তেল স্থাপনায় হামলার পর আগুন ও ধোঁয়ায় ঢেকে আছে তেহরানের আকাশ; হচ্ছে অ্যাসিড বৃষ্টি
ইসরায়েলি বিমান হামলায় মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম বৃহত্তম শহর তেহরানের প্রধান জ্বালানি ডিপো গুলোতে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার পর, রোববার সকালে তেহরানবাসীরা ঘুম ভাঙে কালো ধোঁয়া এবং এসিড বৃষ্টির মেঘে ঢাকা এক আকাশ দেখে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করা একাধিক ভিডিওতে শহরের পশ্চিম, দক্ষিণ এবং উত্তর দিগন্ত জুড়ে বিশাল অগ্নিকাণ্ড দেখা গেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, শত্রুপক্ষের বিমান বেশ কয়েকটি তেল মজুত কেন্দ্রে হামলা চালিয়েছে, যার ফলে রাতভর বিপুল পরিমাণ তেল ও জ্বালানি পুড়ে গেছে। তবে ব্লুমবার্গ এই ভিডিও ফুটেজগুলোর সত্যতা যাচাই করতে পারেনি।
ইরানের আধা-সরকারি ফার্স নিউজ এজেন্সি শনিবার জানিয়েছে, ইসরায়েলি জেট বিমানগুলো ইরানের তিনটি তেল ডিপো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।
ইসরায়েলের জ্বালানি মন্ত্রী এলি কোহেন এই হামলার সত্যতা নিশ্চিত করে দাবি করেছেন যে, এই স্থাপনাগুলো ইরানের সামরিক বাহিনী ব্যবহার করত। ইসরায়েলের ১০৩ এফএম রেডিওকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি সতর্ক করে বলেন যে, আগামী দিনগুলোতে তেল শোধনাগার এবং বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে।
প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর ওপর এই হামলা যুদ্ধের তীব্রতা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। একই সময়ে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান বাহরাইনের একটি পানি বিশুদ্ধকরণ কেন্দ্রসহ পারস্য উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর ওপর হামলা অব্যাহত রেখেছে এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছে। ইরান দাবি করেছে যে, যুক্তরাষ্ট্রই প্রথম ইরানের একটি পানি বিশুদ্ধকরণ কেন্দ্রে হামলা চালিয়েছে।
লড়াই যখন তীব্র হচ্ছে এবং বিশ্ববাজারকে অস্থির করে তুলছে, তখন ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে যে, দেশটির পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা—যিনি ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েলি হামলায় নিহত আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির স্থলাভিষিক্ত হবেন—তাকে নির্বাচন করা হয়েছে এবং শীঘ্রই তার নাম ঘোষণা করা হবে।
নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে নাম প্রকাশ না করার শর্তে পশ্চিম তেহরানের এক বাসিন্দা ইন্টারনেটের ধীরগতির মাঝেই হোয়াটসঅ্যাপ বার্তার মাধ্যমে বলেন, 'এটি অত্যন্ত ভীতিকর। দিনরাত নাওয়া-খাওয়া আর ঘুম—সবকিছুই ওলটপালট হয়ে গেছে।'
তেহরানে থাকা সিএনএন-এর একজন প্রতিবেদক জানিয়েছেন, রোববার সকালে সেখানে যেন 'তেল বৃষ্টি' হচ্ছিল। পরে তিনি উত্তর-পশ্চিম তেহরানের শাহরান তেল ডিপো থেকে একটি ভিডিও পোস্ট করেন যেখানে দেখা যায় ওই স্থান থেকে ঘন ধোঁয়ার কুণ্ডলী আকাশে উঠছে। এই স্থাপনাটি গত জুনেও ইসরায়েলি সামরিক হামলার শিকার হয়েছিল।
মধ্য তেহরানের আরেকজন বাসিন্দা বলেন, 'খোদা জানেন আমাদের ভাগ্যে কী আছে। আমাদের কাছে এখনো পানি, বিদ্যুৎ এবং খাবার আছে।' তিনিও বিদেশি গণমাধ্যমের সাথে কথা বলার সংবেদনশীলতা এবং নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে নাম প্রকাশ করতে রাজি হননি।
এর আগে রোববার সকালে ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি এক বিবৃতিতে জ্বালানি ডিপোতে হামলার ফলে সৃষ্ট উচ্চমাত্রার বিষাক্ত দূষণের কারণে বাসিন্দাদের ঘরের বাইরে না বের হওয়ার জন্য সতর্ক করেছে। তারা এসিড বৃষ্টির ফলে ফুসফুস ও চর্মরোগের ঝুঁকির কথা উল্লেখ করেছে এবং বলেছে যে বৃষ্টি থেমে যাওয়ার পরেও যেন কেউ বাইরে না যায়, কারণ বাষ্পীভবনের ফলে বাতাসে বিষাক্ততার মাত্রা বেড়ে যাচ্ছে।
ওয়াশিংটন-ভিত্তিক হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্ট নিউজ এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইরানে ১৯৪টি শিশুসহ এক হাজার ২০৫ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।
