আগামীকাল দেশব্যাপী খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী সেচব্যবস্থা উন্নয়ন ও গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী করার লক্ষ্যে একযোগে দেশব্যাপী ৫৩টি খাল পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আগামীকাল সোমবার (১৬ মার্চ) দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার বলরামপুর সাহাপাড়া এলাকায় এই 'খাল খনন কর্মসূচি-২০২৬'-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী আজ রোববার (১৫ মার্চ) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বিএনপির ইশতেহার অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে দেশব্যাপী ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন ও পুনঃখননের যে মহাপরিকল্পনা ছিল, এটি তারই অংশ। এটি দলটির 'দেশ গড়ার পরিকল্পনা' বা রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতের রূপরেখার অন্যতম একটি পদক্ষেপ।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সকাল সোয়া ১০টায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিমানযোগে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে পৌঁছাবেন। এরপর সড়কপথে দিনাজপুর জেলার কাহারোল উপজেলার বলরামপুরে যাবেন। সেখানে বেলা ১১টা ৪৫ মিনিটে ১২ কিলোমিটার দীর্ঘ 'সাহাপাড়া খাল' পুনঃখনন কাজের উদ্বোধনের মাধ্যমে দেশব্যাপী ৫৩টি খালের খনন কর্মসূচির সূচনা করবেন তিনি। দুপুর সাড়ে ১২টায় একই স্থানে আয়োজিত এক জনসভায় বক্তব্য রাখবেন প্রধানমন্ত্রী।
বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে দিনাজপুর পৌরসভার উপশহরের শেখ ফরিদ মডেল কবরস্থানে তার নানা-নানি ও খালার কবর জিয়ারত। এরপর বিকেল ৫টায় দিনাজপুর সার্কিট হাউস চত্বরে আয়োজিত সুধী সমাবেশ ও ইফতার মাহফিলে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ১৯৭৭ সালে গৃহীত 'সবুজ বিপ্লব'-এর অংশ হিসেবে খনন করা অনেক খাল এখন ভরাট অবস্থায় রয়েছে। সেসব খাল উদ্ধার ও পুনঃখননের মাধ্যমে সেচব্যবস্থা উন্নয়ন, মাছ চাষ ও হাঁস পালনসহ খালনির্ভর গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা এই মেগা প্রকল্পের লক্ষ্য।
গত শুক্রবার প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন শেষে মন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, "সাহাপাড়ার প্রায় ১২ কিলোমিটার দীর্ঘ এই খাল খননের ফলে সরাসরি প্রায় সাড়ে তিন লাখ মানুষ উপকৃত হবেন। এতে অতিরিক্ত বন্যা থেকে সুরক্ষা মিলবে এবং শুষ্ক মৌসুমে সেচের সুবিধা পাওয়া যাবে।" পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এবং বিএডিসির সমন্বয়ে এই কর্মসূচি বাস্তবায়িত হবে। খালের পাড় রক্ষা, বাঁধ নির্মাণ ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিও এতে অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
উল্লেখ্য, ১৯৭৭ সালে গ্রামীণ অর্থনীতি পুনরুজ্জীবিত করতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান প্রায় ৩ হাজার ৬৩৬ মাইল খাল খনন করেছিলেন, যা তৎকালীন কৃষি উৎপাদনে যুগান্তকারী পরিবর্তন এনেছিল। বর্তমান সরকার সেই ধারাবাহিকতায় মৃতপ্রায় ও ভরাট হওয়া খালগুলো পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে কৃষিজমিতে সেচ সুবিধা বৃদ্ধি এবং জলাবদ্ধতা নিরসনে কাজ করছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই উদ্যোগ স্থানীয় পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন গতি সঞ্চার করবে।
প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে দিনাজপুর জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। পুরো জেলা জুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে দিনাজপুরের সর্বস্তরের মানুষের পাশাপাশি বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে।
