ফেব্রুয়ারির শেষে মঙ্গল, বুধ, বৃহস্পতিসহ এক সারিতে থাকবে ৬ গ্রহ; দেখবেন যেভাবে
মহাকাশপ্রেমীদের জন্য এই মাসের শেষ দিকে দারুণ এক সুযোগ আসছে। রাতের আকাশে সৌরজগতের ছয়টি গ্রহকে কাছাকাছি অবস্থানে দেখা যাবে।
নাসার মতে, যখন অন্তত চার বা পাঁচটি গ্রহ একসঙ্গে দৃশ্যমান হয়, তখন তাকে 'প্ল্যানেট প্যারেড' বা গ্রহের বিন্যাস বলা হয়। আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি আকাশ পর্যবেক্ষকরা বুধ, শুক্র, বৃহস্পতি, শনি, ইউরেনাস ও নেপচুনকে আকাশজুড়ে কাছাকাছি সারিবদ্ধ অবস্থায় দেখতে পারবেন। এটি একটি বিরল মহাজাগতিক প্রদর্শনী।
গ্রহগুলো সূর্যকে প্রায় একই সমতলে প্রদক্ষিণ করে, যাকে 'একলিপটিক প্লেন' বলা হয়। প্রতিটি গ্রহের গতি ও দূরত্ব ভিন্ন হলেও, কখনও কখনও পৃথিবীর দৃষ্টিকোণ থেকে মনে হয় তারা একই সারিতে রয়েছে।
এই বিন্যাসটি মূলত একটি দৃশ্যমান প্রভাব। বাস্তবে গ্রহগুলো একে অপরের থেকে লক্ষ লক্ষ বা কোটি কোটি কিলোমিটার দূরে অবস্থান করে।
এমন ঘটনা আগেও ঘটেছে। ২০২৫ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি বুধ, শুক্র, মঙ্গল, বৃহস্পতি, শনি, ইউরেনাস ও নেপচুন—এই সাতটি গ্রহ এক লাইনে দেখা গিয়েছিল। এমন দৃশ্য ২০৪০ সালের আগে আর দেখা যাবে না।
রয়্যাল অবজারভেটরি গ্রিনউইচের জ্যোতির্বিজ্ঞানী গ্রেগ ব্রাউন সে সময় পিএ মিডিয়াকে বলেছিলেন, 'তিন, চার বা পাঁচটি গ্রহ একসঙ্গে দেখা অস্বাভাবিক নয়, প্রতি বছরই এমন ঘটে। তবে যত বেশি গ্রহ জড়িত থাকে, তাদের একসঙ্গে দৃশ্যমান হওয়ার জন্য তত বেশি সুবিন্যস্ত হওয়া দরকার। তাই পূর্ণ সাতটি গ্রহের প্যারেড বেশ বিরল।'
নাসার মতে, একাধিক গ্রহ দেখার এই সুযোগ কয়েক সপ্তাহ থেকে এক মাসের বেশি সময় স্থায়ী হতে পারে, কারণ গ্রহগুলোর গতি তুলনামূলক ধীর ও পর্যায়ক্রমিক। কেউ কেউ এই সপ্তাহের শেষেই বিন্যাসটি দেখতে পারেন। তবে ২৮ ফেব্রুয়ারি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, কারণ এদিন গ্রহগুলো সবচেয়ে কাছাকাছি অবস্থানে থাকবে এবং সন্ধ্যায় একসঙ্গে একাধিক গ্রহ দেখা যাবে।
চারটি গ্রহ—বুধ, শুক্র, মঙ্গল ও বৃহস্পতি খালি চোখে দেখা যাবে। তবে ইউরেনাস ও নেপচুন দেখতে বাইনোকুলার বা টেলিস্কোপের প্রয়োজন হবে, কারণ এগুলো সৌরজগতের অনেক দূরের শীতল অঞ্চলে প্রদক্ষিণ করে। দিগন্তের খুব নিচুতে থাকায় বুধ গ্রহটিকে খুঁজে পাওয়া কখনও কখনও কঠিন হতে পারে।
এই গ্রহ বিন্যাস দেখার সেরা সময় স্থানীয় সূর্যাস্তের প্রায় ৩০ মিনিট পর। স্টার ওয়াক অ্যাপের পরামর্শ অনুযায়ী, পশ্চিম আকাশের নিচের দিকে তাকাতে হবে। এ ক্ষেত্রে আকাশ পরিষ্কার থাকা এবং দৃষ্টিসীমায় কোনো বাধা না থাকা জরুরি।
নাসা ব্যাখ্যা করেছে, অপটিক্যাল সহায়ক যন্ত্র ছাড়া কোনো গ্রহ দেখতে হলে সেটিকে দিগন্ত থেকে অন্তত কয়েক ডিগ্রি ওপরে থাকতে হয়; তবে ১০ ডিগ্রি বা তার বেশি উচ্চতায় থাকলে সবচেয়ে ভালো দেখা যায়।
নাসা আরও জানায়, 'এটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ দিগন্তের কাছাকাছি পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল মহাজাগতিক বস্তুগুলোর উদয় বা অস্ত যাওয়ার সময় সেগুলোকে অস্পষ্ট করে দেয়। এমনকি উজ্জ্বল গ্রহগুলোও খুব নিচে থাকলে দেখা কঠিন বা অসম্ভব হয়ে পড়ে, কারণ চোখে পৌঁছানোর আগেই আলো ছড়িয়ে পড়ে ও শোষিত হয়।'
সারা বিশ্বের মানুষই এই দৃশ্য দেখতে পাবেন। তবে ২৮ ফেব্রুয়ারি একটি মধ্যবর্তী তারিখ হওয়ায় বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের দর্শকরা কয়েক দিন আগে বা পরেও প্যারেডটি দেখতে পারেন।
স্টার ওয়াকের তথ্যমতে, সাও পাওলোর জন্য ২৫ ফেব্রুয়ারি; এথেন্স, নিউ ইয়র্ক, মেক্সিকো সিটি ও টোকিওর জন্য ২৮ ফেব্রুয়ারি; বেইজিং, বার্লিন, লন্ডন ও মুম্বাইয়ের জন্য ১ মার্চ এবং আইসল্যান্ডের রেইকজাভিকের জন্য ২ মার্চ দৃশ্যটি সবচেয়ে ভালো দেখা যাবে।
