কেন্দ্র এবং সুশীল সমাজের নেটওয়ার্ক থেকে তথ্য সংগ্রহ করেছে। এছাড়া প্রাসঙ্গিক ছবি, ভিডিও এবং সরকারি বিবৃতির মতো প্রকাশ্য উৎসগুলোও তারা পর্যালোচনায় রেখেছে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা জানিয়েছে, তারা মানবাধিকার সংস্থাটির দেওয়া এই হতাহতের সংখ্যার বিষয়টি স্বতন্ত্রভাবে যাচাই করতে পারেনি।
ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযান 'গুটিয়ে আনার' কথা ভাবছেন ট্রাম্প
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার জানিয়েছেন, তিনি ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযান 'গুটিয়ে আনার' কথা ভাবছেন। একই সময়ে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের সরবরাহ সংকট মেটাতে ইরানের তেলের ওপর থেকে সাময়িকভাবে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যাল-এ লিখেছেন, 'মধ্যপ্রাচ্যে আমাদের বিশাল সামরিক তৎপরতা গুটিয়ে নেওয়ার কথা আমরা ভাবছি। আমরা আমাদের লক্ষ্য অর্জনের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছি।' গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই সংঘাত যে দ্রুত শেষ হতে যাচ্ছে, ট্রাম্পের এই বার্তাটিকে তার এখন পর্যন্ত সবথেকে জোরালো সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ট্রাম্পের এই বার্তার পরপরই হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ লিখেছেন, 'প্রেসিডেন্ট এবং পেন্টাগন আগে থেকেই ধারণা করেছিলেন যে, এই মিশন সম্পন্ন করতে প্রায় ৪ থেকে ৬ সপ্তাহ সময় লাগবে।'
বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ইরানি তেল কেনায় নিষেধাজ্ঞা শিথিল যুক্তরাষ্ট্রের
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ চলাকালীন বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। সমুদ্রে ভাসমান ইরানি তেল কেনার ওপর ৩০ দিনের জন্য নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট।
গত দুই সপ্তাহে এ নিয়ে তৃতীয়বার এ ধরনের সাময়িক ছাড় দিল যুক্তরাষ্ট্র। এর আগে রাশিয়ার তেলের ওপর থেকেও একইভাবে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হয়েছিল। মার্কিন অর্থ বিভাগের ওয়েবসাইট অনুযায়ী, ২০ মার্চ থেকে ১৯ এপ্রিলের মধ্যে জাহাজগুলোতে থাকা ইরানি অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্য বিক্রির অনুমতি দিয়ে একটি সাধারণ লাইসেন্স ইস্যু করা হয়েছে।
