শিশু যৌন নির্যাতনের অভিযোগ: মালয়েশিয়া থেকে বাংলাদেশিকে যুক্তরাষ্ট্রে ধরে নিয়ে গেছে এফবিআই
আন্তর্জাতিক শিশু যৌন নিপীড়ন চক্র চালানোসহ বিভিন্ন অভিযোগে জোবাইদুল আমিন (২৮) নামে এক বাংলাদেশিকে মালয়েশিয়া থেকে গ্রেপ্তার করেছে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই।
শিশু পর্নোগ্রাফি তৈরির ষড়যন্ত্র, তা গ্রহণ ও বিতরণ, শিশু যৌন নিপীড়ন চক্র পরিচালনা, সাইবার স্টকিং, পরিচয় চুরি এবং অনলাইন জালিয়াতিসহ একাধিক গুরুতর অভিযোগ তাকে ২০২২ সাল থেকে খুঁজছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ।
এফবিআই পরিচালক কাশ প্যাটেল আজ শুক্রবার (৬ মার্চ) এক্সে দেয়া এক পোস্টে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। পোস্টে তিনি বলেন, 'এফবিআই এবং আমাদের চমৎকার অংশীদাররা জোবায়দুল আমিনকে গ্রেপ্তার করেছে। ২৮ বছর বয়সী এই বাংলাদেশি নাগরিক ২০২২ সাল থেকে আন্তর্জাতিক শিশু যৌন নিপীড়ন চক্র চালানোর অভিযোগসহ বিভিন্ন মামলায় ওয়ান্টেড ছিলেন।'
তিনি লিখেছেন, গতকাল রাতে জোবাইদুলকে মালয়েশিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কায় নিয়ে এসেছে এফবিআই। আলাস্কায় তিনি তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের মুখোমুখি হবেন। এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পরে প্রকাশ করা হবে।
এই দীর্ঘস্থায়ী তদন্ত এবং সার্থক গ্রেপ্তারের জন্য তিনি কুয়ালালামপুরস্থ লিগ্যাট, মালয়েশিয়া সরকার এবং বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা বিভিন্ন স্থানীয় অংশীদারদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন। এছাড়া এফবিআই অ্যাঙ্কোরেজ টিমের অসামান্য কাজেরও প্রশংসা করেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের ওয়েবসাইটে গতকাল বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আন্তর্জাতিক শিশু যৌন নিপীড়নের চক্র পরিচালনার অভিযোগে ৫ মার্চ ডিস্ট্রিক অব আলাস্কার আদালতে তাকে হাজির করার বিষয়টি নির্ধারিত ছিল।
আদালতের নথি অনুযায়ী, ২০২২ সালের জুলাই মাসে আলাস্কার একটি ফেডারেল গ্র্যান্ড জুরি জুবায়দুল আমিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে। তার বিরুদ্ধে আলাস্কা ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য অঙ্গরাজ্য এবং বিদেশে শত শত অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশুকে নির্যাতন ও শোষণের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার ন্যূনতম ২০ বছর থেকে সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে।
তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জোবাইদুল ইনস্টাগ্রাম এবং স্ন্যাপচ্যাটের মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে শিশুদের শনাক্ত করতেন। এরপর তাদের প্ররোচিত বা বাধ্য করে যৌনতাপূর্ণ এবং পৈশাচিক আচরণের ছবি ও ভিডিও তৈরি করাতেন।
জোবাইদুল মালয়েশিয়ায় বসবাস করতেন এবং সেখানে একটি মেডিকেল স্কুলে পড়তেন। ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে মালয়েশিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় তার বিরুদ্ধে শিশু পর্নোগ্রাফি রাখা এবং তৈরির ১৩টি অভিযোগ আনে। তখন থেকেই এফবিআই এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ মালয়েশীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছিল।
