‘আর কখনো বিশ্বকাপ দেখব না!’: আর্জেন্টিনার কাছে হেরে রেফারির ওপর ক্ষোভ মিশরীয় কোচের
শেষ ষোলোর ম্যাচে হারের পর মিশরের তারকা মোস্তফা জিকো দাবি করেন, ২০২৬ সালের বিশ্বকাপের শিরোপা যেন 'আর্জেন্টিনার দিকেই নেওয়া হচ্ছে'। একই সঙ্গে 'অন্যায্য' রেফারিংয়ের সিদ্ধান্তে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মিশরের প্রধান কোচ হোসাম হাসান।
অলৌকিক এক প্রত্যাবর্তনে ২-০ গোলে পিছিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত ৩-২ ব্যবধানে জয় তুলে নেয় আর্জেন্টিনা। ম্যাচে মিশরের একটি গোল বিতর্কিতভাবে বাতিল করা হয়। এছাড়া এনজো ফার্নান্দেজের জয়সূচক গোলের আগে ফাউল হয়েছিল বলে দাবি করে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান মিশরের খেলোয়াড়রা।
মিশর ১-০ গোলে এগিয়ে থাকার সময় জিকোর একটি গোল বাতিল করা হয়। অন্যদিকে আর্জেন্টিনার পাল্টা আক্রমণের আগে মোহাম্মদ সালাহ পেনাল্টির দাবি করেন। এরপর যোগ করা সময়ে ফার্নান্দেজের হেড থেকে আসে আর্জেন্টিনার জয়সূচক গোল।
রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়ে ও ম্যাচ কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে হোসাম হাসান বলেন, 'আমি আর কখনও বিশ্বকাপ দেখব না, কারণ এই প্রতিযোগিতায় কোনো ন্যায়বিচার নেই।'
তিনি আরও বলেন, 'আমরা সম্মান বা ফেয়ার প্লে—কোনোটিই দেখিনি। আমাদের একটি পেনাল্টি দেওয়া হয়নি। আরেকটি ঘটনায় আমাদের পক্ষে পেনাল্টি হওয়া উচিত ছিল, কিন্তু সেটি ভিডিও সহকারী রেফারির (ভিএআর) মাধ্যমে দেখাও হয়নি। এরপর আমাদের দ্বিতীয় গোলটিও অদ্ভুতভাবে, যে কারণেই হোক, বাতিল করা হয়েছে।'
তিনি আরও বলেন, 'মনে হচ্ছে, আর্জেন্টিনার পক্ষ থেকে রেফারির ওপর চাপ ছিল। আর সেটির ফলেই এমন ফলাফল এসেছে। জীবন অন্যায্য। পৃথিবীও অন্যায্য। ঠিক আছে, কিন্তু খেলাধুলায় কেন ন্যায়বিচার থাকবে না? এই ফলাফল কিংবা ম্যাচ যেভাবে পরিচালিত হয়েছে, তা আমাকে মোটেও সন্তুষ্ট করতে পারেনি।'
আটলান্টা স্টেডিয়ামের শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গরমের প্রভাব কমিয়ে দিলেও, পূর্বাঞ্চলীয় সময় দুপুর ১২টায় ম্যাচ শুরুর সূচি নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন হাসান।
তিনি বলেন, 'যে ব্যক্তি এই ম্যাচগুলোর সময়সূচি করেছে, সে জীবনে কখনও ফুটবল খেলেনি। দুপুর ১২টায় কখনও ফুটবল ম্যাচ রাখা উচিত নয়।'
পরে ফ্রান্স চব্বিশের মাধ্যমে সম্প্রচারকারী বিইন স্পোর্টসকে হাসান বলেন, 'হয়তো তারা বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের প্রতিযোগিতায় ধরে রাখতে চেয়েছিল। হয়তো তারা চেয়েছিল লিওনেল মেসি যেন টুর্নামেন্টে টিকে থাকেন। ফুটবলে কখনও কখনও এমন কিছু বাহ্যিক বিষয় থাকে, যা কারিগরি বিষয়ের বাইরেও প্রভাব ফেলে। বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা সব স্তর থেকেই সমর্থন পেয়েছে।
তিনি আরও বলেন, 'আমি রেফারিকে বলেছি, যা ঘটছে তা ন্যায্য নয়। এটি আর্জেন্টিনার প্রাপ্য নয় এমন একটি জয়। আমি দেশে ফিরে নিজের বাড়িতে পৌঁছানোর পর আর কখনও বিশ্বকাপ দেখব না, কারণ এই প্রতিযোগিতায় কোনো ন্যায়বিচার নেই।'
অন্যদিকে মিশরের গোলদাতা জিকো একজন দোভাষীর মাধ্যমে কানাডার সম্প্রচারমাধ্যম টিএসএনকে বলেন, 'রেফারির সিদ্ধান্ত মোটেও ন্যায্য ছিল না। সত্যিই এটি অন্যায্য ছিল, বিষয়টি একেবারেই স্পষ্ট। তার সিদ্ধান্ত আমাদের সব পরিশ্রম নষ্ট করে দিয়েছে। আমরা ২-০ গোলে এগিয়ে ছিলাম, কিন্তু এরপর আমাদের আর কিছুই করার ছিল না। সবকিছুই সৃষ্টিকর্তার ইচ্ছা।'
তিনি আরও বলেন, 'আমরা খুবই দুঃখিত। মিশরের মানুষের কাছে আমরা ক্ষমাপ্রার্থী। আমি ব্যক্তিগতভাবেও দুঃখিত। আমরা সবাইকে আনন্দ দিতে চেয়েছিলাম। কিন্তু সেটি আমাদের ভাগ্যে ছিল না। এর জন্য দায়ী রেফারি। বিশ্বকাপের শিরোপা আর্জেন্টিনার দিকেই পরিচালিত হচ্ছে।'
