রাশিয়া নাকি ইউক্রেন, যুদ্ধে কোন দেশের বেশি প্রাণ ঝরলো?
ভ্লাদিমির পুতিনের সেই 'বিশেষ সামরিক অভিযান' কয়েক দিন স্থায়ী হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু চার বছর পার হয়ে গেলেও রাশিয়াকে এর জন্য চড়া মূল্য দিতে হয়েছে, বিপরীতে অর্জন খুবই সামান্য। গোয়েন্দা সংস্থা, প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা এবং 'দ্য ইকোনমিস্ট'-এর নিজস্ব মডেলিং থেকে পাওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, রাশিয়া ইউক্রেনের চেয়ে অনেক বেশি সৈন্য হারাচ্ছে, অথচ তাদের ভূখণ্ড দখলের হার একেবারেই নগণ্য।
রুশ ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ পরিমাপ করতে দি ইকোনমিস্ট বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা, প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা এবং স্বাধীন গবেষকদের নির্ভরযোগ্য তথ্য সংগ্রহ করেছে। এই তথ্যের সঙ্গে তাদের নিজস্ব 'ওয়ার ট্র্যাকার' থেকে প্রাপ্ত স্যাটেলাইট ডেটা ও প্রতিদিনের যুদ্ধের তীব্রতা বিশ্লেষণ করে একটি দৈনিক মৃত্যুহারের খসড়া তৈরি করা হয়েছে।
তাদের মডেল অনুযায়ী, রাশিয়ার মোট হতাহতের সংখ্যা বর্তমানে ১১ লাখ থেকে ১৪ লাখের মধ্যে। এর মধ্যে ২ লাখ ৩০ হাজার থেকে ৪ লাখ ৩০ হাজার জন মারা গেছেন। এর অর্থ হলো, পূর্ণ মাত্রার যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ১৮ থেকে ৪৯ বছর বয়সী প্রতি ২৫ জন রুশ পুরুষের মধ্যে একজন নিহত বা গুরুতর আহত হয়েছেন।
ইউক্রেনের প্রাণহানির বিষয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্যের অভাব থাকায় একই ধরনের বিস্তারিত হিসাব বের করা কঠিন। তবে ওয়াশিংটনভিত্তিক থিংক-ট্যাংক সিএসআইএস-এর ২৭ জানুয়ারির হিসাব অনুযায়ী, গত ডিসেম্বর পর্যন্ত ইউক্রেনের মোট হতাহতের সংখ্যা ৬ লাখ। এর মধ্যে ১ লাখ থেকে ১ লাখ ৪০ হাজার জন নিহত হয়েছেন।
মোট সংখ্যার বিচারে রাশিয়ার তুলনায় ইউক্রেনের ক্ষয়ক্ষতি কম হলেও জনসংখ্যার আনুপাতিক হারে এটি অনেক বেশি। যুদ্ধপূর্ব পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১৮ থেকে ৪৯ বছর বয়সী প্রতি ১৬ জন ইউক্রেনীয় পুরুষের মধ্যে একজন এই যুদ্ধে নিহত বা আহত হয়েছেন। উল্লেখ্য, এই পরিসংখ্যানে বেসামরিক নাগরিকদের প্রাণহানি অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
যুদ্ধের শুরুতে ইউক্রেনের ক্ষয়ক্ষতির হার বেশি ছিল। মার্কিন কর্মকর্তাদের ধারণা অনুযায়ী, ২০২৩ সালের আগস্ট নাগাদ ইউক্রেনের প্রায় ৭০ হাজার সৈন্য নিহত হয়েছিল। তবে সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে রাশিয়ার অভিযান আরও বেশি রক্তক্ষয়ী হয়ে উঠছে। বর্তমানে রাশিয়া প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার করে সৈন্য হারাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইকোনমিস্টের মডেলিং দেখাচ্ছে, গত এক বছরে রাশিয়ার যত সৈন্য মারা গেছে, তা যুদ্ধের প্রথম তিন বছরের মোট প্রাণহানির সমান হতে পারে। দেশটি যে হারে সৈন্য নিয়োগ করছে, তার চেয়ে বেশি হারে সৈন্য হারাচ্ছে।
এত বিপুল প্রাণহানির বিনিময়ে রাশিয়ার অর্জন কতটুকু? হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালে রাশিয়া ইউক্রেনের মাত্র ০ দশমিক ৮৩ শতাংশ ভূখণ্ড দখল করতে পেরেছে। ২০২২ সালের মে মাসে মারিউপোল পতনের পর আর কোনো বড় শহর রুশদের নিয়ন্ত্রণে আসেনি। আভিদিভকা বা বাখমুতের মতো যে শহরগুলো তারা দখল করেছে, সেখানে রুশ পতাকা ওড়ানোর অনেক আগেই শহরগুলো ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছিল।
পুতিন এখনো আশা করছেন যে ইউক্রেনের লোকবল ও সমরাস্ত্র আগে ফুরিয়ে যাবে। কিন্তু তিনি সম্ভবত এখনো তার প্রতিপক্ষকে ভুল মূল্যায়ন করছেন।
