আর্জেন্টিনাকে কি তুলনামূলক কম হলুদ কার্ড দেখাচ্ছেন রেফারিরা?
বিশ্বকাপের শিরোপাধারী আর্জেন্টিনার নকআউট পর্বের পারফরম্যান্স নিয়ে ইতোমধ্যেই বিতর্ক তৈরি হয়েছে। কেপ ভার্দে ও মিসরের বিপক্ষে ৩-২ ব্যবধানে পাওয়া দুটি কঠিন জয়ের পর সেই আলোচনা আরও জোরালো হয়েছে।
শেষ ষোলোতে হারের পর মিসর ফিফার কাছে ম্যাচ অফিসিয়ালদের টুর্নামেন্ট থেকে সরিয়ে দেওয়ার দাবি জানায়। তাদের অভিযোগ, রেফারিদের সিদ্ধান্ত আর্জেন্টিনা ও অধিনায়ক লিওনেল মেসির পক্ষেই গেছে।
ম্যাচ শেষে মিসরের কোচ হোসাম হাসানও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, 'আমাদের সঙ্গে অন্যায় করা হয়েছে। আমরা অবিচারের শিকার হয়েছি।'
এ ছাড়া তিনি ইঙ্গিত দেন, শিরোপাধারী আর্জেন্টিনা এবং মেসিকে টুর্নামেন্টে ধরে রাখতেই ফিফা আগ্রহী।
কোয়ার্টার ফাইনালে হলুদ কার্ডের হিসাবও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কারণ, এ পর্যায়ে আরেকটি হলুদ কার্ড দেখলে সেমিফাইনালে নিষিদ্ধ হওয়ার ঝুঁকিতে আছেন ১৭ জন ফুটবলার।
এই দিক থেকে সবচেয়ে স্বস্তিতে রয়েছে আর্জেন্টিনা। তাদের দলে শুধু গনসালো মন্তিয়েলই আরেকটি হলুদ কার্ড দেখলে ইংল্যান্ড বা নরওয়ের বিপক্ষে সম্ভাব্য সেমিফাইনাল খেলতে পারবেন না।
অন্যদিকে ইংল্যান্ডের চারজন খেলোয়াড় নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকিতে রয়েছেন। তাদের মধ্যে জুড বেলিংহ্যাম ও ডেকলান রাইসের মতো গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলারও আছেন।
সবচেয়ে কম হলুদ কার্ড পাওয়া দল নরওয়ে। তাদের শুধু আন্তোনিও নুসাই এ ঝুঁকিতে রয়েছেন।
তবে কোন দল কম বা বেশি হলুদ কার্ড পেয়েছে, তা বিচার করতে হলে ফাউলের সংখ্যাও বিবেচনায় নিতে হয়।
এ পর্যন্ত প্রতি ১৯ দশমিক ৭টি ফাউলে একটি করে হলুদ কার্ড পেয়েছে আর্জেন্টিনা। এই হিসাবে শুধু চেক প্রজাতন্ত্র (৩৭), নরওয়ে (২৪) ও তিউনিসিয়া (২৭) আর্জেন্টিনার চেয়ে বেশি ফাউল করে একটি হলুদ কার্ড পেয়েছে।
অন্যদিকে টুর্নামেন্টে টিকে থাকা দলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে কঠোরভাবে শাস্তি পেয়েছে ইংল্যান্ড। প্রতি ৭ দশমিক ৭টি ফাউলেই একটি করে হলুদ কার্ড দেখেছে দলটি।
পরিসংখ্যান বলছে, ইংল্যান্ডের চেয়ে বেশি ফাউল করেও আর্জেন্টিনা পেয়েছে অর্ধেকসংখ্যক হলুদ কার্ড। ফলে ফাউলের তুলনায় আর্জেন্টিনা তুলনামূলক বেশি সুবিধা পাচ্ছে কি না, সেই প্রশ্ন উঠছে।
আর্জেন্টিনার জন্য কি সহজ সমীকরণ তৈরি করেছে বিশ্বকাপের ড্র?
ডিসেম্বরে বিশ্বকাপের ড্রয়ে ফিফা একটি ছোট কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনে। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ চার দল—ফ্রান্স, আর্জেন্টিনা, স্পেন ও ইংল্যান্ডকে চারটি ভিন্ন কোয়ার্টারে রাখা হয়।
ফলে চার দলই যদি নিজেদের গ্রুপে শীর্ষস্থান অর্জন করে, তাহলে সেমিফাইনালের আগে তাদের মুখোমুখি হওয়ার সুযোগ থাকছে না। শেষ পর্যন্ত সেটিই হয়েছে। ফ্রান্স ও স্পেন পড়েছে এক পাশে, আর আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড অন্য পাশে।
এর উদ্দেশ্য ছিল টুর্নামেন্টের শুরুর দিকেই বড় দলগুলোর লড়াই এড়িয়ে যাওয়া। তবে এর ফলে কয়েকটি দলের জন্য নকআউট পর্বের পথ তুলনামূলক সহজ হয়ে গেছে বলেও আলোচনা শুরু হয়েছে।
প্রথম দুই নকআউট রাউন্ডে বিশ্বের শীর্ষ ১০ দলের মধ্যে মুখোমুখি হয়েছে মাত্র দুটি জুটি—নেদারল্যান্ডস বনাম মরক্কো এবং স্পেন বনাম পর্তুগাল।
এই হিসেবে সবচেয়ে সুবিধাজনক পথ পেয়েছে আর্জেন্টিনা। শেষ ষোলো ও রাউন্ড অব ৩২-এ তারা ৬৭তম স্থানে থাকা কেপ ভার্দে এবং ২৯তম স্থানে থাকা মিসরকে ৩-২ ব্যবধানে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে। শেষ আটে তাদের প্রতিপক্ষ সুইজারল্যান্ড, যাদের অবস্থান ১৯তম।
অন্যদিকে ইংল্যান্ডকে রাউন্ড অব ১৬-তেই র্যাংকিংয়ে ১৪তম স্থানে থাকা মেক্সিকোর বাধা পেরোতে হয়েছে। স্পেন ইতোমধ্যে পঞ্চম স্থানে থাকা পর্তুগালকে হারিয়েছে এবং কোয়ার্টার ফাইনালে খেলবে নবম স্থানে থাকা বেলজিয়ামের বিপক্ষে। ফ্রান্সের প্রতিপক্ষ সপ্তম স্থানে থাকা মরক্কো।
তাই পরিসংখ্যান বলছে, নকআউট পর্বে এখন পর্যন্ত তুলনামূলক সহজ পথই পেয়েছে আর্জেন্টিনা।
পেনাল্টির হিসাবেও এগিয়ে আর্জেন্টিনা
২০২২ বিশ্বকাপে পাঁচটি পেনাল্টি পেয়ে এক আসরে সর্বোচ্চ স্পট-কিক পাওয়ার রেকর্ড গড়েছিল আর্জেন্টিনা।
২০২৬ বিশ্বকাপেও পেনাল্টি পাওয়ার তালিকায় সবার ওপরে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। এ পর্যন্ত তারা তিনটি পেনাল্টি পেয়েছে। তবে এর মধ্যে অস্ট্রিয়া ও মিসরের বিপক্ষে দুটি পেনাল্টিই কাজে লাগাতে পারেননি লিওনেল মেসি।
ইংল্যান্ড ও সুইজারল্যান্ড পেয়েছে দুটি করে পেনাল্টি। আর বেলজিয়াম, ফ্রান্স ও নরওয়ে পেয়েছে একটি করে।
