এফবিআইয়ের তদন্তের মুখে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন
শিরোপা ধরে রাখতে বিশ্বকাপে লড়ছে লিওনেল মেসিরা। গতকাল মঙ্গলবার মিশরের বিপক্ষে রুদ্ধশ্বাস জয়ের পর সেই লক্ষ্যে দিকে আরও এক পা এগিয়েছে তারা। তবে মিশরের বিপক্ষে এই জয় নিয়ে চলছে বিতর্ক। এরই মধ্যে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) আর্থিক লেনদেনের ওপর নজরদারি শুরু করেছে মার্কিন ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই)।
আর্জেন্টিনার গণমাধ্যম লা নাসিওনের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল প্রসিকিউটর এবং এফবিআই-এর এজেন্টরা মার্কিন মাটিতে এএফএ সভাপতি ক্লদিও 'চিকি' তাপিয়ার নেতৃত্বাধীন সংস্থাটির আর্থিক কার্যক্রম নিয়ে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু করেছেন।
তদন্তকারীদের লক্ষ্য হলো, এএফএ কীভাবে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে শত শত মিলিয়ন ডলার স্থানান্তর করেছে এবং সেই লেনদেনগুলোর কোনোটি অর্থপাচার বা প্রতারণার মতো যুক্তরাষ্ট্রের আইনের আওতাভুক্ত অপরাধের মধ্যে পড়ে কি না, তা খতিয়ে দেখা।
তদন্তের অন্যতম কেন্দ্রে আছে ট্যুরপ্রোডএন্টার এলএলসি নামে ফ্লোরিডাভিত্তিক একটি কোম্পানি। প্রতিষ্ঠানটি গত কয়েক বছরে এএফএ-এর আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক চুক্তিগুলোর আর্থিক আদায় ও ব্যবস্থাপনা করেছে। এর মধ্যে অ্যাডিডাস ও ওয়ার্নারের মতো ব্র্যান্ডের সঙ্গে করা চুক্তিগুলোও রয়েছে।
কোম্পানিটির মালিক হাভিয়ের ফারোনি নামে এক ব্যক্তি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফারোনি ও তার স্ত্রী এরিকা জিলেট যুক্তরাষ্ট্রের পাঁচটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে কয়েক কোটি ডলার লেনদেন বা স্থানান্তর করেছেন।
লা নাসিওনের পর্যালোচনা করা ব্যাংকিং নথি অনুযায়ী, ট্যুরপ্রোডএন্টার এলএলসি যুক্তরাষ্ট্রের পাঁচটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান সিটিব্যাংক, সিনোভাস, ব্যাংক অব আমেরিকা, জেপি মর্গান এবং পিএনসি ব্যাংকের মাধ্যমে অন্তত ২৬০ মিলিয়ন ডলার লেনদেন করেছে। এই অর্থের কেবল একটি অংশকেই এএফএ-এর শনাক্তযোগ্য পরিচালন ব্যয়ের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করা সম্ভব হয়েছে। এছাড়া আরও ৫৭ মিলিয়ন ডলার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে পাঠানো হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে, যার উৎস ও গন্তব্য তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ হাভিয়ের মিলেই সরকারের সাবেক কয়েকজন কর্মকর্তাকেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করার বিষয়টি বিবেচনা করছে।
