ইরান গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হয়ে উঠবে কি না, তা নিয়ে চিন্তিত নন ট্রাম্প
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার সিএনএনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ইরানের বর্তমান নেতৃত্ব 'ক্ষমতাহীন হয়ে গেছে'। তিনি ইরানে এমন নতুন নেতৃত্ব চান যারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ভালো আচরণ করবে।
'গত সপ্তাহে ইরান যা ছিল, এখন আর তা নেই। এক সপ্তাহ আগে তারা শক্তিশালী ছিল, কিন্তু এখন তাদের ক্ষমতা কার্যত ভেঙে দেওয়া হয়েছে', বলেন ট্রাম্প।
তিনি বলেন, নতুন নেতা বেছে নেওয়া খুব সহজ হবে এবং এতে তারও ভূমিকা থাকা উচিত। তিনি এই বিষয়কে ভেনেজুয়েলার ঘটনার সঙ্গে তুলনা করেন।
উল্লেখ্য, গত ৩ জানুয়ারি ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে সস্ত্রীক তুলে নিয়ে যায় যুক্তরাষ্ট্র। এরপর ৬ জানুয়ারি মাদুরোর ভাইস প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেন। যুক্তরাষ্ট্রের নজরদারিতে তিনি এখন দেশ পরিচালনা করছেন।
ট্রাম্প আরও বলেন, 'এটা খুব সহজেই কাজ করবে। ভেনেজুয়েলার মতোই হবে। সেখানে এখন আমাদের খুব ভালো একজন নেতা আছেন। তিনি দারুণ কাজ করছেন। ঠিক ভেনেজুয়েলার মতোই এখানে (ইরান) হবে।'
ট্রাম্প জানান, হোক ইরান গণতান্ত্রিক দেশ নয়, কিংবা কোনো ধর্মীয় নেতা দেশটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন, এতে তার কোনো আপত্তি নেই।
'..আমার ধর্মীয় নেতাদের সঙ্গে সমস্যা নেই। আমি অনেক ধর্মীয় নেতার সঙ্গে কাজ করি এবং তারা অসাধারণ', তিনি বলেন।
ইরান অবশ্যই গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হোক, সেটি তিনি চান কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, 'না, আমি বলছি এমন একজন নেতা দরকার যিনি ন্যায়বিচার করবেন, ভালো কাজ করবেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ভালো আচরণ করবেন এবং মধ্যপ্রাচ্যের অন্য দেশগুলোকেও সম্মান করবেন—ওরা সবাই আমাদের অংশীদার।'
তিনি দাবি করেন, মধ্যপ্রাচ্যের অনেক দেশের সঙ্গে আমাদের ভালো সম্পর্ক হয়েছে এবং তারা 'আমাদের জন্য লড়ছে'।
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের প্রশংসা করে ট্রাম্প বলেন, '১০ এর মধ্যে এটা ১২ বা হয়তো ১৫।'
তবে তেলের দাম বৃদ্ধি নিয়ে তিনি চিন্তিত নন বলে জানান। বলেন, 'সমস্যা নেই। এটা সাময়িক হবে। খুব দ্রুত দাম আবার কমে যাবে।' হরমুজ প্রণালীর বিষয়টাও 'ইতোমধ্যে সমাধান করে ফেলেছেন' বলে দাবি করেন তিনি।
