প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আইএমএফ পরিচালকের সৌজন্য সাক্ষাৎ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) এশিয়া ও প্যাসিফিক বিভাগের পরিচালক কৃষ্ণ শ্রীনিবাসন।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) ঢাকায় বাংলাদেশ সচিবালয়ে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকে দেওয়া এক পোস্টে এই সাক্ষাতের বিষয়টি জানানো হয়েছে।
সভায় আইএমএফের স্থগিত থাকা ঋণ চুক্তির বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা মনে করছেন, আইএমএফের সঙ্গে আলোচনা ফলপ্রসূ হলে এবং বিএনপি সরকার একমত হওয়া শর্ত বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিলে বাংলাদেশ জুনের মধ্যে ডিসেম্বরের বাকি থাকা কিস্তিসহ ঋণের ১.৩০ বিলিয়ন ডলার পাবে।
ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে জ্বালানি তেল আমদানি করতে বাংলাদেশ আইএমএফ, বিশ্বব্যাংকসহ বিভিন্ন সংস্থা থেকে অতিরিক্ত ২ বিলিয়ন ডলার ঋণ সহায়তা চেয়েছে বলে সম্প্রতি জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রাশেদ আল তিতুমীর। এই সময়ে আইএমএফেরর ঋণের কিস্তি পাওয়ার বিষয়টি সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে।
গত ২৩ ফেব্রুয়ারির এক চিঠিতে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) বলেছে, শীঘ্রই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে বসতে চলেছে আইএমএফ। তাদের কর্মসূচির আওতায় দেশে কী কী সংস্কারমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং তা কতটা সফল, মূলত সেই বিষয়গুলো নিয়েই আলোচনা হবে। পাশাপাশি নতুন সরকারের সঙ্গে আগামী দিনেও ধারাবাহিকভাবে সহযোগিতা বজায় রাখার বার্তা দিতে চায় আইএমএফ।
তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অর্থ মন্ত্রকের একজন সিনই কর্মকর্তা বলেন, রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রাসহ আইএমএফের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ শর্ত এখনও পূরণ করা সম্ভব হয়নি।
এর পাশাপাশি অমীমাংসিত কাজের তালিকায় রয়েছে আরও কিছু বিষয়। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) পুনর্গঠন, বাংলাদেশ ব্যাংককে আরও বেশি স্বাধীনতা দেওয়া এবং বিদেশি মুদ্রার ক্ষেত্রে পুরোপুরি বাজারভিত্তিক বিনিময় হার চালু করা।
করোনা মহামারি ও ইউক্রেন যুদ্ধের জেরে বিশ্বজুড়ে চরম অর্থনৈতিক সংকট তৈরি হয়েছিল। সেই প্রেক্ষাপটে গত ২০২৩ সালের ৩০ জানুয়ারি আইএমএফের সঙ্গে ৪.৭০ বিলিয়ন ডলারের ঋণ চুক্তিতে সই করে বাংলাদেশ।
এই চুক্তির আওতায় রাজস্ব ব্যবস্থায় সংস্কার, বাঙ্কিঙ্ক অবকাঠামোর পুনর্গঠন ও সরকারি ভর্তুকি কমানোর মতো একাধিক শর্ত রাখা হয়েছিল। পরে গত বছরের জুনে এই কর্মসূচির মেয়াদ আরও ছয় মাস বাড়ানো হয়। সেইসঙ্গে বাড়তি ৮০০ মিলিয়ন ডলার অনুমোদন করে আইএমএফ। ফলে মোট ঋণের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়ায় ৫.৫ বিলিয়ন ডলার।
এখনও পর্যন্ত পাঁচটি কিস্তিতে মোট ৩.৬৪ বিলিয়ন ডলার পেয়েছে বাংলাদেশ। এর মধ্যে ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে ৪৭৬.৩ মিলিয়ন ডলার, ওই বছরের ডিসেম্বরে ৬৮১ মিলিয়ন ডলার, ২০২৪ সালের জুনে ১.১৫ বিলিয়ন ডলার ও ২০২৫ সালের জুনে ১.৩৩ বিলিয়ন ডলার পাওয়া গেছে। অর্থাৎ এখনও ১.৮৬ বিলিয়ন ডলারের ঋণ পাওয়া বাকি।
গত ডিসেম্বরেই আইএমএফের আর একটি কিস্তির টাকা দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে আলোচনার পরেই তা ছাড় করা হবে বলে ঋণপ্রদান স্থগিত রাখা হয়।
গত অক্টোবরে ওয়াশিংটনে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক বৈঠক বসে। সেখানে তৎকালীন অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ ও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুরকে আইএমএফের পক্ষ থেকে বলা হয়, নির্বাচিত প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনার পর পরবর্তী কিস্তির টাকা দেওয়া হবে।
আইএমএফের ঋণপ্রদান স্থগিত রাখার সিদ্ধান্তের পর গত নভেম্বরে সালেহউদ্দিন জানিয়েছিলেন, নির্বাচিত সরকার ঠিক কতটা আর্থিক সহায়তা চাইতে পারে, তা নিয়েও সংস্থাটি সঙ্গে আলোচনা করবে।
