ল্যুভ মিউজিয়ামে চুরির সময় ফেলে যায় মুকুটটি; দুমড়ে-মুচড়ে গেলেও ‘অক্ষত’ আছে
ঊনবিংশ শতাব্দীতে ফ্রান্স শাসন করা নেপোলিয়ন ৩য়-এর স্ত্রী সম্রাজ্ঞী ইউজিনির মুকুটটি ছিল গত অক্টোবরে ল্যুভ মিউজিয়ামে হওয়া দুঃসাহসিক চুরিতে খোয়া যাওয়া নয়টি অমূল্য অলঙ্কারের একটি।
তবে চোরেরা পালানোর সময় এই মুকুটটিই ফেলে যায়। পান্না এবং হীরা দিয়ে কারুকার্য করা আটটি সোনালী ঈগল খচিত এই মুকুটটি তারা জাদুঘরের বাইরের ফুটপাতে ফেলে পালিয়েছিল।
তিন মাসেরও বেশি সময় পর, ল্যুভ কর্তৃপক্ষ সেই মুকুটটির কিছু ছবি প্রকাশ করেছে। মুকুটটি প্রায় ভেঙেচুরে গেছে। হীরার খিলানগুলো উপড়ে গেছে এবং এর রত্নখচিত ক্রসটি একদিকে হেলে আছে এবং একটি ঈগল নিখোঁজ রয়েছে।
ল্যুভ ঘোষণা করেছে, তারা শীঘ্রই মুকুটটি মেরামতের জন্য প্রস্তাব আহ্বান করবে। জাদুঘরের আলংকারিক কলা বিভাগের পরিচালক অলিভিয়ার গ্যাবেট বলেন, সংস্কারের খরচ আপাতত ৪০ হাজার ইউরো ধরা হয়েছে। যেহেতু প্রায় সব অংশই পাওয়া গেছে, তাই আসল খরচ হবে কয়েক ঘণ্টার সেই সূক্ষ্ম মেরামত কাজেই।
বিশ্বের বৃহত্তম এই জাদুঘরটি চুরির এই ধাক্কায় এখনও টালমাটাল। জাদুঘর খোলার মাত্র ৩০ মিনিটের মধ্যে চুরির ঘটনাটি ঘটেছিল। এটি জাদুঘরের পুরনো নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতাকে সামনে নিয়ে এসেছে। তদন্তের জন্য এক হাজারের বেশি পুলিশ কর্মকর্তা কাজ করছেন এবং পাঁচজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে, কিন্তু মুকুটটি ছাড়া আর কোনো গয়না পাওয়া যায়নি।
সম্রাজ্ঞী ইউজিনির এই মুকুটটি ফরাসি রাজকীয় অলঙ্কারের অবশিষ্ট স্বল্প সংগ্রহের একটি। ১৮৫৫ সালের বিশ্ব প্রদর্শনীর জন্য এটি তৈরি করা হয়েছিল। এতে এক হাজার ৩৫৪টি হীরা এবং ৫৬টি পান্না রয়েছে। ১৮৮৭ সালে যখন অধিকাংশ রাজকীয় গয়না নিলামে বিক্রি করা হয়েছিল, তখন সম্রাজ্ঞী এটি ফিরে পেতে মামলা করেছিলেন এবং পরবর্তীতে তার ধর্মকন্যার কাছে হস্তান্তর করেন। ১৯৮৮ সালে ল্যুভ এটি সংগ্রহ করে।
বিশেষজ্ঞদের রিপোর্ট অনুযায়ী, চোরেরা মুকুটটিকে কাঁচের শোকেসের একটি ছোট ছিদ্র দিয়ে জোর করে টেনে বের করার চেষ্টা করে। সেসময় এটি দুমড়ে-েমুচড়ে যায় এবং পরে ফুটপাতে আছাড় খেয়ে আরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
জাদুঘর কর্তৃপক্ষ আশা করছে, বছরের শেষ নাগাদ এই মুকুটটি আবারও জনসমক্ষে প্রদর্শন করা সম্ভব হবে।
