চট্টগ্রামে তারেক রহমানের জনসভায় নজিরবিহীন নিরাপত্তার মধ্যেও চুরি গেল ১৮ মাইক
চট্টগ্রামের পলোগ্রাউন্ড ময়দানে বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমানের জনসভাকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল। পুলিশ, র্যাব ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদের কঠোর নজরদারি, ড্রোন টহল এবং যানবাহন চলাচলে বিধিনিষেধের মধ্যেও খোদ সভাস্থলের আশপাশ থেকে ১৮টি মাইক এবং পাঁচ কয়েল তার চুরির ঘটনা ঘটেছে।
সমাবেশ ঘিরে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) সব ধরনের অস্ত্র, দাহ্য পদার্থ এমনকি লাঠি বা পাথর বহনও নিষিদ্ধ করেছিল। শনিবার রাত থেকেই গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে যান চলাচল বন্ধ করে দিয়ে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়। এত সব বিধিনিষেধ আর কড়াকড়ির মধ্যেই চোরেরা তাদের কাজ সেরে ফেলায় জনমনে এবং আয়োজকদের মধ্যে বিস্ময় সৃষ্টি হয়েছে।
রাজ সাউন্ড সিস্টেমের মালিক আবদুর রাজ্জাক জানান, সমাবেশের জন্য তারা প্রায় ২০০টি মাইক স্থাপন করেছিলেন। শনিবার রাত ১১টার দিকে সব চেক করে তারা চলে যান। রাস্তায় পাহারার জন্য তাদের নিজস্ব লোকও নিয়োজিত ছিল। তবে আজ রোববার সকালে পুনরায় চেক করতে গিয়ে দেখা যায়, জনসভাস্থলের গেটের বাইরের সড়কের ইলেকট্রিক পোল থেকে প্রায় ১৫-১৬ ফুট উঁচুতে লাগানো ১৮টি মাইক ইউনিট এবং পাঁচ কয়েল তার গায়েব হয়ে গেছে।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী আবদুর রাজ্জাক আজ সকালে কোতোয়ালী থানায় এ বিষয়ে একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। তিনি জানান, বিএনপি নেতাদের পরামর্শেই তিনি আইনি পদক্ষেপ নিয়েছেন। তবে এ বিষয়ে কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আফতাব উদ্দিনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ভিভিআইপি প্রটোকল ডিউটিতে ব্যস্ত থাকায় চুরির বিষয়টি সম্পর্কে তিনি এখনো অবগত নন।
দীর্ঘ ২০ বছর পর চট্টগ্রামের রাজনৈতিক সমাবেশে যোগ দিতে গতকাল শনিবার রাতে চট্টগ্রামে পৌঁছান তারেক রহমান। আজ দুপুরে তিনি সমাবেশস্থলে উপস্থিত হয়ে নেতাকর্মীদের সাথে কুশল বিনিময় করেন। উচ্চ পর্যায়ের এই রাজনৈতিক সফর ঘিরে শহরজুড়ে যখন কঠোর নিরাপত্তা বলয়, তখন এমন চুরির ঘটনা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।
